, ২১ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

ভুল বিচারে সাজায় ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ভুল বিচারে সাজায় ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তি

ভুল বিচারে কোনো ব্যক্তির সাজা হলে খালাসপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন বলে এক হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (২৯ মে) গাজীপুরের ভাওয়ালে এক শিশু হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়ে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে উচ্চ আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন।

গাজীপুরে ভাওয়ালের শালবনে নিয়ে ছিন্নমূল এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামির খালাস দিয়ে গত ৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রায়ে মামলায় পুলিশ সদস্যরা কেন সাক্ষী দেননি, সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে আজ।

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে গত ৬ জানুয়ারি এ রায় দেন। ওইদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির, আসাদ উদ্দিন ও নোয়াব আলী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, বিচারিক আদালত শংকর দেবনাথ ও জাকির হোসেন নামের দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্ট দুই আসামিকে খালাস দেন। আজ ওই খালাসের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন আদালত।

লিখিত রায়ে আদালত বলেন, এখানে ‘মিসকারেজ অফ জাস্টিস’ হয়েছে। একইসঙ্গে আদালত মনে করেন রাষ্ট্রের কাছ থেকে এই খালাসপ্রাপ্ত নিরাপরাধ ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ এবং সঠিক পুনর্বাসন দাবি করতে পারবেন। তাই হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলেন, ভুল বিচারে সাজাপ্রাপ্ত হলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

ওই শিশু হত্যার ঘটনায় ২০০৫ সালের করা মামলায় শংকর চন্দ্র দেবনাথ ও মো. জাকির হোসেনকে ভুল বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ফলে উচ্চ আদালতে খালাস পাওয়া এ দুই ব্যক্তি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন এবং সরকারের কাছে পুনর্বাসন দাবি করতে পারবেন।

আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই শিশুর মাথা পাওয়া গেছে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায়। অথচ শরীর পাওয়া গিয়েছে গাজীপুর জয়দেবপুরের শালবনের ভেতরে। সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মাথাটি আনুমানিক ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর। অন্যদিকে শালবনের ভেতরে পাওয়া শরীরের অংশটি আনুমানিক ১৪ বছর বয়সী কোনো একজনের।

অন্যদিকে আইন অনুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ না করে দুই থেকে তিন পরে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা স্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন। এসব কারণে আদালত অভিমত দিয়েছেন যে ‘এটি একটি ভ্রান্তিমূলক বিচার’।

গত ৬ জানুয়ারি গাজীপুরে ভাওয়ালের শালবনে নিয়ে ছিন্নমূল এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামিকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

শিশু খুনের ঘটনায় ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুই আসামি মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে শংকর চন্দ্র দেবনাথ ও মো. জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম সাইফুল ইসলাম।

এরপর নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। অন্যদিকে খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করে আসামিপক্ষ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৯ এপ্রিল রাজধানীর শাজাহানপুর ওভারব্রিজের নিচ থেকে স্থানীয় জনতা একটি ব্যাগসহ শংকর ও জাকির আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তাদের ব্যাগে শিশুর কাটা মাথা জব্দ করে পুলিশ। রেলওয়ে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে বিচারিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানিতে তারা জানান, ছিন্নমূল ওই শিশুকে হোটেলে কাজ দেওয়ার কথা বলে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার শালবনে নিয়ে হত্যা করা হয়।

  • সর্বশেষ - অন্যান্য