, ১ ভাদ্র ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

শ্রমিক সংকটে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে মালয়েশিয়া

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  প্রকাশ : 

শ্রমিক সংকটে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের সংকট পৌঁছেছে চরমে। সংকট এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে পণ্যের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকের অভাবে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলো। সোমবার (১৩ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসী শ্রমিকদের সংকটের কারণে পাম তেলের বাগান থেকে সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতারা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি অর্ডার নিচ্ছে না এবং এতে করে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থের বিক্রয় সুযোগ হারাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বর্তমানে দশ লাখেরও বেশি শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে এবং এতে করে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

রয়টার্স বলছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ বন্ধ ছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিদেশি কর্মীদের নিযোগের বিষয়ে থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেয় মালয়েশীয় সরকার।

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ, কোম্পানি ও কূটনীতিকরা বলছেন, এরপরও বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের অনুমোদন দিতে দেশটির সরকারের ধীরগতি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘ আলোচনার কারণে অভিবাসী কর্মীদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আর ফিরে আসতে দেখা যায়নি।

রপ্তানি-নির্ভর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এই দেশটি কারখানা পরিচালনা, বৃক্ষরোপণ এবং সেবা খাতের চাকরির জন্য লাখ লাখ বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে থাকে। কারণ এসব কাজকে মালয়েশিয়ার স্থানীয়রা নোংরা, বিপজ্জনক ও কঠিন বলে মনে করে এবং এগুলোতে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে নিজেদের দূরে রাখে।

মালয়েশিয়ার উৎপাদনকারীরা দেশটির অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। রয়টার্স বলছে, শ্রমিক সংকটের কারণে তারা এখন প্রবৃদ্ধি বাড়ার সাথে সাথে অন্যান্য দেশের গ্রাহকদের হারানোর আশঙ্কা করছেন।

সাড়ে তিন হাজারের বেশি কোম্পানির প্রতিনিধিত্বকারী ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স’র প্রেসিডেন্ট সোহ থিয়ান লাই বলেছেন, ‘বিক্রয় বৃদ্ধির বৃহত্তর আশাবাদ সত্ত্বেও কিছু কোম্পানি তাদের অর্ডার পূরণ করার ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

তেল পাম উৎপাদনকারী ইউনাইটেড প্ল্যান্টেশনের (ইউটিপিএস.কেল) প্রধান নির্বাহী পরিচালক কার্ল বেক-নিয়েলসেন বলেছেন, পাম তেল উৎপাদনকারীরা এখন খুব চাপে আছেন। তার ভাষায়, ‘পরিস্থিতি এখন ভয়ানক এবং অনেকটা এমন যে, আমাদেরকে এখন ফুটবল খেলতে হবে, কিন্তু ১১ জনের বিপরীতে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে কেবল ৭ জনকে।’

শিল্প ও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন, বৃক্ষরোপণ ও নির্মাণখাতে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১২ লাখ শ্রমিকের অভাব রয়েছে। এছাড়া করোনা মহামারির প্রকোপ কমে যাওয়ার সাথে সাথে শ্রমিকদের চাহিদা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শ্রমিক ঘাটতির প্রতিদিনই অবনতি হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার উৎপাদনখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাদের সেক্টরে ৬ লাখ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে, নির্মাণখাতের জন্য সাড়ে ৫ লাখ কর্মী প্রয়োজন, পাম তেল শিল্পে ১ লাখ ২০ হাজার শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে চিপ নির্মাতারা বলছেন, তাদের ১৫ হাজার কর্মীর সংকট রয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী চিপের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও তারা চাহিদা মেটাতে পারছেন না। এছাড়া পৃথকভাবে আরও ১২ হাজার কর্মীর প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মেডিকেল গ্লোভ নির্মাতারা।

  • সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক