, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

শাদাবের দুর্দান্ত ক্যাচে শান্তর বিদায়

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

শাদাবের দুর্দান্ত ক্যাচে শান্তর বিদায়

শুরু থেকেই বিপদ সামাল দিয়ে ইতিবাচক ব্যাটিং করছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আফিফ হোসেন ধ্রুবকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে গড়েছিলেন প্রতিরোধ। আফিফ আউট হয়ে গেলেও শান্ত খেলছিলেন দলের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে।

কিন্তু এ তরুণ বাঁহাতির সম্ভাবনাময় ইনিংসটি বেশি বড় হতে দিলেন না পাকিস্তানের লেগস্পিনার শাদাব খান। দুর্দান্ত ফিরতি ক্যাচে শান্তকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৩৪ বল খেলে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৪০ রান করেছেন শান্ত।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৮৩ রান। উইকেটে দুই নতুন ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান ও শেখ মেহেদি হাসান।

প্রথম ম্যাচের মতো আজও টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অন্তত টপঅর্ডারে প্রমাণ হয়নি তার সিদ্ধান্তের যথার্থতা। কেননা ইনিংসের প্রথম দুই ওভারেই সাজঘরের পথ ধরেছেন দুই ওপেনার।

শাহিন শাহ আফ্রিদির করা প্রথম ওভারের তিন বল ডট খেলে, পরেরটিতে সিঙ্গেল নিয়েছিলেন নাইম শেখ। লেগস্ট্যাম্পের ওপর করা চার নম্বর ডেলিভারিতে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন আরেক ওপেনার সাইফ।

আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। তবে রিভিউ নিয়ে প্রথম সাফল্যের দেখা পায় পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে নিজের অভিষেকে ৮ বল খেলে ১ রান করতে পেরেছিলেন সাইফ। আজ ফিরেছেন প্রথম বলেই।

সাইফ আউট হওয়ার পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি নাইমও। তিনি সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ ওয়াসিমের করা দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ প্র্যাকটিস করিয়ে আউট হওয়ার আগে ২ রান করেন নাইম।

দুই ওভারে দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর তৃতীয় ওভারটি ছিল বেশ ঘটনাবহুল। চার নম্বরে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নিজের মুখোমুখি প্রথম বলেই ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা মেরেছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। সেটি হয়তো পছন্দ হয়নি পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার শাহিনের।

ঠিক পরের বলে আলতো স্ট্রেইট ড্রাইভ করেন আফিফ। ফলো থ্রু-তে সেই বলটি ধরেই আফিফের গায়ে ছুঁয়ে মারেন শাহিন। যা আঘাত করে আফিফের পায়ের অরক্ষিত অংশে।

টিভি রিপ্লে'তে দেখা গেছে, শাহিন থ্রো করার আগে পপিং ক্রিজের ভেতরেই ছিলেন আফিফ। তার মধ্যে রান নেওয়ার কোনো ইচ্ছাও ছিল না। পুরোপুরি অযথাই সেই থ্রো-টি করেছেন শাহিন।

শাহিনের থ্রো-টি পায়ের অরক্ষিত অংশে লাগার সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে শুয়ে পড়েন আফিফ। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করছেন তিনি। মাটিতে পড়ে থাকা আফিফকে তুলতে এগিয়ে যান শাহিন নিজেও।

পরে দলের ফিজিও হুলিয়ান ক্যালেফেতো মাঠে এসে প্রাথমিক সেবা দেন আফিফকে। ব্যথানাশক স্প্রে করার পর উঠে দাঁড়ান চার নম্বরে নামা এ বাঁহাতি তরুণ ব্যাটার।

ঠিক পরের বলটিই আবার হয় বাউন্ডারি, তবে এবার লেগ বাই থেকে ৪ রান পায় বাংলাদেশ। সেই ওভার থেকে আসে সবমিলিয়ে ১২ রান। তিন ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৭ রান।

ঘটনাবহুল এই ওভারের পর পাওয়ার প্লে'র বাকি সময়টা ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই। পরের তিন ওভারে বাংলাদেশ পায় আরও ১৯ রান। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি আফিফ ও শান্ত। ইনিংসের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ওভারে আসে একটি করে বাউন্ডারি।

পাওয়ার প্লে শেষে প্রথমবারের মতো আক্রমণে আনা হয় লেগস্পিনার শাদাব খানকে। তাকে দেখেশুনে খেলে ৬ রান নেন উইকেটে থাকা বাঁহাতি। শোয়েব মালিকের করা পরের ওভারে আরও এক চারের মারে আসে ৯ রান, যার সুবাদে পূরণ হয় দলীয় ফিফটি।

কিন্তু ঠিক পরের ওভারেই আউট হওয়ার জন্য যেন আত্মঘাতী পথ বেছে নেন আফিফ। শাদাবের স্ট্যাম্পের ওপর করা ডেলিভারি আগেই রিভার্স প্যাডেলের জন্য ব্যাট দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। খানিক ধীরে আসা সেই বল লাগে আফিফের ব্যাটের কানায়।

যার ফলে খানিক হাওয়ায় ভেসে সেটি জমা পড়ে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিশ্বস্ত গ্লাভসে, বিদায়ঘণ্টা বাজে আফিফের ২০ রানের ইনিংসের। একই ওভারে স্কুপ করতে গিয়ে প্যাডে লেগেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। আউটও দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বাঁচেন টাইগার অধিনায়ক।

অবশ্য সে যাত্রায় বাঁচলেও একবারের জন্যও সাবলীল মনে হয়নি মাহমুদউল্লাহকে। বেশ কয়েকবার অল্পের জন্য বেঁচে যান। শেষ পর্যন্ত হারিস রউফের করা ১৩তম ওভারে অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল খোঁচা মেরে আউট হন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ১২ রান।

অধিনায়ক ফিরে গেলেও আশার প্রদীপ হয়ে ছিলেন তিন নম্বরে নামা নাজমুল শান্ত। ততক্ষণে পাঁচ চারের মারে ৪০ রান করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর আর বাড়েনি শান্তর সংগ্রহ। শাদাবের করা ১৪তম ওভারে দারুণ এক ক্যাচের শিকার হয়েছেন তিনি।

লেগ স্ট্যাম্পের ওপর পিচ করা ডেলিভারি আলতো করে অনসাইডে খেলতে চেয়েছিলেন শান্ত। কিন্তু সেটি লাগে তার ব্যাটের সামনের কানায়। নিজের বাম দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ তালুবন্দী করেন শাদাব। ফলে শেষ হয়ে যায় শান্তর ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির সম্ভাবনা।

  • সর্বশেষ - খেলাধুলা