, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিন বিএনপির হরতাল দেওয়ার সাহস নেই’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিন বিএনপির হরতাল দেওয়ার সাহস নেই’

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিন বিএনপির হরতাল দেওয়ার সাহস নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

শুক্রবার (২৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট এবং অর্থনৈতিক গতিধারা’ শীর্ষক এক সেমিনারে ‘যমুনা সেতুর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের দিন আওয়ামী লীগ হরতাল ডেকে ছিল’— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এমন বক্তব্যের জবাবে এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এ সেমিনারের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর সঙ্গে জনগণের স্বপ্ন এবং অভিলাষ জড়িয়ে আছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে বিগত ১৫ বছর ধরে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সরকারই দেশের মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ছিল বাংলাদেশের। এমনকি ভারত ও চীনের চেয়েও এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। কিন্তু এটি কেবল মাত্র একটি খসড়া বাজেট। এ বাজেট নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হবে। তারপর এটি সংসদে পাস হবে।

সেমিনারে বর্তমান সরকারকে কর্তৃত্বপরায়ণ এবং অনির্বাচিত সরকার দাবি করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি রাষ্ট্রে যখন রাজনীতিকরণ অর্থনীতিকে গ্রাস করে ফেলে তখনই সরকার কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে যায়। এতে জনগণের কথা বলার সুযোগ থাকে না।

তিনি বলেন, বাজেটে সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি জনসেবামূলক খাতগুলোতে প্রবৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে। যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এ খাতগুলো এখন অবহেলিত।

বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকার বার বার নাশকতার কথা বলছে। যমুনা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন আওয়ামী লীগ হরতাল ডেকেছিল। বিএনপি তো হরতাল ডাকেনি পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিন। তাহলে নাশকতা কোথায় এখানে?। এ সরকার নিজেদের লোকজনের সুযোগ সুবিধার নিশ্চিতের জন্য ‘রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ করেছে।

সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারপারসন এবং অর্থনীতিবিদ ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা, তারা অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন না।

একটি নিবর্তনমূলক আইনের কারণে জনপ্রতিনিধিরা সংসদীয় পদ্ধতিতে সরাসরি অংশ নিতে পারেন না। ফলে বাজেট প্রস্তাবনায় কেবলমাত্র অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত প্রতিফলিত হয়, জনপ্রতিনিধিরা সক্রিয় মতামত দিতে পারেন না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, বর্তমানে দেশে রাজনীতি অর্থনীতিকে ছাপিয়ে উঠেছে। ফলে বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট হচ্ছে না। এমনকি বছরের নির্দিষ্ট এ সময়টুকু ছাড়া সারাবছর বাজেট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। সম্পূরক বাজেট নিয়ে কেউ কথা বলছে না, যেটি কিনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পদ্মা সেতুর টোলের দায়িত্ব বাইরের দেশের একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে জনগণের আয়ের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে চলে যাবে। এসব বিষয় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনা করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, যেকোনো সংকট সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। বাংলাদেশ বর্তমানে এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। এজন্য আয় বাড়াতে হবে। সেইসঙ্গে লোকবল বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা আরও বেশি রাজস্ব আয় করতে পারি।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। তিনি শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে সার্টিফিকেটমুখী না করে বাস্তবমুখী করতে হবে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি আবদুল হক বলেন, দেশে অপরিকল্পিত উন্নয়ন হচ্ছে। দেশে রাজস্ব ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু আয় কমছে। এ ব্যয় কমানোর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। সেইসঙ্গে রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব। তিনি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জনগণের উপস্থিতি এবং মালিকানা নিশ্চিতের প্রতি জোর দেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারপারসন এবং অর্থনীতিবিদ ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

আলোচনায় আরও অংশ নেন- ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী, বারভিডার সাবেক সভাপতি আবদুল হক, উইমেন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এবং বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পারভেজ করিম আব্বাসি প্রমুখ।

  • সর্বশেষ - রাজনীতি