, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

দরপত্র আহ্বানেই শেষ হতে চলেছে ২১ রেল ইঞ্জিন সংস্কার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

দরপত্র আহ্বানেই শেষ হতে চলেছে ২১ রেল ইঞ্জিন সংস্কার

বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে ১৯১টি মিটারগেজ ও ৯২টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) রয়েছে। মেকানিক্যাল কোড অনুযায়ী এর মধ্যে ১৪০টি মিটারগেজ ও ৪৩টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল মেয়াদোত্তীর্ণ। ২০১৯ সালে ২১টি রেল ইঞ্জিন নবরূপায়ণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। অথচ সেই কাজ সম্পন্ন না করেই প্রকল্পের সমাপ্তি টানতে চলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের আওতায় বারবার টেন্ডার ডকুমেন্ট বিক্রি করা হলেও দরপত্র মেলেনি। দরদাতাদের ভাষ্য, কিছুসংখ্যক লোকোমোটিভের অবস্থা এতটাই নাজুক যে সেগুলো তাদের জন্য লাভজনক নয়। ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) যে ব্যয় ধরা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এসব কারণেই মূলত পাওয়া যায়নি দরদাতা। শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যাচ্ছে রেল ইঞ্জিন নবরূপায়ণের কাজ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, ২১ লোকোমোটিভ প্রকল্পের নবরূপায়ণের জন্য তিনবার দরপত্র আহবান করা হলেও কোনো দরদাতা পাওয়া যায়নি। রেল ইঞ্জিন নবরূপায়ণের (MECH/LM/21 MG Loco/Renovation) দরপত্রটি খোলার তারিখ পাঁচবার পরিবর্তন করে সংশোধন করা হয়। নতুন করে নির্ধারণ করা হয় দিন তারিখ। এতে ১৪টি টেন্ডার ডকুমেন্ট বিক্রি করা হয়েছিল। একমাত্র দরপত্র জমাদানকারী প্রতিষ্ঠানটি টেকনিক্যালি নন-রেসপনসিভ হওয়ায় পুনঃদরপত্রের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে বারবার দরপত্র আহ্বানেই শেষ হচ্ছে প্রকল্পটি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ‘২১টি এমজি (মিটার গেজ) ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ নবরূপায়ণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুন মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

সম্প্রতি রেলভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২১টি এমজি (মিটার গেজ) ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ নবরূপায়ণ’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) প্রথম সভা হয়। এতে কাজ শেষ না করেই প্রকল্প সমাপ্তির ঘোষণা দেন ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার। আলোচনার ভিত্তিতে মহাপরিচালক সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের সম্মতিক্রমে প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখে সমাপ্ত ঘোষণা করার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন। প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি) সভায় উপস্থাপনের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করার সুপারিশ করে। পিআইসি সভার কার্যবিবরণী পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

অসমাপ্ত রেখে প্রকল্পের সমাপ্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, এসব লোকোমোটিভ মেরামতের যন্ত্রপাতি পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, এসব লোকোমোটিভ ট্রেন পরিচালনায় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোকোমোটিভগুলো প্রধানত মেইন লাইনে চলাচল করতো। এই শ্রেণির লোকোমোটিভগুলোর বর্তমান কার্যক্ষমতা আশানুরূপ না হওয়ায় এর রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, লোকোমোটিভের মালামাল সংগ্রহ ও প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে রাজস্ব বাজেটের আওতায় লোকোমোটিভের ওভারহলিং (যন্ত্রপাতি দিয়ে মেরামত) করতে বিরাট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। এসব কারণেই মূলত থমকে যাচ্ছে প্রকল্পটি। বর্তমানে ট্রেন সংখ্যা বাড়ায় লোকোমোটিভের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকল্পে এই শ্রেণির (২৭০০ সিরিজ) লোকোমোটিভ নবরূপায়ণ একান্ত প্রয়োজন।

অসমাপ্ত রেখে প্রকল্প সমাপ্ত করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস এম সল্লিমুল্লাহ বাহার জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটা সভা হবে। সেই সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। তিনিই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তার আগে আমরা কিছু বলতে পারি না। এই সভায় সিদ্ধান্ত হবে প্রকল্পটি পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে না প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখে সমাপ্ত করা হবে।

  • সর্বশেষ - জাতীয়