, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

মায়ের বকাঝকার প্রতিশোধ নিতে কন্যাশিশুকে ধর্ষণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

মায়ের বকাঝকার প্রতিশোধ নিতে কন্যাশিশুকে ধর্ষণ

বন্ধুদের নিয়ে কলোনির গলিতে আগুন জ্বালায় যুবক মো. কাউসার (২২)। আর সেই আগুনে পুড়ে পায়ে ফোসকা পড়ে প্রতিবেশী রাহেলা বেগমের (ছদ্মনাম) পাঁচ বছরের কন্যার। বিষয়টি জেনে কাউসারকে বকাঝকা করেন রাহেলা। তাতেই ক্ষুব্ধ হন কাউসার। প্রতিশোধ নিতে ঘটনার কয়েকদিন পর রাহেলার সেই কন্যাশিশুকে ধর্ষণ করেন কাউসার। ঘটনা প্রকাশ না করতে ভুক্তভোগী শিশুকে একটি চিপসের প্যাকেট হাতে ধরিয়ে দেন। তবে রাহেলা বাসায় এসে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেন। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী শিশু জানায় ঘটনার কথা।

নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ থানার শান্তিনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবক কাউসারকে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী কন্যাশিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে কাউসারকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার কাউসার এবং ভুক্তভোগীরা একই এলাকার পাশাপাশি বাসায় থাকেন। কন্যাশিশুর পায়ে ফোসকা পড়া এবং বকাঝকার ঘটনাটি আনুমানিক ১৫ দিন আগের। ঘটনাটি ঘটার পর প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পনা করেন কাউসার।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো ভুক্তভোগী শিশুর মা পোশাক কারখানায় এবং বাবা নির্মাণ কাজে চলে যান। বাসা পাশে হওয়ায় মা-বাবার অনুপস্থিতিতে শিশুটিকে দেখাশোনা করেন তার নানী। এদিকে বুধবার দুপুরের টিফিন ছুটিতে মা বাসায় এসে তার শিশুকে সুস্থ অবস্থায় দেখে যান। কিন্তু বিকেলে হঠাৎ ভুক্তভোগীর নানীর ফোন পেয়ে বাসায় ফেরেন। ফিরে দেখেন তার শিশু রক্তাক্ত অবস্থায়।

এরপর ওই শিশুকে গোসল করানো হয়। তাতেও থামে না রক্তপাত। পরে শিশুটিকে জিজ্ঞাসা করা হলে, একপর্যায়ে সে তার মাকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর মা সবাইকে খবর দিয়ে দ্রুত মেয়েকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনা শুনে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কাউসারকে গ্রেফতার করে।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের পায়ে ফোসকা পড়ায় আমি কাউসারকে বকাঝকা করেছিলাম। তখন তিনি আমাদের দেখে নেবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন। বুধবার আমার মেয়ের সঙ্গে এই ঘটনা করেছে। আমি তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে একমাত্র আসামি কাউসারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কাউসারকে আজ (বৃহস্পতিবার) আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • সর্বশেষ - জাতীয়