, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

ওআইসির সায়েন্টিফিক পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রিপন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ওআইসির সায়েন্টিফিক পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রিপন

ভূমিকম্প সহনশীল সড়ক বা মহাসড়ক নির্মাণে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ওআইসির কেএএনএস সায়েন্টিফিক প্রতিযোগিতায় সম্মানিত ডিপ্লোমা পুরস্কার লাভ করেছেন বাংলাদেশের ড. রিপন হোড়।

দা নলেজ অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড নোসন ফর সোসাইটি (কেএএনএস) প্রতিযোগিতা মুসলিম বিশ্বের ওআইসিভুক্ত দেশের তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা। যা মর্যাদাপূর্ণ মোস্তফা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফাউন্ডেশন আয়োজন করে। এতে ২৫টি দেশের ৬৫৮টি উদ্ভাবন জমা পড়ে। সেই উদ্ভাবনগুলো পৃথিবীর বিখ্যাত গবেষক ও বিজ্ঞানী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে ১৭টি উদ্ভাবনকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনয়ন দেন। যার মধ্যে রিপন হোড়ের উদ্ভাবন ছিল অন্যতম।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বটি গত ১০-১৩ মে ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে রিপন পরিবহন সেক্টর বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন রিপন।

এ বিষয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ড. রিপন হোড় ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ১৩ মে আমার উদ্ভাবিত বাঁধ নির্মাণ প্রযুক্তি ইরানের রাজধানী তেরহানে পারদিস টেকনোলজি হলে উপস্থাপিত হয়। প্রতিযোগিতায় আমি পরিবহন সেক্টর বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছি। পুরস্কার হিসাবে সম্মানিত ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। দেশের হয়ে এমন অর্জনে অনেক ভালো লাগছে। 

তিনি আরও বলেন,  গত ১১ মে পারদিস টেকনোলজি হলে বিজ্ঞান মেলা ইনোটেক্স ২০২২ এ বাংলাদেশ থেকে আমি  মালয়েশিয়া থেকে পাইকসি চিহ এবং উই জি লাও এবং ইরান থেকে মোহাম্মদ আলী খায়াসিয়াম ও মেহেদী মালিকি উদ্ভাবনগুলো উপস্থাপনের সুযোগ পাই। উপস্থাপনায় বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রফেশনাল মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

এরপর গত ১৩ মে পারডিস টেকনোলজির মূল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশের রিপন হোড়সহ মালয়েশিয়ার দুইজন ও ইরানের ১৭ জনকে সম্মানিত ডিপ্লোমা পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মোস্তফা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফাউন্ডেশনের প্রধান আয়োজক কমিটি ইরানের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিসহ পাকিস্তান, ওয়ার্ল্ড সাইন্স ফাউন্ডেশন ও ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

dhakapost

এর আগে ২৫টি দেশ যেমন, বাংলাদেশ, তুর্কি, ইরান, ভিয়েতনাম, ইয়েমেন, কেনিয়া, রাশিয়া, ওমান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশের ৬৫৮টি উদ্ভাবন জমা পরে। সে উদ্ভাবনগুলো দুটি ধাপে গত এক বছরে পৃথিবীর বিখ্যাত গবেষক ও বিজ্ঞানী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে সেরা ২০টি উদ্ভাবনকে  উপস্থাপনার জন্য ইরানের রাজধানী তেহরানের আমন্ত্রণ জানানো হয় । 

সব উদ্ভাবনকে মোট ছয়টি প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়। সেগুলো হলো- ১) অর্থনীতি ও ব্যাংকিং; ২) শক্তি, পানি ও পরিবেশ; ৩) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি; ৪) স্বাস্থ্য; ৫) পরিবহন; ৬) খনি ও খনিজ শিল্প। চূড়ান্ত পর্বে ছয়টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৮ সালে কেএএনএস সাইন্টিফিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বাংলাদেশের নরম মাটিতে ড. রিপন হোড়ের উদ্ভাবিত ভূমিকম্প প্রতিরোধী মোড়ানো বাঁধের প্রযুক্তি নিয়ে গত ২৪ জুন দেশের জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ঢাকা পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরও দেশের অন্যান্য মিডিয়ায়ও প্রকাশিত হয়।

ইতোমধ্যে ড. রিপন হোড়ের এ গবেষণার ফলাফল ছয়টি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ড. রিপন হোড়ের এ উদ্ভাবিত বাঁধে শুধু ভূমিকম্প প্রতিরোধই হবে না, এটি বন্যা প্রতিরোধক বাঁধ হিসেবে বেশ কাজ করবে এবং এ বাঁধটি খাড়া হওয়ার কারণে সরকারের ব্যাপক ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় কমিয়ে দেবে। পাশাপাশি ব্যাপক কৃষি জমির সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারি এবং তার ছাত্র প্রকৌশলী রিপন হোড়ের সমন্বয়ে গঠিত গবেষক দল ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় বছরের গবেষণায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। তাদের উদ্ভাবিত ‘র‌্যাপ ফেস ইমব্যাংকমেন্ট’ নামের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে বাঁধ, সড়ক-মহাসড়ক কিংবা রেললাইন বড় মাত্রার ভূমিকম্পেও অক্ষত থাকবে। পাশাপাশি চলমান পদ্ধতিতে নির্মাণের তুলনায় আর্থিক ব্যয় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে আসবে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, এ প্রযুক্তি অনেক কৃষিজমি বাঁচিয়ে দেবে। মূলত দেশে নতুন সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণে দুই পাশের ব্যাপক কৃষিজমি নষ্ট হয়। ‘র‌্যাপ ফেস ইমব্যাংকমেন্ট’ প্রযুক্তি ব্যবহারে উঁচু বাঁধ বা রাস্তা নির্মাণে দুই পাশের জমির ব্যবহার অনেক কমে যাবে।

ইতোমধ্যে জাপান ও আমেরিকার শক্ত মাটিতে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহারে সফলতা মিলেছে বলেও জানা গেছে। তবে বাংলাদেশের মতো নরম মাটির দেশে এ প্রযুক্তি কার্যকর কি না তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তবে রিপন-আনসারি উদ্ভাবিত প্রযুক্তি নরম মাটিতেও বেশ কার্যকর। ইতোমধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তা প্রমাণিত হয়েছে।

  • সর্বশেষ - জাতীয়