, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

খালিয়াজুরিতে তলিয়ে গেছে দেড়শ হেক্টর জমির ফসল

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

খালিয়াজুরিতে তলিয়ে গেছে দেড়শ হেক্টর জমির ফসল

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার বড় নদ-নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরি উপজেলার ধনু নদে হঠাৎ করে পানি বাড়ায় হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলায় এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে দেড়শ হেক্টর জমির ফসল।

জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, এরইমধ্যে প্রায় দেড়শ হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। আর স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, অব্যাহত পানি বাড়তে থাকলে ২০১৭ সালের মতো অকাল বন্যায় ফসল হারাতে হবে।

স্থানীয় কৃষক, উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন উপজেলা মূলত হাওরাঞ্চল। হাওরের একমাত্র ফসল বোরোর ওপরই নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সব ধরনের খরচ চালাতে হয়। জেলায় ছোট-বড় মোট ১৩৪টি হাওরের মধ্যে খালিয়াজুরিতে ৮৯টি হাওর আছে। হাওরাঞ্চলে ৩০০ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধের মধ্যে খালিয়াজুরিতে ১৮১ কিলোমিটার, মোহনগঞ্জে ৬১ কিলোমিটার ও মদনে ৪৬ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ আছে। ওই বাঁধের ওপর স্থানীয় কৃষকদের প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমির রোরো ফসল নির্ভর করে। হাওরের ফসল রক্ষায় এ বছর পাউবো উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রায় ৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করেছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভারতের চেরাপুঞ্জি এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত হয়। এই দুদিনে ৫৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এতে করে পাহাড়ি ঢলের কারণে নেত্রকোনার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। শুক্রবার থেকে শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত খালিয়াজুরির ধনু নদে প্রায় চার ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত বলেন, ধনু নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব দুচিন্তায় আছি। এরইমধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। তবে নদের পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। নদের খালিয়াজুরি পয়েন্টে বিপদসীমা ৪ দশমিক ১৯ সেন্টিমিটার। কিন্তু সেখানে রাত নয়টা পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫১ সেন্টিমিটার পানি রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনকে নিয়ে আমরা এলাকায় অবস্থান করছি। বাঁধ রক্ষায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, খালিয়াজুরির চুনাই হাওর, বাইদ্যার চর, কাটকাইলের কান্দা ও কীর্তনখোলা হাওরের বেরিবাঁধের বাইরের অংশ তলিয়ে গেছে। তবে এখনো কোনো ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙেনি। পানি বাড়তে থাকলে বাধ ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

খালিয়াজুরির গাজিপুর ইউনিয়নের পাঁচহাট এলাকার মিজাজুল মিয়া বলেন, বৈলং হাওরের বেড়ি বাঁধের বাইরে তলিয়ে গেছে। আরেকটু পানি বাড়লে বেড়ি বাধ ভেঙে হাওরের ফসল তলিয়ে যাবে।

পাঁচহাট গ্রামের কৃষক মাজেদ মিয়া ও আক্কাছ আলী জাগো নিউজকে বলেন, ফসলরক্ষা বাঁধের বাইরে আমাদের কয়েকজন কৃষকের প্রায় ১৫ একর আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। সারাবছরের একমাত্র ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কিছুই করার নেই। হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ হয়েছে। কিন্তু কৃষি বিভাগ থেকে আগাম জাতের ধানের চাষের পরামর্শ দিলে এমন ক্ষতি হতো না।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এফ এম মোবারক আলী জাগো নিউজকে বলেন, নিম্নাঞ্চলের দেড়শ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। হাওরাঞ্চলে কিছুকিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর দুই সপ্তাহ পরে পুরোদমে হাওরে ফসল কাটা শুরু হবে। তবে, আগাম বন্যার জন্য খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি। আমরা চাষিদের আগাম জাতের ধান লাগানোর পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু অনেকেই অধিক ফলনের আশায় আগাম জাতের ধান কম লাগান।

খালিয়াজুরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে ধনু নদে পানি বাড়তে শুরু করে। ভারতে চেরাপুঞ্জিতে বৃহস্পতিবার ১৯১ মিলি মিটার ও শুক্রবার ৩৫৭ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়। এর প্রভাব ধনু নদে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙেনি। এবং আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত পানি স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু নিম্নাঞ্চল কিছুটা প্লাবিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি আমরা বাঁধের পিআইসি কমিটির সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের সর্তক থাকতে বলেছি। যেখানে জিও ব্যাগ ফেলার দরকার, সেখানে তা প্রস্তুত রেখেছি। পানি বাড়লে ঝুঁকি বাড়বে, সেক্ষেত্রে সবার সর্তক থাকতে হবে।

  • সর্বশেষ - মহানগর