, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

সরকারি রাস্তা কেটে জমি ভরাট, ভোগান্তিতে ২ শতাধিক পরিবার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

সরকারি রাস্তা কেটে জমি ভরাট, ভোগান্তিতে ২ শতাধিক পরিবার

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ২ শতাধিক পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা কেটে জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। রাস্তা কেটে মাটি নেওয়ায় রাস্তাটি এখন গভীর নালায় পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মাইনুদ্দিন মৎসঘাট এলাকার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ১৬ ফুট প্রসস্ত ও দুইশ ফুট দৈর্ঘের দুইটি চলাচলের রাস্তা কেটে সুপারি বাগানের জমি ভরাট করে প্রায় সাড়ে ৪ ফুট গভীর নালা তৈরী করেছেন ওই এলাকার প্রভাবশালী ইউনুস হাওলাদার।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার দুই শতাধিক পরিবার। গভীর নালা থাকায় রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে না পেরে অন্যের বাগান ও ফসলি জমির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।

শনিবার (১৪ মে) সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে ভূক্তভোগী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমি এই রাস্তা দিয়ে প্রায় ৩৫ বছর ধরে যাতায়াত করে আসছি। গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় ইউনুস হাওলাদার ক্ষমতার দাপটে সরকারি রাস্তা কেটে তার সুপারি বাগানে মাটি ফেলে ভরাট করে। ফলে রাস্তাটি গভীর নালায় পরিণত হয়েছে।

আমরা বাধা দিলে ইউনুস হাওলাদার বলেন, সরকারি রাস্তা থেকে মাটি কেটে নিচ্ছি, কারও ব্যক্তিগত জমি থেকে মাটি কাটছি না। কিছু বললে সরকারি কর্মকর্তা বলবে।

স্থানীয় আব্দুল মালেক (৭০) ও ফরিদা বেগম (৫০) বলেন, এই এলাকায় ৪০ বছর ধরে বাস করছি। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা ব্যবহার করলেও ইউনুস রাস্তাটি কেটে তার ক্ষমতা দেখিয়েছে। এলাকার সবাই একত্রিত হয়ে একাধিকবার স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করেছি। কিন্তু চেয়ারম্যান এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।

মন্নান মাঝি (৫৫) ও হামিদ মাঝি (৪০) বলেন, রাস্তা কেটে নেওয়ার পর থেকে এই নালার মধ্যে শিশুরা পড়ে যাচ্ছে। নালায় পানি জমে পুরো গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও ইউপি সদস্য-চেয়ারম্যান এবং প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে ইউনুস হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রাস্তার পাশে ৬ ফুট রেখে বাকি অংশের মাটি কেটেছি। আমি ওই জমি ভরাট করে দিব।

এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম হাওলাদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল নোমান রাহুল বলেন, আমি বিষয়টি জানতাম না। এ বিষয়ে ইউনিয়ন তহশিলদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ