, ১ ভাদ্র ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: আইসিএমএবি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: আইসিএমএবি

করোনা পরবর্তি ও অর্থনৈতিক মন্দার এ সময়ে প্রস্তাবিত বাজেটে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এ বিশাল বাজেট অর্জন সরকারের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)।

শনিবার (১১ জুন) দুপুরে রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে বাজেট প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশিদ।

এ সময় সংগঠনটি ব্যক্তিশ্রেনির করদাতার সর্বোচ্চ করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা এবং মহিলা ও ৬৫ বৎসরের ঊর্ধ্বে করদাতাদের সর্বোচ্চ করমুক্ত সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করে। অ্যাডভাইজরি, কনসালটেন্সি প্রফেশনাল, টেকনিক্যাল ইত্যাদি সার্ভিস ফি থেকে উৎসে আয়কর কর্তনকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গন্য করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া সিনিয়র নাগরিক যাদের আয়ের উৎস শুধুমাত্র পেনশন ও সঞ্চয়পত্রের সুদ তাদের রিটার্ন দেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানায় আইসিএমএবি।

প্রতিক্রিয়ায় মামুনুর রশিদ বলেন, খাদ্য ও নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা, শিল্পায়ন, ব্যবসা প্রসার ও পুঁজি বাজার উন্নয়ন, পোশাক খাতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া, পরিবহন শিল্প ও বিমান পরিবহন শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ এ খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রতিযোগি দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করপোরেট ট্যাক্স পুনর্গঠন ও বেসরকারি বিনিয়োাগকারীদের আস্থায় আনতে ধারাবাহিক কর নীতি ও ব্যক্তিগত করদাতাদের করের হার পুনর্গঠন করাও প্রয়োজন, যাতে স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠি স্বস্তি পায়।

এছাড়া এনবিআরের ডিজিটাইজেশন, ট্যাক্স রিফর্ম, মহিলা উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের প্রনোদনা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আরও প্রনোদনা দেওয়া, স্বাস্থ্য প্রনোদনা, স্বাস্থ্য ইন্সুরেন্স, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার সহজ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন মামুনুর রশিদ।

আইসিএমএবি প্রেসিডেন্ট বলেন, এ বছর মূসক আইনে অনেক বাস্তবমুখী ও ব্যবসা বান্ধব করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারপরও ব্যবসা সহজ, সচ্ছতা ও রাজস্ব বৃদ্ধি করার স্বার্থে আরও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। উৎসে কর্তৃত করকে হ্রাসকারী সমস্বয়ের জন্য পরবর্তী এক মেয়াদের পরিবর্তে তিন মেয়াদ করা হয়েছে। আমরা মনে করি সম্পূর্ণ অর্থ বৎসর পর্যন্ত সমন্বয়ের সুযোগ থাকা উচিত। যেহেতু অর্থ বৎসর শেষে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করা হয়।

তিনি বলেন, সঠিক ও স্বচ্ছ হিসাব ব্যবস্থা এবং রাজস্ব বাড়ানোর জন্য হিসাব বিবরণীতে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট কর্তৃক প্রত্যায়িত কস্ট অব গুডস সোল্ড বিবরণী থাকা উচিত। কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট কর্তৃক প্রত্যায়িত ইনপুট-আউটপুট কুইফিসিন্টের (৪ দশমিক ৩) ব্যবস্থা করা হলে সঠিক মূল্যের উপর মূসক আদায় হবে।

কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট কর্তৃক প্রত্যায়িত হলে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যতিত পন্য মূল্যের জন্য পুনরায় অডিট হবে না। এ ধারাটি কিছু ক্ষেত্রে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হোক বলে আহ্ববান করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট বলেন, অনেক মধ্যস্বত্ব ব্যবসায়ী পাইকারি ব্যবসা করেন। বাংলাদেশে ব্যবসায় বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে স্ট্যার্ন্ডাড হারে মূসক দেওয়া সম্ভব হয় না। তারা সাধারণত অল্প মুনাফায় (০ দশমিক ২৫ শতাংশ-১ শতাংশ হারে) অধিক পরিমাণে লেনদেন করে থাকেন। তাদের বাস্তব সম্মত রেট দিয়ে কর নেটে আনা উচিত। এতে মূসক খাতে রাজস্ব বাড়বে ও কর নেটও বাড়বে। মূসক ব্যবস্থা আরও বাস্তব ভিত্তিক হবে।

এ সময় ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক একেএম কামরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ আলী হায়দার চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ - অর্থ-বাণিজ্য