, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

রবীন্দ্রনাথকে কি উত্তর-আধুনিক বলা যাবে: পর্ব-০৩

  সাহিত্য ডেস্ক

  প্রকাশ : 

রবীন্দ্রনাথকে কি উত্তর-আধুনিক বলা যাবে: পর্ব-০৩

আধুনিকতা শব্দটি যত সহজ মনে হয়, ততটা নিশ্চয়ই নয়। কারণ শব্দটি একটি ভিন্ন ব্যঞ্জনা তৈরি করে। দেশ-কাল ও মনোভাব ভেদে এর ভিন্ন ভিন্ন ব্যপ্তি ও তাৎপর্য। ইংরেজি বা ফরাসি সাহিত্যে যে সময়কে আধুনিক নাম দিচ্ছি আমাদের বাংলা ভাষায় সেটা অনেক পেছনে। আবার ইংরেজি সাহিত্যে যে সময়কে আধুনিক বলছি দর্শনচিন্তায় সেই আধুনিককাল অনেক আগের ব্যাপার। বিজ্ঞানের আধুনিককালের সাথে এর কোনটারই মিল নেই। কাজেই সময়ের এই রকমফের আমাদের আলাদা আলাদা না করে বুঝতে কষ্ট হয়। তবে আগেই উল্লেখ করেছি আধুনিককাল সময়ের ব্যাপার না, ব্যাপারটা অবশ্যই দৃষ্টির। খুব নির্দিষ্ট করে বললে উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়কে আধুনিক বলতেই হবে। এই সময়ের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে চিন্তার যৌক্তিকতা, নৈর্ব্যক্তিকতা এবং বিশ্লেষণাত্মক ভাবনার প্রসার। বস্তুনিষ্ঠতাই হচ্ছে এ সময়ের মুখ্য আলোচনা। একটি বিশ্বজনীন চেতনা আছে এখানে, আছে বিমূর্ত বিশ্বজনীন সত্য খোঁজার আপ্রাণ চেষ্টা। বিশ্বদৃষ্টি এখানে এসেছে ঐক্যের খোঁজে, অন্তর্গূঢ় সংহতি অনুভব করা আধুনিকতার বিশেষ কাজ। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে বিবেচনা, সাথে সাথে ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খলভাবে ভাবনাকে প্রসারিত করতে চাওয়ার প্রবণতাও এখানে প্রবল। আধুনিক শিল্পবোধের ভেতরও রসের উপাধান খুঁজে ফেরা হয়, তবে সেটা সরল আর আভিজাত্যের মোড়কে এক ধরনের গম্ভীর রস।

বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতা এসেছে মাইকেল মধুসূদনের কাছ থেকে। মধুসূদন দত্তের প্রয়াণের (১৮৭৩) কয়েক বছর আগেই রবীন্দ্রনাথের জন্ম। শিব নারায়ণ রায়ের মতে, তিনি শুধু বাংলা সাহিত্যেই নয়, সমস্ত ভারতবর্ষেরই আধুনিক কবি। আধুনিক সাহিত্যের প্রাণ হচ্ছে গীতিকবিতা। গীতিকবিতার মূল জায়গাটা হলো, বক্তার নিজের ভাবোচ্ছ্বাসের পরিস্ফুটন। মাইকেল সময় ও জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব নিয়ে অপূর্ব আত্মকথনের বাক্য বিন্যাস ঘটিয়েছেন ‘আত্মবিলাপে’। ‘দিন দিন আয়ুহীন হীনবল দিন দিন/,— তবু এ আশার নেশা ছুটিল না? এ কি দায়!/ রে প্রমত্ত মন মম! কবে পোহাইবে রাতি? জাগিবি রে কবে?’ এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে, ব্যক্তি চেতনা আধুনিক কাব্যের মেরুদণ্ড। ‘আমি’ বা ‘আমার বেদনা’ এখানে স্থান করে নিলো সামগ্রিকতার জায়গায়। এটাই মধ্য-বিশ শতকের ইউরোপের অস্তিত্ববাদী আন্দোলনের স্লোগান। বিহারীলাল চক্রবর্তী এই সূত্রটা চট করে ধরেছিলেন। রবিঠাকুরের জন্য তাঁর নাম দিলেন ভোরের পাখি। হেমচন্দ, নবীনচন্দ্র কিম্বা দেবেন্দ্র সেন ছিলেন উনিশ শতকের শেষের কবি। এঁদের প্রত্যেকের কবিতার মর্মবাণী ওই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যতা। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, গীতিকবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ; যার কবিতায় আন্তর্জাতিকায়ন হয়েছে। হয়েছে ভাবদর্শনের অপূর্ব মঞ্চায়ন। ভাবের গলি ধরে মেট্রেয়ালিস্টিক ট্রুথ থেকে এক ধরনের ফর্মাল বা অ্যাবস্ট্রাক্ট ট্রুথে উত্তরণ। এটাই রবীন্দ্র কবিতা বা আধুনিক সাহিত্যের কাল পার্বিক এস্কেলেশন। ‘কেন রবীন্দ্রনাথ–কাব্যের আধুনিকতা’ প্রবন্ধে অধ্যাপক উৎপল মণ্ডল লিখছেন, ‘বাঙালির মনন সভায় রবীন্দ্রনাথ একটা পথ তৈরি করে দিচ্ছেন যে পথ সৃষ্টি হয়েছে একটা নিঃশব্দ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। নিঃশব্দ মানে চিন্তার প্রত্যক্ষযোগ্য ফর্মেট থেকে একটা অপ্রত্যক্ষ দৃশ্যপট বানিয়ে দেয়া।’ মণ্ডল দাবি করছেন, আধুনিকতায় চিৎকার চেচামেচি না করেও নিভৃতে বস্তুসত্যের ঘেরা টোপের বারান্দায় অলোক সত্য যে পাওয়া সম্ভব তা তিনি দেখাচ্ছেন। এখন একটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, কেন এটার দরকার ছিল? অর্থাৎ ভাষার একটা এপ্রোয়ারি ফর্ম থেকে থেকে এপোস্টটেরিওরি ফর্মে তিনি কেন পৌঁছচ্ছেন? এর উত্তর খুঁজে দেখা যাক ভাষা-খেলায় সবচেয়ে দুর্দান্ত নজির রেখেছেন ক্যামব্রিজ দার্শনিক ভিটগেন্সটাইন। বিশের দশকের শুরুতেই ভিটগেন্সটাইন ভাষাকে জগতের চিত্র ভেবেছিলেন; ভেবেছিলেন ভাষার অন্য কোন দায়-দায়িত্ব নেই শুধু বস্তুজগতকে ‘করস্পন্ডিং’ রিপ্রেজেন্টেশন ছাড়া।

সোজাকথায়, যে বস্তু সেই ভাষা; যে ভাষা সেই বস্তু। ঠিক আদালতের কাঠগড়ায় ভাষা আর বস্তু বা ফ্যাক্টের এভাবে মুখোমুখি দাঁড়ানোর ফলে বাদ পড়ার হুমকিতে পড়লো কল্পলোকের অসীম আকাশ। সমস্যা হলো এখানেই, ‘নাহি জানি, কেহ নাহি জানে--/ তব সুর বাজে মোর গানে,/ কবির অন্তরে তুমি নও ছবি, নও ছবি, নও শুধু ছবি।’ যে সুর আমার গানে আমার প্রাণে সব সময় বেজে চলেছে, তার তো কোনো দেখা নেই। ঘন যামিনীর মাঝে আমার না বলা বাণীর আবেদন নিয়ে যে ভাষা তাকে কী করে উপেক্ষা করবে? ভাষা যে শুধু ক্যামেরার ফিল্মের মতন ছবি তোলে তা তো নয়। অবগুণ্ঠনের আড়ালে মনের গোপন প্রকোষ্ঠে যে ভাব ঘুমিয়ে থাকে তা ছলে-বলে-রূপকে-কথা না-কথায় ভেসে উঠে, ডানা পায়। এটা ভিটগেন্সটাইন বুঝেছিলেন একটু পরে। শুরু হলো নতুন এক খেলা। ভাষার খেলা। যে রাজমিস্ত্রি বাড়ি বানাচ্ছেন, তার জোগাড়ুকে কিছু না বলে শুধু বললেন, ‘ইট’। চট করে সে বুঝে একখানা আস্ত ইট এগিয়ে দিলেন। ইট শব্দটা উচ্চারণ করলে যে একখানা ইট এগিয়ে দিতে হবে, এটা জোগাড়ু বুঝে গেছেন। ইট শব্দটা কিন্তু এখানে রাজমিস্ত্রি উচ্চারণ করেছেন, ইটের সংজ্ঞা জানতে চাননি যে ‘মাটির তৈরি আয়তকার এক খণ্ড অতি শক্ত বস্তু’ হচ্ছে ইট। ইত্যাদি। ভাষার এই বহুমুখী ব্যবহার ভিটগেন্সটাইনকে আধুনিকোত্তরমুখী বানিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের রাজা নাটক ভিটগেন্সটাইন পড়েছিলেন ভিয়েনাতে থাকাকালে বিশের দশকে। তখন কিন্তু পাত্তা দেননি। পরে বুঝলেন, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে চিন্তার গোপন রাজকোষ। পেয়ে গেলেন রসদ। ‘ইনভেস্টিগেশনে’ ভাষার উত্তরপর্বের যে বিচিত্র প্রয়োগ ভান্ডার আছে সেটা দেখালেন তিনি। ভিটগেন্সটাইন যেটা বুঝলেন জীবন শেষে, সেটা রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন জীবনের শুরুতেই। রবিঠাকুরের তাঁর সাহিত্য আলোচনায় স্পষ্ট করলেন, বাস্তব প্রবন্ধে। বলছেন, সাহিত্যের মধ্যে বাস্তব খোঁজ করার একটা প্রবৃত্তি আমাদের আছে। কিন্তু সেই বাস্তবতা নিশ্চয়ই রসবস্তু। যে রস খোঁজ করে তাকে পেতে হয় ঘ্রাণে, প্রাণে। গরু সামনে ফুল পেলে তা নিজের নাকে গন্ধ না নিয়ে সরাসরি খেয়ে ফেলে। এতে ফুলের পবিত্রতা নষ্ট হয়। তিনি লিখছেন, ‘যে-সমস্ত সমালোচক সাহিত্যের হাটে বাস্তবতার দালালি করিয়া থাকেন তাঁহারা ওয়ার্ডসওয়ার্থের কবিতার কিরূপ সমালোচনা করিয়াছিলেন তাহা ইতিহাসে আছে।’ (বাস্তব, সাহিত্যের পথে, ২০)। এসব কথা এখানে আসছে কেন? এসব কথা এজন্য আসছে যে সাহিত্যে বাস্তব থেকেও বেশি বাস্তব হচ্ছে অন্তঃপুরের যে গভীর আনন্দময় অনির্বাচনীয় সত্য লুকিয়ে থাকে তাকে ভাবনায় ছেঁকে তোলা। এটাই কি আধুনিক সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য? নিশ্চয়ই তাই। এবার একটু অন্যপ্রসঙ্গে আসা যাক।

উত্তর-আধুনিকতা
উত্তর-আধুনিকতা হচ্ছে আধুনিকতার বিপরীত প্রতিক্রিয়া; বিরুদ্ধ বললেও বেমানান হবে না। তাই বলে উত্তর-আধুনিকতা কিন্তু অনাধুনিকতা নয়। আধুনিকতাকে সম্পূর্ণ অগাহ্য করে নতুন করে জগতকে দেখার মধ্য দিয়ে এর যাত্রা হয়েছে। আধুনিকতার মধ্যে ‘যন্ত্র’ দ্রুত স্থান করে নিলো। কল-কারখানা, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য সবক্ষেত্রে মানুষের জায়গায় যান্ত্রিক প্রযুক্তি মানুষকে সরিয়ে দিলো। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের তৈরি হলো ভিন্ন বাতাবরণ। শুরু হলো ভাঙা-গড়ার খেলা। নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু দেখার সুযোগ সৃষ্টি হয়ে গেল। যে নতুন দৃষ্টি মেলে জগতকে দেখা শুরু হলো, সেটা কিন্তু বিশেষ কোনো তত্ত্বভারাক্রান্ত নয়, ‘তা কোন অপরিবর্তনীয় আকর্ষণশক্তিতে বিধৃত নয়, নির্দিষ্ট কিম্বা স্থানিক নয়, ধ্রুব নয়। তা অস্থির, দ্বন্দ্বোভুত, নিত্যবহ অনৈতিক। সময়ান্তরিত; সময়াবদ্ধ নয়, নির্মাণে, ভাঙনে, পুনর্নির্মাণে, পুনপাঠে আর সমাজ সত্যায়নে চিহ্নিত অথচ ইতিহাসের বোধায়নে সংস্কৃতি ও কৃষ্টিতে নিত্য বহমান। এ যেন সময়ের চোরা-বালিতে কোনো নবীন পথিক ঘোড়সওয়ারের অপেক্ষায়—সামনে তার অবিশ্রাম বিনির্মাণ আর নব চিহ্নায়ন। ঊর্ধ্বাকাশে নবীন মেঘের বিদ্যুৎ প্রভা’। (নবেন্দু সেন, প্রাগুক্ত, ১১)

স্বদেশি আন্দোলনের নেতা সন্দীপের কপটতা বিমলা বুঝতে পারে। যখনই বুঝতে পারে তখন নিখিলেশের মতো স্বামীর কাছে তার আপাত ভেঙে যাওয়া মনকে বিনির্মাণ করতে এগিয়ে আসে। এই ভেঙে ফেলা আবার সেটা নতুন করে নির্মাণ করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রবীন্দ্রমানসে যে বিনির্মাণ তত্ত্ব নিয়ে পরীক্ষা চলতে থাকে, তা বুঝি কারো অজানা নয়। ১৯১৬ সালে লেখা ‘ঘরেবাইরে’র মধ্যে দু ধরনের চিন্তার মোড় আছে, একটা বিনির্মাণ অন্যটা উত্তর-উপনিবেশবাদ। একদিকে সম্পর্কের বিনির্মাণ, অন্যটা স্বদেশের ওপর চেপে ধরা বাহুর মতন ছায়া। নতুন করে ভারতবর্ষকে ভেঙে পুনরায় গড়ে তোলার ইঙ্গিত থেকে নতুন এক বার্তা মেলে। আবার, ১৯৩৪ সালে লেখা শেষ উপন্যাস ‘চার অধ্যায়’ এরকমই জীবনের ভাঙা গড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। বৃটিশ ভারতের আন্দোলনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দ্বন্দ্ব নিয়ে লেখা এই উপন্যাস। মূল চরিত্র এলা কীভাবে অতি সাধারণ থেকে অসাধারণে পৌঁছেছে তার সবিস্তার বর্ণনা এখানে মেলে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ও বিপক্ষে রাজনীতির মেরুকরণেরের চিত্র এটা। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন ও উগ্র জাতীয়তাবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এসব কিছুর অধ্যায়ভিত্তিক জীবনপর্ব রবীন্দ্রনাথকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে আমাদের চোখ খুলে দেয়। এখানেও উপনিবেশবাদ, ভাঙা-গড়া, প্রেম ও দ্বন্দ্ব নিয়ে একটা নতুন রসায়ন তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে জীবনের অনবদ্য এক চিত্রের মাঝে যে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনা লুকিয়ে থাকে তার স্পষ্ট ছবি আমরা দেখতে পাই এ দুটো উপন্যাসে। এখানে সংশয় আছে, আক্ষেপ আছে, মনস্তাপ আছে, আছে দ্বন্দ্ব। অর্থাৎ জীবনের যে বিচিত্রবর্ণ তার আদ্যোপান্ত উপাখ্যান বলা যায় রবীন্দ্রমানসে ফুটে উঠেছে। রবার্ট ফ্রস্ট জীবনের অর্থ খুঁজতে গিয়ে আক্ষেপ নিয়ে লেখেন ‘দ্য রোড নট টেকেন’। ১৯১৫ সালে লেখা কবিতাটি ফ্রস্টের সংশয়ী দোমনা বন্ধু অ্যাডওয়ার্ড টমাসকে নিয়ে। টমাস কিছুতেই কোন কাজে নিশ্চিত হতে পারতেন না। থেকে যেত অসম্ভব রকমের টানাপোড়েন। খেয়াল করুনঃ
Two roads diverged in a yellow wood,
And sorry I could not travel both
And be one traveler, long I stood
And looked down one as far as I could
To where it bent in the undergrowth;

Then took the other, as just as fair,
And having perhaps the better claim,
Because it was grassy and wanted wear;
Though as for that the passing there
Had worn them really about the same,

And both that morning equally lay
In leaves no step had trodden black.
Oh, I kept the first for another day!
Yet knowing how way leads on to way,
I doubted if I should ever come back.

I shall be telling this with a sigh
Somewhere ages and ages hence:
Two roads diverged in a wood, and I—
I took the one less traveled by,
And that has made all the difference.
যে রাস্তায় হাঁটা হয়নি তার জন্য কি বিচিত্র রকম আক্ষেপ! সম্ভবত জীবনের বহুতল এরকম কবিতার ভেতর দিয়েই প্রকাশ করা সম্ভব।

  • সর্বশেষ - সাহিত্য