, ১২ আষাঢ় ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

ঈদের দিনও বাড়ি ফেরার ভিড় গাবতলীতে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ঈদের দিনও বাড়ি ফেরার ভিড় গাবতলীতে

খুলনার বাসিন্দা মোহাম্মদ সবুর মিয়া (৪৫)। রাজধানীর হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজায় মোবাইলের শো-রুম রয়েছে তার। চাঁদরাতে বেচাকেনা করেছেন ৩টা পর্যন্ত। ঈদের দিন মঙ্গলবার (৩ মে) সকালে নামাজ আদায় করেই সরাসরি গাবতলী বাস টার্মিনালে এসেছেন। নাড়ির টানে ফিরবেন গ্রামের বাড়িতে। শেষ সময়ে হলেও ঈদের খুশি আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান সবুর।

সবুর মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, চাঁদরাতে বেচাকেনা করেছি। সকালে নামাজ পড়ে বাড়ি যাচ্ছি পরিবারের সঙ্গে। বাড়িতে মা থাকেন। মায়ের সঙ্গে দেখা করবো ও বাবার কবর জিয়ারত করবো।

সবুর মিয়ার মতো আরও অনেকে ঢাকা ছাড়ছেন। ছুটি না থাকা এবং ঈদযাত্রায় ভোগান্তি এড়ানোসহ নানা কারণে ঈদের আগে ঢাকা ছাড়তে পারেননি অনেকে। তাই পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই ঈদের দিন ঢাকা ছাড়ছেন।

jagonews24

মঙ্গলবার (৩ মে) সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বাস কাউন্টারগুলো খোলা রয়েছে। যাত্রীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

ঈদের দিনে ঘরমুখো যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা অনেকে বিভিন্ন শো-রুম ও বিপণিবিতানে চাকরি করেন। সেখানে বেচাকেনা হয়েছে চাঁদরাতেও। ফলে ছুটি মিলেছে ঈদের দিন।

তাদেরই একজন ফরিদপুরের আলামিন হোসেন। চাকরি করেন বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের একটি শো-রুমে। তিনি বলেন, ‘রাত তিনটা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়েছে। মালিক ঈদের দিন ছুটি দিয়েছেন। তাই নামাজ পড়েই গ্রামে বাড়ি যাচ্ছি।’

jagonews24

গাবতলীতে ঈদের দিন অনেক ইমাম ও মুয়াজ্জিনের উপস্থিতি দেখা গেছে, যারা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন। তাদের সবার ছুটি মিলেছে ঈদ জামাতের পর।

কেন্দ্রীয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল উদ্দিন। ঈদের নামাজ শেষে তিনি বাড়ি ফিরছেন। জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ঈদের জামাত শেষ হওয়ার পর ছুটি পেয়েছি। এখন বাড়ি যাচ্ছি। রাস্তাও কিছুটা ফাঁকা। দ্রুত বাড়িতে পৌঁছে যাবো আশা করছি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর জন্যই ছুটছি।’

মাগুরা গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন মো. সুলতান নামের আরেক যাত্রী। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে যাত্রীর প্রচুর চাপ থাকে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটেও জ্যাম থাকে। ঈদযাত্রা কষ্টকর হয়। এজন্য আগে যায়নি। এখন একটু আরামে যেতে পারবো।’

jagonews24

ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধা নানিকে নিয়ে যশোর যাবেন সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে টিকিট পাইনি। নানি বয়স্ক মানুষ। আবার বাচ্চাটাকে নিয়েও ঝামেলা। টিকিট ছাড়া রওনা করা ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য ঈদের দিন টিকিট নিয়েছি। আজ বাড়িতে যাচ্ছি।’

যশোরে মীম বলেন, ‘ঈদের আগে রাস্তায় যানজট থাকে। গরমে কষ্ট এড়াতে আজ বাড়িতে যাচ্ছি।’

এদিকে, ঈদের দিন যাত্রী পাওয়ায় খুশি পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, ‘আজকে ভালোই যাত্রী পাচ্ছি। নানা কারণে যারা ঈদের আগে বাড়িতে যেতে পারেননি। তারা আজ যাচ্ছে। আবার কিছু সৌখিন যাত্রীও আছে। যারা আরামে বাড়িতে যেতে চান, তারা আজ যাচ্ছেন।’

  • সর্বশেষ - জাতীয়