, ১৪ মাঘ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে

বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে বিব্রত করার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক হামলার কয়েকটি ঘটনাকে কিছু সংগঠন উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার করছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কতিপয় সংগঠন রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, ধিক্কার মিছিলের নামে পরিকল্পিতভাবে দেশ বিরোধী কর্মসূচি পালন করেছে। এসব সংগঠনের এ ধরনের কার্যক্রম হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তর কল্যাণের বদলে দেশকে বিশ্ব দরবারে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরছে।

লিখিত বক্তব্যে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলার পরপর সরকার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, ক্ষতিগ্রস্ত মঠ-মন্দির সংস্কার ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু তারপরও রাজপথে আন্দোলন উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এতে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে শক্তিশালী করার বদলে সংখ্যালঘু পরিস্থিতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপপ্রয়াস চালছে।

সুনির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের নামে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে কিনা সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব বলেন, কয়েকটি নামসর্বস্ব সংগঠন এ ধরনের অপপ্রচারের কাজ করছে। তারা বহির্বিশ্বে এমন পরিস্থিতি দেখিয়ে সুবিধা নিতে চায়। ব্যবসা করতে চায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে রাষ্ট্রের মুখপাত্র হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার মন্ত্রণালয় কৌশলগত বক্তব্য রেখেছেন। বিভিন্ন সংগঠন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে যৌক্তিক বিরোধিতার বদলে অশালীন ও অশোভন বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে পরিকল্পিতভাবে সংবাদ সম্মেলন, ধিক্কার মিছিল আয়োজন করেছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।

মহাজোট নেতা বলেন, দেশের কল্যাণে নিয়োজিত সকল সংগঠন দেশে ও দেশের বাহিরে তাদের কর্মসূচি নির্ধারণ ও পালনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করবে। বাংলাদেশ একটি পবিত্র ভূমি। আমরা এ দেশ ছেড়ে চলে যেতে চাই না। হিন্দু ধর্ম অনিয়মতান্ত্রিক ও বিশৃঙ্খলভাবে কোনো দাবি আদায়ের শিক্ষা দেয় না। বরং সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির মাধ্যমে বসবাসের শিক্ষা দেয়।

তিনি বলেন, আজ যারা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে সহিংস দেশ হিসেবে উপস্থাপন করছে, তারা হিন্দু ধর্মের চেতনা বিরোধী। দেশের অভ্যন্তরীণ কোন ঘটনা বিশ্ব দরবারে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কোনো সমাধান নয়। বরং নিজের দেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানে নিজেদের বিনাশ তরান্বিত করা।

  • সর্বশেষ - জাতীয়