, ৪ ভাদ্র ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

এশীয় ন্যাটো খুলছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  প্রকাশ : 

এশীয় ন্যাটো খুলছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন সরকারকে উচ্ছেদ করতে সামরিক জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) আদলে এশীয় সামরিক জোট খুলছে বলে অভিযোগ করেছে উত্তর কোরিয়া। রোববার এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শনিবার উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সে চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়াকে ঠেকাতে প্রয়োজনে দক্ষিন কোরিয়াকে সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এই চুক্তির পরদিনই প্রকাশ করা সেই বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘নির্লজ্জভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এশীয় ঘরানার ন্যাটো প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ নিল।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের ‘কূটনৈতিক যোগাযোগ’ ও ‘শর্তহীন আলোচনার. কথাগুলো যে ভণ্ডামি এসব মহড়া তা প্রমাণ করছে, একইসঙ্গে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা যে যুক্তরাষ্ট্র এখনও ছাড়েনি তাও উন্মোচিত করেছে।’

চার বছরেরও বেশি সময় পর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে সামরিক মহড়া করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববারের বিবৃতিতে এই বিষয়টিকে ‘এশীয় ন্যাটো’ গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

চলতি বছর কয়েকদফা বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালানো উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ব্যাপারে রোববারের বিবৃতিতে কিছু বলেনি, তবে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছেম যুক্তরাষ্ট্রের বৈরি নীতিই তাদেরকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে ধাবিত করেছে।

‘বাস্তবতা আমাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডকে দমিয়ে রাখার জন্য আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জালানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিয়েছে।’

উত্তর কোরিয়া যেন তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বিসর্জন দেয়, সেজন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংকে একাধিকবার ‘যে কোনো সময় শর্ত ছাড়া আলোচনায়’ বসার প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়া সেসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির একদিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট সুক-ইয়ল স্পেনে হতে যাওয়া নেটো সম্মেলনে যোগ দিতে দেশ ছেড়েছেন। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্ট কখনোই নেটো সম্মেলনে যোগ দেননি।

এবারের সম্মেলনে ন্যাটোর ৪টি ‘সহযোগী’দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়া বাকি তিন দেশ হচ্ছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড।

ন্যাটোর সঙ্গে মিলে বৈশ্বিক নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা পালনে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া ন্যাটোর ব্রাসেলস সদরদপ্তরে একটি প্রতিনিধিদল রাখার কথা ভাবছে বলে গত সপ্তাহে বলেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

সূত্র: রয়টার্স

  • সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক