ময়মনসিংহ, , ২৮ আষাঢ় ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

হোম কোয়ারেন্টাইনে যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আমাদের গনমাধ্যম

হোম কোয়ারেন্টাইনে যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আমাদের গনমাধ্যম

করোনাভাইরাসের দাপটে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। স্থবির হয়ে পড়ছে বিশ্বগ্রাম। করোনা নিয়ন্ত্রনে আনতে কর্ম তৎপরতা মহা ব্যস্ত পুরো বিশ্ব। তবুও কারও জানা নেই কবে নাগাদ নিয়ন্ত্রনে আসবে এই করোনাভাইরাস আর নির্মূল তো অনেক দূরের কথা। 

করোনা করোনা করে নানান কথাবার্তার মধ্যেই করোনা তার থাবায় যোগ করে নিয়েছে আমাদের দেশটিকেও। কাউকে খুশি করতেই হোক কিংবা আমাদের স্বভাবগত রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যাক্তিগত কারণেই নানান কথা বললেও আমার করোনা প্রতিরোধে সাক্ষমতা কতটুকু তা সকলেরই জানা। দেশে করোনাভাইরাস ছড়ানোর পর লকডাউন করে রাখা হয়েছে একটি উপজেলা ও বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে উল্ল্যেখ সংখ্যাক ব্যাক্তিকে।

ছুটি ঘোষণা করাও হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যতটুকু সম্ভব তার মধ্যেও থাকতে বলা হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। হোম কোয়ারেন্টাইন বা সঙ্গরোধ সোজা বাংলায় বলতে গেলে 'বাসার বাইরে বের হওয়া যাবে না'। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নির্দেশনা এর আগে কখনও আসছিল কিনা তা আমার জানা নেই। কিন্তু আল্লাহ্ না করুক দেশে করোনার প্রকোপ যদি বৃদ্ধি পায় এটা (হোম কোয়ারেন্টাইন) ছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই।

বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি চীনে করোনার প্রকোপ হ্রাসের একমাত্র ঔষধ ছিল হোম কোয়ারেন্টাইন। কিন্তু বাংলাদেশের এত সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে কী হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা সম্ভব? সম্ভব খাদ্যের নিশ্চয়তা যদি মানুষ পায় তাহলে অবশ্যই মানুষ ঘরে ঢুকে পড়বে। তবে ঘরে কত দিন থাকতে পারবে এটা নিয়ে অনিশ্চয়তা সবার আছে। কারণ আমরা তো স্বভাবগত ও সামাজিকভাবে ঘরে দীর্ঘ সময় বসে থাকার মানুষ নই।

আমরা সেই জাতি যারা কিনা দূর্ঘটনায় পা ভাঙলেও খোড়ায় খোড়ায় গিয়ে পাড়ার মোড়ের দোকানে গিয়ে আড্ডা দেই আর সুস্থ স্বাভাবিক থেকে কিভাবে সেচ্ছায় গৃহবন্দি থাকবো সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। অবশ্য মৃত্যুর ভয়ের থেকে বড় ভয় দুনিয়াতে আর কিছু নেই। মৃত্যুর ভয়ে যদি সিংহভাগ মানুষ ঘরে থাকে তাহলে তো ভালই। তবে ঘরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আমাদের গনমাধ্যমগুলো।

বিশ্বাস করুন গত দুই মাস চীনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় আমার খুব বেশী একটা কষ্ট হয় নি কারণ খাদ্যের নিশ্চয়তার সাথে ছিল সময় কাটানোর যথেষ্ট উপাদান। ছিল ইন্টারনেট যুক্ত স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার ও পড়াশুনা। এসবই কেটে যেত ঘন্টার পর ঘণ্টা।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব সবার ক্ষেত্রে সহজলভ্য নয় আবার নতুন প্রজন্ম ছাড়া কেউ এগুলোতেও একটা বড় অংশ অভ্যস্তও নয় । তবে ঘরে ঘরে রয়েছে টেলিভিশন, মোবাইল। ইলেকট্রনিক টিভি চ্যানেলগুলো যদি তাদের সংগ্রহে থাকা পুরোনো বিশেষ অনুষ্ঠানগুলো এই দূর্যোগের সময় পুনরায় প্রচার করে তাহলে মানুষ ঘরে বসে সময় কাটানোর কিছু পাবে বলে আমি মনে করি। তাছাড়া তো সংবাদ প্রচার থাকছেই। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই বিজ্ঞাপনের সময় কমিয়ে আনতে হবে এবং সম্ভব হলে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন দেখাতে হবে।

এফএম রেডিও গুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা তবে বাংলাদেশ বেতারের বিভিন্ন স্টেশনগুলোর অনুষ্ঠান প্রচারের সময় কয়েকগুন বাড়াতে হবে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোও চলমান বিষয়ের পাশাপাশি তাদের পূর্বের বিশেষ প্রতিবেদন কিংবা ফিচার প্রতিবেদনগুলো পুনরায় ফেসবুক পেজে শেয়ার দিতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন লেখকের বই কিংবা বইয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ টাইপ করে আপলোড করা যেতে পারে।

তাছাড়া প্রিন্ট পত্রিকাগুলোতো সময় কাটাতে মানুষের বিশেষ ভূমিকা রাখবেই। উপরোক্ত প্রস্তাবগুলো শুধুমাত্র একজন পাঠক, দর্শক ও শ্রোতা হিসাবেই আমি মনে করি যদি বাংলাদেশে এই সময় আমি থাকতাম তাহলে অবশ্যই গনমাধ্যমের এই বিষয়গুলোর আমার হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার ক্ষেত্রে অনেক বেশী ভূমিকা রাখতো।

লেখক: প্রবাসী শিক্ষার্থী। হুবেই,চীন।

  • সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক