, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

সাম্প্রদায়িক উস্কানি বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

সাম্প্রদায়িক উস্কানি বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা হয়েছে। আমাদের সরকার এটিকে কঠোর হস্তে দমন করেছে। ভবিষ্যতেও কেউ যদি উস্কানি দেয়, তা দমন করতে বদ্ধপরিকর সরকার।

শনিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চেক ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ স্থাপিত হয়েছে, এটিকে নষ্ট করার জন্য মাঝেমধ্যে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়। সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য ব্যবহার করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ স্থাপন হয়েছে, এটি অনেক দেশের জন্য উদাহরণ। পাকিস্তান রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার মূল কারণ হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্র ব্যবস্থা সাম্প্রদায়িক। এ সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে শত্রু হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেই সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র রচনা করার জন্যই আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যুদ্ধ করে সবার মিলিত রক্ত স্রোতের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার, এই চেতনা নিয়েই বাংলাদেশে বাঙালিরা মিলেমিশে বসবাস করছি। সে জন্য আমাদের দেশে যখন ঈদ উৎসব হয়, সেই উৎসবের আনন্দ শুধু মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, সেই আনন্দ সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। একইভাবে যখন বাংলাদেশে পূজা উৎসব হয়, তখন সেই আনন্দ শুধুমাত্র হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, সেই আনন্দ সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, দেশে একটি পক্ষ আছে, যারা মনে করে তাদের প্রথম পরিচয় হচ্ছে ধর্মীয় পরিচয়। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, আমাদের প্রথম পরিচয় হচ্ছে আমরা বাঙালি এবং দ্বিতীয় পরিচয় হচ্ছে কে কোন ধর্মের মানুষ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপিসহ তাদের মিত্র কিছু রাজনৈতিক দল আছে, যারা মনে করে তাদের প্রথম পরিচয় তারা কে কোন ধর্মের অনুসারী। দ্বিতীয় পরিচয় হচ্ছে তারা কি বাংলাদেশি না বাঙালি, এই নিয়ে তারা দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকেন। এটিই হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমাদের মৌলিক পার্থক্য।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি উত্তম কুমার শর্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী (উপ-সচিব) হিল্লোল বিশ্বাস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত প্রমুখ।

  • সর্বশেষ - জাতীয়