, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

জিয়া, খালেদার জন্ম এ দেশে না: প্রধানমন্ত্রী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

জিয়া, খালেদার জন্ম এ দেশে না: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া কারো জন্মই এ দেশে না। এজন্য বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি তাদের টান নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন এই দেশের। আমার জন্মও এই মাটিতে। কাজেই মাটির টান আলাদা। এখানে আমাদের নাড়ির টান। কাজেই এ দেশের মানুষের ভাগ্য গড়াটাই আমাদের লক্ষ্য। সেজন্যই আমরা কাজ করি। আওয়ামী লীগের আদর্শই হচ্ছে জনগণের সেবা করা।’

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা আমাদের। আমি যতটুকু চিনি- জানি, দেশের মানুষ ও মানুষের কল্যাণ আওয়ামী লীগ যতটা বুঝবে, অন্যরা তা বোঝে না। বুঝবে কী করে? বিএনপির হৃদয়ে তো থাকে পাকিস্তান। তাদের মনেই আছে পাকিস্তান। কাজেই এই যাদের মানসিকতা তারা তো বাংলাদেশের কোনো ভালো চাইবে না, এটা খুব স্বাভাবিক। এটা নিয়ে আপনাদের এত দুঃখ, চিন্তা করার কিছু নেই। আর ওদের কথা যত না বলা যায়, ততই ভালো। কারণ, ওরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করে না। বরং, এগুলো সবগুলোকে গাট্টি বেন্ধে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিলেই ভালো হয়।’

‘পাকিস্তানে এখন যে অবস্থা, ওখানেই তারা ভালো থাকবে। এখনো লাহোরে সোনার দোকানে খালেদা জিয়ার বড় ছবি আছে। ওই দোকানের সোনার গয়না তার খুব প্রিয়। তাদের মানসিকতা ওই দিকেই, আমাদের বাংলাদেশের জন্য না। তবে, এটাও ঠিক, এদের জন্ম তো বাংলাদেশে না। না জিয়ার জন্ম বাংলাদেশ, না খালেদা জিয়ার জন্ম। কারো জন্মই বাংলাদেশে না।’

দুর্নীতির দায়ে বিএনপি শীর্ষ দুই নেতার সাজাপ্রাপ্তির বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নেতৃত্বশূন্য কোনো দল নির্বাচন করবে! জনগণ তাদের ভোট দেবে কী দেখে? জনগণ তো তা দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন।’

‘তারা জানে, আওয়ামী লীগ এবং নৌকা মার্কা। আর নৌকার যে প্রয়োজন, এবার বন্যায়ও তো নৌকার জন্য হাহাকার। কাজেই নৌকা ছাড়া তো গতি নেই, এটাও মনে রাখতে হবে। আওয়ামী লীগ তার জন্মলগ্ন থেকেই মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীনতাই শুধু এনে দেয়নি, স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে জনগণ উপলব্ধি করেছে, সরকার জনগণের সেবক। ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করেছি। জনগণ বারবার আমাদের ভোট দিয়েছে। সেই ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা বারবার এসেছি। একটা দীর্ঘ সময় হাতে পেয়েছি। তাই, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে।’

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি যখন অংশগ্রহণ করেছিল, তখন তারা নমিনেশন দিয়েছিল কিভাবে? এখান থেকে আমাদের ফখরুল ইসলাম সাহেব একটা দেয়, রিজভী সাহেব একটা দেয় আর লন্ডন থেকে তারেক জিয়া আরেকটা দেয়। সকালে তাদের এক ক্যান্ডিডেটের নাম যায়, দুপুরে যায় আরেকজনের। তারপর যায় আরেকজনের নাম।’

‘তাদের অন্তত দুইজন আমাকে নিজের মুখে বলে গেছে, এনাম আহমেদ চৌধুরী এবং মোর্দেশ খান, তারা বলেছে, তারেক জিয়া তাদের কাছে টাকা চেয়েছে। এমন এক অ্যামাউন্ট চেয়েছে; তারা বলেছে, আমরা দিতে পারব না। তাদের মনোনয়ন ক্যান্সেল। সেজন্য তারা নির্বাচনই করেনি। নির্বাচনে যখন তারা বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছে, সেই নির্বাচনে তারা ভোটই বা কি আর নির্বাচন করবেই বা কি?’

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী মন্দার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। এর ভয়াবহতার কারণে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। শুধু আমাদের নয়, বিশ্বব্যাপী। সমগ্র বিশ্বেই খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারপরও আমরা কিন্তু আমাদের অর্থনীতির গতিটা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। বাজেটও আমরা দিয়েছি।’

এ সময় কোনো জমি যাতে অনাবাদী না থাকে সেদিকে দৃষ্টি দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বন্যা কিন্তু এখানেই থামবে না। এই পানি আস্তে আস্তে নিচে যত নামতে থাকবে ধীরে ধীরে একেকটা এলাকা প্লাবিত হবে। এটা প্রকৃতির সাথে জড়িত। এটা কিন্তু ভাদ্র মাস। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে। কাজেই আমাদের সেই প্রস্তুতিও রাখতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীরা সবাই প্রস্তুত থাকবে।’

দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটাই কিন্তু আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক। জনগণের পাশে থাকে। এই আদর্শই আমাদের জাতির পিতা শিখিয়েছেন। এটা নিয়েই আওয়ামী লীগ চলবে।’

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ - রাজনীতি