ময়মনসিংহ, , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

অসুস্থ স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রীর চেষ্টা, দাফনে বাধা আওয়ামী লীগ নেতার

  অনলাইন ডেস্ক

  প্রকাশ : 

অসুস্থ স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রীর চেষ্টা, দাফনে বাধা আওয়ামী লীগ নেতার
একটি কবরস্থান। ছবি: ফাইল, সংগৃহীত

অসুস্থ স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করেও কোনো সাহায্য পাননি স্ত্রী। মারা যাওয়ার পরও স্বামীকে দাফন করতে গেলে দেওয়া হয় বাধা। অথচ ওই ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না।

ঘটনাটি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায়। সোমবার দুপুরে বগুড়ার সিভিল সার্জনকে আইইডিসিআর জানায়, ওই ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না।

এদিকে মৃত ব্যক্তিকে দাফনে বাধা দেওয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বগুড়ার সিভিল সার্জন গউসুল আজিম চৌধুরী বলেন, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আইইডিসিআর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, শনিবার শিবগঞ্জে জ্বর-সর্দি-শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিটির শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। মৃত ব্যক্তি যেহেতু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না, তাই পরিবারের সদস্যদের আর কোয়ারেন্টাইনে রাখা কিংবা প্রতিবেশীদের লকডাউনে রাখার দরকার নেই।

উল্লেখ্য, বগুড়ার কাহালু উপজেলার ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার নিজের কর্মস্থল গাজীপুর থেকে স্ত্রীর কর্মস্থল শিবগঞ্জে আসেন। এরপর জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে পড়েন। শুক্রবার রাতে অবস্থার অবনতি হয়।

অসুস্থ স্বামীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে নানা স্থানে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন স্ত্রী। করণীয় জানতে আইইডিসিআরের হটলাইনেও কল করেন তিনি। কিন্তু কারও কাছ থেকে কোনো সাড়া পাননি বলে তার অভিযোগ।

প্রতিবেশীরাও করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে এগিয়ে আসেননি। শেষ পর্যন্ত বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের হটলাইনে কল করলে পরদিন সকাল ১০টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে একজন চিকিৎসক এসে ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন।

করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় দাফনেও বাধা দেন এলাকাবাসী। বাধার মুখে নিজ বাড়ি কাহালু থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে খাস সম্পত্তিভুক্ত পীরের মাজারের পাশে ওই ব্যক্তিকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সেখানে কবর খুঁড়তেও বাধা দেওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে কবর খুঁড়তে স্থানীয় কেউ রাজি হননি। পরে পুলিশের সদস্যরাই কবর খোঁড়েন ও দাফনের ব্যবস্থা করেন।

করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠায়। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। পাশাপাশি আশপাশের ১৫টি বাড়ি লকডাউন করা হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবির বলেন, আইইডিসিআরের দেওয়া প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির স্ত্রী-সন্তানের আর কোয়ারেন্টাইন দরকার নেই। পাশাপাশি আশপাশের বাড়িগুলোর লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মেজবাউর রহমান বরাবরে প্রেরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ময়দানহাটা ইউনিয়নের দাঁড়িদহে (মহব্বত নন্দীপুর গ্রাম) মৃত ব্যক্তির সৎকারে আপনি কেন বাধা প্রদান করেছেন তার সদুত্তোর আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হলো।

যোগাযোগ করা হলে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা শোকজ নোটিশ প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ওই ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। একারণে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। তার জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ