, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

শিগগিরই শিশুদের করোনার টিকা দেওয়া হ‌বে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

শিগগিরই শিশুদের করোনার টিকা দেওয়া হ‌বে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও প‌রিবার কল্যাণমন্ত্রী জা‌হিদ মা‌লেক বলেছেন, করোনা থেকে সুরক্ষায় শিগগিরই ৫-১১ বছরের শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। এ বিষ‌য়ে কিছুদিন আগেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন ছিল না। এখন আমরা অনুমোদন পেয়েছি। শিশুদের উপযোগী টিকাও আমাদের হাতে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা) আয়োজিত ‘সার্টিফিকেট কোর্স অন নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার’ শীর্ষক কোর্সের উদ্বোধনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলনে। এসময় ২০ জন শিক্ষার্থীর হা‌তে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি পরিসংখ্যান বলছে; দেশে ৫-১১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা দুই কোটি ২০ লাখ। এসব শিশু‌দের জন্ম সনদ দিয়ে সুরক্ষা অ্যাপে তা‌দের অভিভাবক টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে। যারা এখনো তার সন্তা‌নের টিকার জন্য নিবন্ধন করেন‌নি, সেসব অভিভাবকদের অনুরোধ করবো দ্রুত নিবন্ধন কর‌তে।

জাহিদ মালেক ব‌লেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে দেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। স্বাস্থ্যের উন্নয়ন কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নও হচ্ছে। টিকায় আমরা অবিস্মরণীয় ভূ‌মিকা রাখ‌তে পে‌রে‌ছি। আমরা শিশু মৃত্যুর হার কমিয়েছি।

তিনি জানান, আমরা ঢাকায় দেশের সর্ববৃহৎ বার্ন ইনস্টিটিউট করেছি। আটটি বিভাগে আলাদা ক‌রে বার্ন ইউনিট করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই পাঁচটি বিভাগে কাজ শুরু হয়েছে। সব বিভাগে ক্যান্সার, হৃদরোগসহ আটটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হ‌য়ে‌ছে। কালাজ্বর, কলেরা, ডায়রিয়া, সবকিছুই এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এক সময় ডায়রিয়া ও ক‌লেরায় গ্রামের পর গ্রাম মানুষ মারা যেত। বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু বে‌ড়ে ৭৩ বছর করা হয়েছে।

দেশে আগে বাইপাস সার্জারি হতো না, এখন অহরহ হচ্ছে। ট্রান্সপ্লান্ট হতো না, এখন হচ্ছে। আগে আমরা ওষুধ আমদানি করতাম, এখন রপ্তানি করি। টিকা তৈরির পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে গোপালগঞ্জে জায়গা নিয়েছি। সেখানেই সকল টিকা উৎপাদন করা হ‌বে ব‌লেও জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক‌্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা আরও এগিয়ে যাক। অর্থসহ যতো সহযোগিতা দরকার, সব আমরা দেব। বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল রেডি হয়ে আছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আমরা উদ্বোধন করব, প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। এটি দেশের সবচেয়ে ভালো হাসপাতাল হবে আশা করি। 
মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে রোগীরা যেন ভালো সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কোনও রোগীই যেন দেশের বাইরে না যায়। করোনায় কেউই বাইরে যেতে পারেনি। এতে আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক‌্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহীন আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, শিশু নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুন্ডু প্রমুখ। 

  • সর্বশেষ - জাতীয়