, ৪ ভাদ্র ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

মোবাইল হারানোর অজুহাতে নাতনিকে আছাড় মারেন দাদি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

মোবাইল হারানোর অজুহাতে নাতনিকে আছাড় মারেন দাদি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মোবাইল হারানোর অভিযোগে এক শিশুকে (৭) গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে দাদি মনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ৷

গত শনিবার (২৫ জুন) রাতে নির্যাতনের শিকার শিশুর মা বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার ভিত্তিতে ওই রাতেই পুলিশ শিশুর দাদি মরিয়ম বেগমকে গ্রেপ্তার করে।

রোববার (২৬ জুন) সকালে নির্যাতনের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ভাইরাল হয়। পরে শিশুর মা মামলা করলে পুলিশ মনোয়ারাকে গ্রেপ্তার করে।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার দেউলা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আটক মনোয়ারা বেগম ওই এলাকার মো. ইউনুসের স্ত্রী। তিনি তানিশার দাদি ৷

শিশুর মা বলেন, ছয় বছর আগে তার (শিশু) বাবা মো. হারুনের সঙ্গে আমার বিবাহবিচ্ছেদ হয় ৷ এরপর থেকে সে আমার সঙ্গে আমার বাবার বাড়িতে থাকত ৷ দুই মাস আগে মেয়ের দাদি মনোয়ারা বেগম ভরণপোষণ দেবেন বলে নাতনিকে নিতে আসেন। আমিও ভবিষ্যতের কথা ভেবে মেয়েকে পাঠাই। কিছুদিন পর থেকে শুনতে পাই বিভিন্ন অজুহাতে তিনি আমার মেয়েকে নির্যাতন করেন।

তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় মোবাইল হারানোর অজুহাতে মেয়ের মাথার চুল ধরে এলোপাতাড়িভাবে মাটিতে আছাড় মারতে থাকেন মনোয়ারা। লোহার প্লাস দিয়ে তার ডান হাতের আঙুল টেনে রক্তাক্ত জখম করেন। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিনভর মারতে থাকেন।

এ সময় স্থানীয়রা এ ঘটনার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। পরে আমাকে খবর দিলে আমি গিয়ে বাঁধা অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। সে এখন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন ফকির জানান, মোবাইল ফোন হারানোর অভিযোগে শিশুকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত মনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে ৷

  • সর্বশেষ - সারাদেশ