, ১৪ মাঘ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

নওগাঁয় দিগন্তজুড়ে সোনালি আভা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

নওগাঁয় দিগন্তজুড়ে সোনালি আভা

ধান-চাল উৎপাদনে উত্তরের জেলা নওগাঁ। চলতি আমন মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা। ইতোমধ্যে ফসলের মাঠে ধানে সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়েছে। আর কিছু দিনের মধ্যে ঘরে উঠবে ধান। পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক আমন ধান চাষের পরিমাণ নওগাঁ সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৯২০ হেক্টর, ধামইরহাটে ২০ হাজার ৩২০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২৮ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমি।

এছাড়া পত্নীতলায় ২৭ হাজার ২০০ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ২৯ হাজার ৯০৫ হেক্টর, বদলগাছীতে ১৪ হাজার ৩২৫ হেক্টর, রানীনগরে ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৬ হাজার ৭০০ হেক্টর, সাপাহারে ৯ হাজার ৮০০ হেক্টর, পোরশায় ১৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর এবং মান্দায় ১৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমি।

চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান আবাদের জাতভিত্তিক চূড়ান্ত প্রতিবেদন করে স্থানীয় ২৬ হাজার ২৮৫ হেক্টর। উফশী জাতের ধান ১ লাখ ৭০ হাজার ১১০ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ৭১৫ হেক্টর জমি।

মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের কুশলবাড়ি গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান নয়ন ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ মৌসুমে মোটা ধান ১৩ বিঘা ও চিকন ধান ১২ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বন্যা দুর্যোগ না হাওয়াই ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

একই গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী ঢাকা পোস্টকে জানান, তিন বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছি। আমনের আবাদে বড় সুবিধা সেচ খরচ কম লাগে। মোটা জাতের ধানের জন্য বৃষ্টি না হলে একবার সেচ আর চিকন জাতের ধানে দুইবার সেচ দিলেই হয়। এতে আমাদের কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে খরচ আসে বিঘাপ্রতি সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। মাঠে মাঠে দু-একজন করে ধান কাটা শুরু করেছে। আমি এখনো কাটতে পারিনি।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. সামছুল ওয়াদুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর বন্যা ও দুর্যোগের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হওয়াই সব ধরনের ফসল খুব ভালো হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৫ হেক্টর বেশি পরিমাণ জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ