ঢাকা, , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে যুবসমাজের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে যুবসমাজের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে

সিরডাপে অনুষ্ঠিত হয় দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে তরুণসমাজের করণীয় শীর্ষক অনুষ্ঠান। ছবি: প্রথম আলো


সিরডাপে অনুষ্ঠিত হয় দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে তরুণসমাজের করণীয় শীর্ষক অনুষ্ঠান। ছবি:


বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতেও আছে দেশটি। দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ যুবক, যাদের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৭৬ লাখ। ঢাকায় আছে এর ২৫ শতাংশ যুবক আর বাকি ৭৫ শতাংশ থাকে ঢাকার বাইরে। তারাই সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত। তারাই আবার ভূমিকা রাখতে পারে দুর্যোগ মোকাবিলায়।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রায় দেড় শ যুবকের অংশগ্রহণে ব্র্যাক হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রাম ‘দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে তরুণসমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

দুর্যোগে তরুণেরা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে এবং সরকারকে সাহায্য করতে পারে, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে। দেশের প্রতিটি স্তরে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে যুবসমাজের নেতৃত্ব প্রচারের লক্ষ্যে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, প্রাসঙ্গিক বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে এক কাতারে আনাই ছিল এর লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিন এ এস এম মাকসুদ কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক মহসিন উল হাকিম, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রাশেদ উদ্দিন আহমেদ তপু। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রামের পরিচালক সাজেদুল হাসান।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে তরুণসমাজের যে আন্দোলন, সেটা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে কিছু এজেন্সি তরুণ প্রতিভাকে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস টেকসই পরিবর্তন এবং নিজেদের কমিউনিটিতে এ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে অভূতপূর্ব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তরুণেরা দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। তরুণদের কথা শুনে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেন অতিথিরা। কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর কায়সার রিজভি বলেন, ‘আমাদের যুবসমাজকে আরও চাঙা রাখতে, তাদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করতে চাইলে একটা অ্যাকশন প্ল্যান প্রয়োজন।’ ইউএনডিপির ইউএন ভলান্টিয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ আকতার উদ্দিন বলেছেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের স্বেচ্ছায় যোগদান করতে হবে। তরুণদের এই মহৎ কাজে তাদের সুরক্ষা প্রদান করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের দেশে স্বেচ্ছাসেবকদের একটা পলিসি থাকা উচিত।’

যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মহসিন উল হাকিম বলেন, দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে হলে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবেই। কারণ, একমাত্র তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকেই মিলবে নতুন নতুন পরিকল্পনা।

এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, তরুণ প্রজন্মকে কখনোই দমিয়ে রাখা যায় না। ওদের দ্রুতগতি ওদের সম্পদ। এই গতি যত বৃদ্ধি পাবে, তরুণ প্রজন্ম তত এগিয়ে যাবে। এই গতি ওদের মধ্যে আসে জ্ঞানের সাহায্যে। জ্ঞান বৃদ্ধি পেলে গতি আরও বৃদ্ধি পাবে। তরুণ প্রজন্মের ওপর ভরসা বলেই আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগের ঝুঁকি বাংলাদেশে আজীবন থেকেই যাবে। তরুণ প্রজন্ম দুর্যোগ থামাতে পারবে না, তবে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পারবে অবশ্যই। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন এবং তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রাশেদ উদ্দিন আহমেদ তপু। তিনি বলেন, গানের মাধ্যমে সব সময় তিনি সবার হৃদয় ছুঁয়ে থাকেন। কিন্তু এই তরুণ প্রজন্ম চাইলে পুরো বিশ্বের হৃদয় ছুঁতে পারবেন, যদি তাঁরা তাঁদের কর্তব্য পালন করেন।

অনুষ্ঠান শেষ হয় ব্র্যাক হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রামের ডিরেক্টর সাজেদুল হাসানের বক্তব্যে। তিনি যুবকদের দুর্যোগে ঝুঁকি হ্রাসে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের সময় সবার অংশগ্রহণ একান্ত কাম্য। দুর্যোগের সময় তরুণদের কার্যক্রম কী কী হতে পারে, তা যে–কেউ আলাদা করে নিতে পারেন। ব্র্যাক, সরকার, আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো যদি ছাত্রছাত্রীদের হাতে–কলমে এই শিক্ষাগুলো দেয়, তাহলে দুর্যোগের ঝুঁকি কমে আসবে অনেক। তাই এই ইভেন্ট যুবসমাজ তথা সমাজের সবার মনের কথার সংক্ষিপ্তসার। এই অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া শিক্ষণীয় প্রতিবেদন জাতীয় ও বিশ্বব্যাপী বৃহত্তর মানবিক স্বার্থে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ - জাতীয়