, ৪ ভাদ্র ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল আবারও চেয়ারম্যান নিযুক্ত

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল আবারও চেয়ারম্যান নিযুক্ত

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহে প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল আবারও চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ১৪ জুন (মঙ্গলবার) ৩৭.০০.০০০০.০৬৭.০২.০১১.২০১৩(অংশ-২)-১৭৫ স্মারকে উপ-সচিব (কলেজ-২) চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত আদেশে ড. কামালকে পুনরায় চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। চাকরির মেয়াদ (০৯-০১-২০২৪) পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। মঙ্গলবার বিকালে নিয়োগ আদেশ জারি করা হলেও বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ায় প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী, শিক্ষা সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবেন বলে তিনি বৃহস্পতিবার দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমি দায়িত্ব পালন করে আসছি। সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল এবং শিক্ষা পদ্ধতিকে আরও সহজ করার জন্য সকলকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। অন্যদিকে প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায়, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) নেতৃবৃন্দ, বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ক্যারিশম্যাটিক প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামালের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।


জানা যায়, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে চেয়াম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবরে বুধবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ফুল নিয়ে বোর্ড অফিসে ছুটে যান। বৃহস্পতিবারও অনেক শিক্ষক তাদের প্রিয় চেয়ারম্যানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি শিক্ষকদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। ড. কামাল ৩১-১২-২০১৭ তারিখ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহে প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। এর আগে ২৮-০৮-২০১৭ তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের ১১ তম ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড অনুমোদন দেয়। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ তম ব্যাচের মেধাবী ও কর্মঠ প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল ময়মনসিংহ নগরীর স্বনামধন্য আনন্দমোহন সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন ভাইস প্রিন্সিপাল ছিলেন। তিনি ইকোনোমিক্স-এর প্রফেসর। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফায় আমার জন্য এ দায়িত্ব খুবই সম্মানের। এটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমি চীর কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, আমি সব সময় সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে চাই। ড. কামাল বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আজীবন সদস্য। ময়মনসিংহ বিভাগের পক্ষে দেশ-বিদেশের সেমিনারে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ মুসলিম ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক। ড. কামাল মানবিক এবং ক্যারিশম্যাটিক একজন মানুষ। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখছেন প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল।


সূত্র জানায়, নিজস্ব ভবন, আর্থিক বরাদ্দ, আসবাবপত্র এবং লোকবল ছাড়াই ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহের যাত্রা শুরু হয়। নিজের মেধা এবং অক্লান্ত শ্রম দিয়ে বোর্ডের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যান প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল। অন্তহীন সমস্যা এবং নানান ষড়যন্ত্র পেরিয়ে ময়মনসিংহকে দেশের অন্যতম সেরা বোর্ডে পরিণত করেন ড. কামাল। এই বোর্ডের শিক্ষার্থীদের অসামান্য অবদানে প্রধানমন্ত্রী নিজেও অভিভূত। প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল ১৯৬৫ সালের ১০ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলা সদরে জন্মগ্রহণ করেন। টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৩ সালে আনন্দমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি আনন্দমোহন কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করেন। ১৯৮৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনন্দমোহন কলেজ এবং ১৯৮৭ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. কামাল মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে (আইএইচএসএস) এমএস করেন। ১৯৯৩ সালে সরকারি সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের (১৪ তম বিসিএস) সদস্য হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া কলেজে অর্থনীতির লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। সততা, নিষ্ঠা, কর্ম দক্ষতা এবং আন্তরিকতার কারণে ২০০১ সালে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ২০০৫ সালে এসোসিয়েট প্রফেসর এবং ২০১৩ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন।


প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের গর্বিত সদস্য। ২০০৮ সালে আইবিএস থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তার থিসিসের শিরোনাম ‘বাংলাদেশে প্রধান কৃষি পণ্যের সরবরাহ প্রতিক্রিয়া; একটি সমন্বিতকরণ এবং ত্রুটি সংশোধন মডেলিং পদ্ধতি’। আনন্দমোহন কলেজে অর্থনীতি বিভাগের প্রধান এবং উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তিনি ৪ বার শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে আনন্দমোহন কলেজের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে চমৎকার অনুষ্ঠান আয়োজন ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন। ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি আনন্দমোহন কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এনএইএম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং ডিএসএইচই থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামালের ৪টি গবেষণা প্রবন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সহপাঠ্যক্রমিক ক্রিয়াকলাপ পছন্দ করেন এবং গুরুত্ব দেন। শিক্ষা জীবনে কাব স্কাউট এবং রোভার স্কাউটের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ অঞ্চলে বাংলাদেশ স্কাউটের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. কামাল সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকতে ভালোবাসেন। ময়মনসিংহ নগরীর বাউন্ডারি রোডের ময়মনসিংহ ওয়েলফেয়ার স্কুল (বিশেষ শিশুদের জন্য) একটি উদাহরণ। প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল বিভিন্ন সময় নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত সফর করেন। বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় তিনি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা চালান।


  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর