ময়মনসিংহ, , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

ক্ষুধার কষ্টে হিজড়ারা

  অনলাইন ডেস্ক

  প্রকাশ : 

ক্ষুধার কষ্টে হিজড়ারা
ফাইল ছবি

চলমান সাধারণ ছুটির জেরে হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষগুলো আরো অসহায় হয়ে পড়েছেন। চেয়েচিন্তে দিন পাড় করা এই মানুষগুলোর খোঁজ নেওয়ার যেন কেউ নেই। বিচ্ছিন্নভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু মানুষ ও প্রতিষ্ঠান তাদের পাশে দাঁড়ালেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

বাড্ডার নতুনবাজার এলাকার খন্দকার গলির মাথায় একসঙ্গে আট জন হিজড়া একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। তাদের এক জন শোভা। ভাটারা এলাকায় একটি চায়ের দোকান আছে তার। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ১০ দিনের সাধারণ ছুটিতে তার দোকানটিও বন্ধ রয়েছে। কয়েক দিনের খাবার তিনি কিনে রেখেছিলেন। সেই খাবারও শেষ। এখন পর্যন্ত কেউ তাদের খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেননি বলে জানান শোভা।

তিনি জানিয়েছেন, ‘আমাদের কেউ খোঁজ নেয়নি। একটি দোকান করে দিয়েছিলেন ডিআইজি হাবিবুর রহমান। সেটিও বন্ধ রয়েছে। কবে খুলব, তাও কেউ কিছু বলছে না। বাসায় যে জিনিসপত্র ছিল তাও শেষ। মঙ্গলবার দুপুরে একজন নারী অল্প কিছু চাল দিয়ে গেছেন। সেটাই রান্না করে খাব। আমাদের দেখার কেউ নেই।’

সরকারের সহযোগিতা চেয়ে শোভা বলেন, ‘কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা এবং ভাটারা এলাকায় অন্তত ২৫০ জন হিজড়া থাকেন। এছাড়া শ্যামপুর, মিরপুর ও মগবাজারে অনেক হিজড়া রয়েছেন। যাদের খবর কেউ নিচ্ছে না। সরকার পাশে না থাকলে আমরা কীভাবে বাঁচব?’

হিজড়াদের মানবাধিকার ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (বন্ধু)। প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার উম্মে ফারহানা জারিফ কান্তা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে হিজড়া সম্প্রদায়কে জেলা প্রশাসকদের দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছি। জেলা প্রশাসকরা তাদের সাহায্য করবেন। বরিশালে এরই মধ্যে ৫০ জন হিজড়াকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকেও প্রক্রিয়া চলছে, দুই-এক দিনের ভেতরে তাদের সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হবে। ব্যক্তি উদ্যোগে হিজাড়াদের সাহায্য করতে অর্থবানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।’

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রায় অর্ধযুগ আগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ১০ হাজার হিজড়া রয়েছে। তবে হিজড়া সংগঠনগুলোর দাবি, এ সংখ্যা অর্ধ লক্ষাধিক।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ