, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

মসজিদ-মাদরাসার ফান্ড নিয়ে ‘দ্বন্দ্ব’, যুবক নিহত

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

মসজিদ-মাদরাসার ফান্ড নিয়ে ‘দ্বন্দ্ব’, যুবক নিহত

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এলাকার মসজিদ-মাদরাসার ফান্ড নিয়ে ‘দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তার’র জেরে হোসেন এলাহী (৪০) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় হোসেন এলাহীর ভাই মোমেন এলাহীও (৩৮) গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় আজ (শনিবার) বিকেল ৫টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত মির্জাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এমএইচ হাসেমসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসেমের আগে থেকে একটি মামলায় পরোয়ানা থাকায় তাকে আজ (শনিবার) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকিদের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মির্জাপুর ইউনিয়নের কালা বাদশাপাড়া এলাকার মসজিদ ও মাদরাসার ফান্ড নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ চলছিল। গতকাল (শুক্রবার) রাতে নিহত হোসেন ও আহত মোমেন বাড়ির পাশে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন। এসময় প্রতিপক্ষ একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মাদরাসা-মসজিদের ফান্ড নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এখনো মামলা হয়নি। তবে শিগগিরই দায়ের হবে।

বেপরোয়া যুবলীগ নেতা হাশেম

২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে নুরে এলাহী জুয়েল নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে মির্জাপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হাশেমের বিরুদ্ধে। ওই হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। জুয়েল হত্যাকাণ্ডের পর নানা অপকর্মের কারণে আলোচনায় থাকেন তিনি। এলাকায় তার নেতৃত্বে চলে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। সর্বশেষ হোসেন এলাহী হত্যার পর আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। এ হত্যাকাণ্ডে হাশেমের সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টিও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলেও জানায় পুলিশ।

এদিকে, আগের মামলায় পরোয়ানা থাকাকালেও হাশেম প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন। গত ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর তিনি হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশেদুল আলমের সঙ্গে ছিলেন বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জাগো নিউজকে জানিয়েছেন। এছাড়া হাশেম উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি উত্তর জেলা যুবলীগের সেক্রেটারি। সেই হিসেবে উত্তর জেলায় যুবলীগের সবাই আমার অনুসারী। রাশেদ আমাদের ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। এ হিসেবে সে আমার সঙ্গে থাকতেই পারে। আমি নিজে মাদক খুন-খারাবি এসব কাজে জড়িত না। এসব কাজে যারা জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করছি। রাশেদ যদি জড়িত থাকে তারও শাস্তি হোক।’

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাৎ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, নিহত হোসেনের পরিবার এখনো এজাহার দায়ের করেনি। এজাহারের পর আমরা হাশেমকে গ্রেফতার দেখাতে পারবো। তবে হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার পরপরই হাশেমকে আটক করা হয়েছে। আগে থেকে একটি মামলায় তার পরোয়ানা ছিল। ওই মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হোসেন হত্যাকাণ্ডে মামলা দায়ের হলে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে এবং রিমান্ড আবেদন করে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ