, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি

করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নজর দেওয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সেশন পরিচালনায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে ব্র‍্যাকসহ ১৯টি দেশি-বিদেশি সংস্থা।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এই ১৯ সংস্থার সম্মিলিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বক্তারা।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রম থেকে শিশুদের পিছিয়ে পড়া, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বেড়ে যাওয়া, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে প্রান্তিক শিশুরা শতভাগ অংশগ্রহণ করতে না পারায় শিশুদের মনস্তত্ত্বের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

মোবাইল আসক্তি থেকে শিশুদের ফেরানো খুব বড় চ্যালেঞ্জ নয় মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, আগে প্রয়োজন স্কুলে ফেরা। তাই করোনার কারণে মানসিকভাবে ও শিক্ষাক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শিশুদের সমস্যা উত্তরণে ও ঝরে পড়াদের ফিরিয়ে আনতে ‘নিরাপদ ইশকুলে ফিরি’ ক্যাম্পেইন নিয়ে কাজ করছে ১৯টি দেশি-বিদেশি সংস্থা।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, প্রায় ১৮ মাস পর সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে সরকার, যা একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে শিশুদের স্কুলে ফেরাকে নিরাপদ করা, যাতে করে তারা কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থেকে নিয়মিতভাবে আগের মতো লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে।

বক্তারা জানান, যোগাযোগের ভাষায় এই ক্যাম্পেইনটি ‘৩৬০ ডিগ্রি এডুটেইনমেন্ট বা আনন্দের সাথে শিক্ষা ক্যাম্পেইন’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে যে কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হচ্ছে সেগুলো হলো- স্কুল এবং কর্ম এলাকায় পোস্টার, স্টিকার, লিফলেট বিতরণ। স্থানীয় পর্যায়ে রেডিও অনুষ্ঠান, গণনাটক, শিশু থিয়েটারের আয়োজন করা। এলাকাভিত্তিক মাইকিং রিকশা ও অটোরিকশা পেইন্টের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানো। মোবাইলে ভয়েস এসএমএসের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানো। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা।

এই ক্যাম্পেইনে যেসব সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে তারা হলো- ব্র্যাক, গণসাক্ষরতা অভিযান, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, এডুকো বাংলাদেশ, এফআইভিডিবি, ফ্রেন্ডশিপ, হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ, হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, রুম টু রিড বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ, সাইটসেভারস বাংলাদেশ, সিসেনি ওয়ার্কশপ বাংলাদেশ, স্ট্রমি ফাউন্ডেশন, টিচ ফর বাংলাদেশ, ডিএসও, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং ইপসা।

উল্লেখ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হলে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার সরকারি উদ্যোগকে সফল করতে এবং শিশুদের নিরাপদে মূল ধারার শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত ১০ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ ইশকুলে ফিরি ক্যাম্পেইনটির উদ্বোধন করেন। এর পর থেকেই সংস্থাগুলো ক্যাম্পেইন নিয়ে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- দেবাশীষ রঞ্জন সরকার (কমিউনিকেশন ম্যানেজার, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ), মিজানুর রহমান (কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর, স্ট্রোম ফাউন্ডেশন), টনি মাইকেল গোমস (ডিরেক্টর-কমিউনিকেশনস-অ্যাডভোকেসি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ), গোলাম কর্তা (হেড অব এডুকেশন, কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স এডুকো বাংলাদেশ), সামিয়া আহমেদ (সিনিয়র ম্যানেজার-অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড ক্যাম্পেইন, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ), নুসরাত আমিন (সিনিয়র ম্যানেজার-মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস, সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ), অন্ন ভ্যান ম্যানেন (কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ)।

  • সর্বশেষ - জাতীয়