, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

জামালপুরে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ইউএনওর স্বাক্ষর জালের অভিযোগ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

জামালপুরে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ইউএনওর স্বাক্ষর জালের অভিযোগ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুবকর তালুকদারের বিরুদ্ধে ইউএনও ও বিএডিসি কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালের অভিযোগ উঠেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে জানতে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী কিছু জানেন না বলে এড়িয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে সরিষাবাড়ী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাউসি উত্তরপাড়া গ্রামের সমেষ শেখের ছেলে রফিকুল ইসলাম একটি অগভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর দ্বারস্থ হন। পরে গ্রাহককে তিনি একটি আবেদন দিতে বলেন।

জানা গেছে, বিধিমোতাবেক উপজেলা সেচ কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রতিবেদন সাপেক্ষে পিডিবি গ্রাহককে সংযোগ দিয়ে থাকে। উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) এ দায়িত্ব পালন করেন। তবে পিডিবিতে আবেদনকারী রফিকুল ইসলামকে সেচ সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরিষাবাড়ী সেচ কমিটি না জানলেও নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর তালুকদার ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে অনুমোদন দেন।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে তড়িঘড়ি করে (ব্যাক ডেট) সংযোগ দেন তিনি। এক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর তালুকদার সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপমা ফারিসা ও বিএডিসি কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাকসুমুল হকের স্বাক্ষর জাল করেন।

এদিকে, ওই সংযোগটি ভিন্ন এক ব্যক্তির (পাশের মাদারগঞ্জ উপজেলার হাটবাড়ী গ্রামের জাফর আলী মণ্ডলের ছেলে সবুর আলী) নামে ছিল বলে জানা গেছে। তিনি একবছর আগে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করে সংযোগ নিয়েছিলেন। পরে সেই সংযোগটিই উৎকোচের বিনিময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পুনরায় রফিকুল ইসলামের নামে দিয়ে দেন।

এ বিষয়ে সবুর আলী  বলেন, তিনি গতবছর পিডিবির ক্ষুদ্রসেচ সংযোগটি নেন। এরপর বোরো ও আমন মৌসুমে অতিরিক্ত বিল আসায় তিনি সংযোগটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে চান। পরে পিডিবির সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে পল্লী বিদ্যুৎ থেকে নতুন সংযোগ নেন। কিন্তু এ সংযোগটি এখনো চালু থাকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

এ বিষয়ে রফিকুল ইসলা বলেন, এ কাগজগুলো অফিস থেকে আমাকে দেওয়া হয়েছে। কাগজগুলো কার নামে সেটা আমার জানা নেই। তবে কেউ কিছু বললে এ কাগজগুলো দেখানোর জন্য বলেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) মাকসুমুল হক জাগো নিউজকে বলেন, চলতি বছরে ২ ও ৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সেচ কমিটির দুটি সভা হয়। সভায় যথাক্রমে ১০২টি এবং ৬৪টি অগভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ওই কমিটির মিটিংয়ে রফিকুল ইসলামের নামে কোনো ধরনের সেচ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকী সে কীভাবে সংযোগ পেল সেটাও আমার জানা নেই।

এদিকে, উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপমা ফারিসা  বলেন, রফিকুল ইসলামের অনুমোদনের কাগজে থাকা ইউএনওর স্বাক্ষরটি তার নয়। এটা নকল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিএডিসির অফিসারের সঙ্গে কথা বলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সরিষাবাড়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ উপকেন্দ্রের (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর তালুকদার  বলেন, তার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

  • সর্বশেষ - মহানগর