, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীকে ভবদহ পরিদর্শনের আহ্বান যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীদের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

প্রধানমন্ত্রীকে ভবদহ পরিদর্শনের আহ্বান যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যশোরের দুঃখখ্যাত জলাবদ্ধ ভবদহ এলাকা পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। একই সাথে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (৪ অক্টোবর ) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়নে সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা প্রশাসক (ডিসি) তমিজুল ইসলাম খানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন জোটের নেতৃবৃন্দ।

পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে পরিকল্পিত জোয়ারাধার (টিআরএম) বাস্তবায়ন, আমডাঙ্গা খালসহ অন্যান্য খাল সংস্কার, প্রশস্তকরণ ও খাল-বিল অবৈধ দখলমুক্তকরণ, ভবদহ এলাকার বর্তমান রোগব্যাধি দুর করার জন্য ৩টি উপজেলায় ৩টি মেডিকেল টিম গঠন করে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালু, বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ এবং সাপের উৎপাত থেকে মানুষ ও প্রাণিকূলকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

লিখিত বক্তব্যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, বিগত ৪ দশক ধরে যশোর ও খুলনা জেলার ৫টি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ ভবদহের অভিশাপে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুই-তিন ফসলি জমি পানিতে ডুবে থাকায় মানুষের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। মাসাধিককাল পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার প্রায় ৮০টি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে। এসব গ্রামের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে। শিশু-কিশোররা নিয়মিত পানি ভেঙে বাড়ি থেকে বের হয়ে আবার পানি ডিঙিয়েই স্কুলে যাচ্ছে। একইভাবে বাড়ি ফিরছে। 

এভাবে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতেই ৪বার পানিতে শরীর ভেজায় শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা সর্দি-জ্বর, কাশি, চর্মরোগ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। একই অবস্থা কৃষকসহ সাধারণ মানুষের। বরাবরের মতো এখানকার মানুষ ও প্রাণিকূল একইসাথে অবস্থান করছে। বাসাবাড়ির জন্য খাবার পানির উৎস টিউবয়েল পানির তলে চলে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট তীব্র। টয়লেট না থাকায় শিশু-নারী-বৃদ্ধ-পুরুষ সবাই দুর্দশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। পানির চাপ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

তিনি আরো বলেন, ৩ অক্টোবর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর ও অভয়নগর উপজেলার নেতৃবৃন্দ জলাবদ্ধ ভবদহ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা সুন্দলী, ডহর মশিহাটি ও ডাঙ্গা মশিহাটি এলাকার সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন। সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে তারা স্পষ্টতই মনে করেন ভবদহের সমস্যা নিরসনে প্রধানত দুটি সমস্যা রয়েছে। প্রথমত ভুল পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয়ত বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়া।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যর্থতার কারণেই জোয়ারাধার বা টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বাস্তবায়ন করা যায়নি। জনমতকে উপেক্ষা করে টিআরএম বাস্তবায়ন না করে বছর বছর বাণিজ্য করার কৌশলের ফর্মূলাকে বেছে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এলাকার মানুষ বিশ্বাস করে এসব এলাকায় জনদরদি একজন জনপ্রতিনিধিও নেই যিনি জনস্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। 

কার্যত ভবদহ সমস্যাকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গোছানো ছাড়া আর কোনো এজেন্ডাই যেন নেই পাউবো কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সত্যিকার অর্থে সহযোগিতা করতে চান, ক্ষমতাসীন দলের এমন দু-একজন নেতা যারা আছেন, তাদের খণ্ঠও মিলিয়ে যায় দাপুটে নেতাদের তোড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সাধারণ মানুষের ধারণা ভবদহ এলাকার মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে যা করা হচ্ছে, তা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রহসনের এ নাটক মঞ্চায়ন বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই বলে আমরা মনে করি। আর জেলার জনপ্রতিনিধি বা পউবো কর্মকর্তাদের দ্বারা এ সমস্যার সমাধান হতে পারে, এমন বিশ্বাস এলাকাবাসীর নেই। এলাকাবাসী বিশ্বাস করে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ম্যাজিক’ ফর্মূলাই পরিবর্তন আনতে পারে ভবদহের দুঃখগাথা লাঘবে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলা শাখার সভাপতি সুকুমার দাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর জেলা শাখার সহসভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, কোষাধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, অভয়নগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সুনীল কুমার দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী ইকবাল কবীর, জি এম মেহেদী হাসান কাদের, সদস্য সচিব জিএম মনিরুজ্জামান মণি, সদস্য তরিকুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজেদ রহমান বকুল প্রমুখ।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ