, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

জামালপুর শহরে খাবার পানির তীব্র সংকট

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

জামালপুর শহরে খাবার পানির তীব্র সংকট

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় জামালপুর শহরে দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। এতে দৈনন্দিন কাজে সাধারণ মানুষের তৈরি হয়েছে নানা ভোগান্তি। সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ অন্যদিকে মাহে রমজান। আর এরই মাঝে শহরজুড়ে দেখা দিয়েছে পানির সমস্যা। ৮০ শতাংশ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। সংকট মোকাবিলায় বিত্তবানরা সাব-মার্সেবল পাম্প বসালেও নিম্নআয়ের মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। তারা ছুটছেন বহু দূর-দূরান্তে। অনেকে ভিড় করছেন মসজিদ-মাদরাসায় বসানো মোটরের পানি নিতে। অনেক পরিবারকে কিনে খেতে হচ্ছে বোতলজাত পানি। পানি সংকট মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে না আসার অভিযোগ তুলছেন এলাকাবাসী।

দুর্ভোগের শিকার জামালপুর পৌরসভার স্টেশন রোড সংলগ্ন মো. আনিসুল হকের পরিবার। তারা দীর্ঘদিন ধরেই শহরের এ জায়গায় বসবাস করছেন। দুর্ভোগের বিষয়ে তারা জাগো নিউজকে বলেন, তিনমাস হলো তাদের টিউবওয়েলে পানি আসছে না, পানি আসলেও তা ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত। তাই বাধ্য হয়েই ছুটতে হচ্ছে দূর-দূরান্তে। দ্রুতই পরিত্রাণ চান এ দুর্ভোগ থেকে।

jagonews24

তাদের মতো শহরের অনেক পরিবারেরই একই অভিযোগ- পানির অভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা। অন্যের বাড়ি থেকে পানি এনে তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। তাই দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

সংকট মোকাবিলায় পরিবেশ আন্দোলন জামালপুর শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, অনতিবিলম্বে পুকুর ভরাট বন্ধ করতে হবে। এছাড়া জলাশয়, নদীনালা পুনরুদ্ধার করে পানির গতিপথ স্বাভাবিক করতে হবে।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটুস লরেন্স চিরান জাগো নিউজকে বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গত মিটিংয়ে জনস্বাস্থ্যের মাধ্যমে জেনেছি। সংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে তাদেরকে পরিকল্পনা করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, সংকট মোকাবিলায় এরইমধ্যে ২ হাজার ৪০টি নলকূপের সাব-মার্সেবল পাম্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এমনকী অনেকগুলোর কার্যাদেশের প্রক্রিয়া চলমান। এ কার্যাদেশ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে জামালপুরবাসী এ সমস্যা থেকে অনেকটাই পরিত্রাণ পাবে বলেও জানান তিনি।

  • সর্বশেষ - মহানগর