, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

এভাবেই তাদের ঈদ আসে, ঈদ যায়

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

এভাবেই তাদের ঈদ আসে, ঈদ যায়

আবুল কালাম, সবাই ডাকেন কালা মিয়া নামে। পেশায় একজন হকার। গুলশান ওয়াটার ট্যাক্সি ঘাটে কাঁচা আমের ভর্তা বিক্রি করেন তিনি। সেখান থেকে আয় হওয়া অর্থ দিয়ে চলে তার সাত সদস্যের পরিবার। অন্যান্য দিনের মতোই পুরাতন জামা গায়ে ঈদের দিনও বের হয়েছেন জীবিকার তাগিদে।

ঢাকা পোস্টের সঙ্গে কথা হয় কালা মিয়ার। সবাই পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করছে, আর আপনি কাজে বের হয়েছেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালা মিয়া বলেন, আমাদের আবার ঈদ? দিনের আয় দিনে না করলে সংসার চলে না। আমি আয়ের মানুষ একজন, আর সংসারে সাত সদস্য। এত মানুষের সংসার টানতে গেলে নিজেদের ঈদ থাকে না। তবে সকালে অবশ্য ঈদের নামাজ পড়ে, বাসায় একটু খেয়ে কাজে বের হয়েছি।

তিনি বলেন, আমার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পরিবারের সবাই সেখানেই থাকে। আমি লেকপাড়ের একটি বস্তির মেসরুমে থাকি। সংসারের বোঝা আমার কাঁধে। পরিবারের জন্য ঈদের টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন আমিও যদি ঈদের দিন বলে কাজে বের না হই, তাহলে তো সংসার চলবে না।

dhaka post

তারপরও ঈদ একটি বিশেষ দিন উল্লেখ করে তিনি নিজেই বলেন, আমার একার কষ্টের জন্য যদি স্ত্রী-সন্তান ভালো করে ঈদ করতে পারে, সেটাই আমার সুখ, প্রাপ্তি। তবুও সকালে ঘুম থেকে উঠে ঈদের নামাজ পড়তে গেছি। ঈদে নিজের জন্য কোনো নতুন পোশাক কিনিনি। কেন কিনব, কারণ ঈদে তো কোথাও যাবো না, কাজই করব। আর আজকে সারাদিন বেচা-বিক্রি ভালোই।

তিনি বলেন, আমরা একটি ঘরে কয়েকজন থাকি। সবাই কাজ করে। কাজ শেষ রাতে সবাই বাসায় ফিরলে বয়লার মুরগি, ভাত আর সেমাই রান্না করব।

কালা মিয়ার সঙ্গে কথা শেষে আলাপ হয় রিকশাচালক আব্দুল লতিফের সঙ্গে। তিনিও ঈদের দিন জীবিকার তাগিদে রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন।

ঈদের দিনেও কাজে বের হওয়া, তার ঈদ কীভাবে কাটছে এসব বিষয় নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, এই বয়সে এসে আমাগো আর ঈদ! সকালে ঈদের নামাজ পড়ে সেমাই খেয়ে বের হইছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করমু, এরপর বাসায় যামু। কাজে বের না হইলে তো আর সংসার চলে না। একদিন কাজ না করলে মাস শেষে সংসারে ঘাটতি।

dhaka post

কড়াইল বস্তির বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, ঘর ভাড়া, সংসারের খরচ, দুই ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া...সব মিলায়া অনেক খরচ। ঈদের চিন্তা করলে হয় না, কাজ করতেই হয়। আজ অবশ্য কাজে বাইর হইয়া ভালো হইছে। যাত্রীরা বকশিস দিচ্ছে।

ঈদে নিজে কিছু কিনেননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না নিজের কিছু নেওয়া হয়নি। ছেলে-মেয়ে, স্ত্রীকে কিনা দিছি। তারা আমারে লুঙ্গি কিনতে বলেছিল। কিন্তু আমার তো আছেই, তাই নতুন নেই নাই।

মহাখালী আমতলী স্টপেজের সামনে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন এক সিএনজিচালক। পাঞ্জাবি পরা ওই সিএনজিচালকের নাম রবিউল ইসলাম। সিএনজি শনির আখড়া এলাকার হলেও ঈদের দিন যাত্রী নিয়ে মহাখালী এসেছেন তিনি।

dhaka post

রবিউল ইসলাম বলেন, ঢাকায় যারা একটি সংসার চালায়, তারাই জানেন এটি কত কঠিন। দুই ছেলে, এক মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে আমার সংসার। আমারা যারা সিএনজি চালাই, তারা দিনের ইনকাম দিয়ে দিন চালাই। একদিন কাজে বের না হওয়া মানে একদিনের আয় মাইনাস।

সন্তানরা আজ বের হতে মানা করেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আমি তো বুঝি একদিন বসে থাকলে আমার কী ক্ষতি। তাই নামাজে শেষে পাঞ্জাবি পরেই কাজে বের হয়েছি। ঈদের দিন তাই আমাদের পোশাক আর পরিনি। যাত্রী পরিবহন করতেই করতেই ঈদের দিন চলে যাচ্ছে আমাদের। এভাবেই ঈদ আসে, ঈদ যায়।

  • সর্বশেষ - জাতীয়