, ১২ আষাঢ় ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

ঈদের সালামি যাচ্ছে মোবাইলে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ঈদের সালামি যাচ্ছে মোবাইলে

মুসলিম সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। আর ঈদ উপলক্ষে সালামির প্রচলন সেই প্রাচীনকাল থেকেই। বিশেষ করে বড়রা ছোটদের এটা দিয়ে থাকে। সাধারণত সামনাসামনি দেখা করে সালামি নেওয়ার প্রচলন দেখে আসছি আমরা। কিন্তু চাকরি, ব্যবসা বা পড়াশোনার কারণে পরিবারের সবার সঙ্গে হয়তো অনেকের দেখা হয় না ঈদে। এতে করে সালামি না পাওয়ার ভয় থাকে অনেকের।

তবে প্রযুক্তির সহায়তায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেই ঈদ সালামিতে এসেছে ভিন্নমাত্রা। এখন দেশ কিংবা দেশের বাইরে থেকেও ডিজিটাল (মোবাইল ব্যাংকিং) ওয়ালেটে অনেকে ঈদ সালামি পাঠাচ্ছেন। মুহূর্তের মধ্যেই তা পৌঁছে যাচ্ছে প্রিয়জনের কাছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত আরমান। প্রতিবছরই রোজার ঈদে গ্রামের বাড়ি রংপুর পরিবারের সঙ্গে ঈদ করেন। তবে চাকরিজীবনের ১০ বছরের কোনোবারই কোরবানির ঈদ গ্রামে করতে পারেননি। এবার ব্যতয় ঘটছে তার, আসন্ন রোজার ঈদুল ফিতরে গ্রামে যাওয়া হচ্ছে না। এজন্য তার তেমন মন খারাপও না।

বুধবার (২০ এপ্রিল) মতিঝিল আনার বেকারির পাশের একটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকানে আরমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী আছেন। আমাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে। তাদেরও বিয়ে হয়েছে। তিন সন্তানের ঘরে পাঁচ নাতি-নাতনি রয়েছে। সবাইকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০০ টাকা করে ঈদ সালামি পাঠাবেন বলে জানান তিনি। আর স্ত্রীর হাতখরচ ও ঈদের কেনাকাটা বাবদ পাঠাচ্ছেন তিন হাজার টাকা।

সেখানেই কথা হয় পাঠাও চালক শহিদুল্লাহর সঙ্গে। এবার ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামে চাইলেই যাওয়া যায় কিন্তু টাকাতো আর চাইলেই পাওয়া যাবে না। করোনার কারণে চাকরি হারিয়ে মোটরসাইকেলে ভাড়া মারছি। এখানে কিস্তি আছে, আবার ঈদের আগে-পরেও ভালো ভাড়া হয়।

শহিদুল বলেন, এবার ঈদে গ্রামে যেতে না পারলেও মা-বাবার জন্য টাকা পাঠিয়েছি। তারা টুকটাক কেনাকাটও করেছেন। এখন ভাগ্নিদের জন্য সালামি পাঠাতে পারলেই ঈদ পূর্ণ হবে আমার।

গ্রামে যাবেন না, তাহলে কীভাবে ঈদের সালামি পাঠাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই ভাগ্নের বাড়ি দুই গ্রামে। বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে তাদের কাছে টাকা পাঠাবো। টাকা পেলে বাচ্চারা খুশি হয়। ঈদে এটা তাদের বাড়তি আনন্দ। তাদের আনন্দইতো আমাদের...।

খিলগাঁও রেলওয়ে কলোনির শাফায়েতের সঙ্গে কথা হয় ঈদ সালামি নিয়ে। একাদশ শ্রেণির ছাত্র শাফায়েত বলেন, কাতার থেকে বড় মামার কাছ থেকে এরই মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা সালামি পেয়েছি। ছোটচাচ্চু পায়রা বন্দরে জব করেন, তিনি আমাদের সঙ্গে ঈদ করবেন না এবার। তবে সালামি ঠিকই পাঠাবেন। আমাদের দুই ভাইয়ের জন্য তিনিও পাঁচ হাজার টাকা সালামি পাঠাবেন। যোগ করেন শাফায়েত।

  • সর্বশেষ - অর্থ-বাণিজ্য