, ২১ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

করোনা যুদ্ধের ‘অগ্রনায়ক’ মসিক মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু করোনা আক্রান্ত

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

করোনা যুদ্ধের ‘অগ্রনায়ক’ মসিক মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু করোনা আক্রান্ত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা করোনা যুদ্ধের ‘অগ্রনায়ক’ নগরবাসীর প্রিয় মানুষ মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা, অসহায় ও দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণে রেকর্ড সৃষ্টি করা টিটু কালীবাড়ি কবরখানার বাস ভবনে আইসোলেশনে আছেন। জীবন বাজি রেখে যিনি টানা ২ বছর করোনা মোকাবিলায় কাজ করলেন তিনিই আজ করোনা আক্রান্ত। মঙ্গলবার (২৮ জুন) দুপুরে তার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। সোমবার রাত থেকে তিনি অসুস্থ অনুভব করছিলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি টিম নমুনা সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিক পরীক্ষার পর করোনা পজেটিভ রিপোর্ট প্রদান করে। তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আইসোলেশনে থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন এবং খাবার গ্রহণ করছেন। মেয়র টিটু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করা, সব সময় মাস্ক পরা, প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় (বুস্টার) ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ ইকরামুল হক টিটু করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর জানাজানি হলে তার বিপুল সংখ্যক সমর্থকসহ সর্বস্তরের মানুষ স্তব্ধ হন। মেয়রের করোনা আক্রান্তের খবর ব্যাপকভাবে স্থান পায় ফেসবুকের নিউজ ফিডে। টিটু’র সুস্থতা কামনায় নগরীর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দোয়া মাহফিল অব্যাহত রয়েছে। আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করছেন। বৃহস্পতিবার সিটি কর্পোরেশনের সভায় মেয়র টিটু’র সুস্থতার জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মেয়রের সুস্থতার জন্য শুক্রবার সকালে পন্ডিত বাড়ি শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ণ বিগ্রহ মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। মন্দির কমিটির সভাপতি দীপক মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব সরকার বিল্লুসহ ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর নগরীর বিভিন্ন মসজিদে মেয়র টিটু’র জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

করোনা আক্রান্ত মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু বৃহস্পতিবার সকালে ১৭ তম কর্পোরেশন সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি ছিলেন। শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করে তিনি দীর্ঘ সময় সভায় যুক্ত থাকেন। এ সময় তিনি সবার বক্তব্য শোনেন এবং দিকনির্দেশনা দেন। মেয়র টিটু সদ্য উদ্বোধন হওয়া পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বপ্নের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতায় মহান এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। সূত্র মতে, করোনা যুদ্ধে ‘অগ্রনায়ক’ উপাধি পাওয়া মেয়র টিটু নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে চালু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ খাদ্য কর্মসূচি। প্রায় ৭৫ হাজার পরিবার এই সহযোগিতা পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি পরিবার মানবিক সহায়তা ও ১৮ হাজার পরিবার বিশেষ ওএমএস কার্ড পেয়েছিলেন। সরকারি প্রায় ১ লাখ, মেয়রের ব্যক্তিগত তহবিলের ৫৫ হাজার এবং সংগ্রহ করা সাড়ে ৫ হাজার ব্যাগ খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ-এর দেড় হাজার এবং চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি সিআইপি আমিনুল হক শামীমের ৪ হাজার ব্যাগ খাদ্যপণ্য ছিলো। লকডাউন দীর্ঘ হওয়ায় বহু পরিবার একাধিকবার খাদ্যপণ্য পান। মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী পুরুষ ও নারী কাউন্সিলররা তালিকা তৈরী করে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণের চাল, ডাল ও আলু বিতরণ করেন। অন্যদিকে মেয়রের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, মৎস্যজীবি লীগ, তাঁতী লীগ, পেশাজীবি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা এবং স্বেচ্ছাসেবকরা ওয়ার্ডভিত্তিক অসহায়দের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করেন। লোক লজ্জায় থাকা হাজার হাজার মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছেও খাদ্যপণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন মানবিক মেয়র টিটু।

জানা যায়, করোনা মহামারীতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস ও স্যানিটাইজার, নাগরিকদের মধ্যে মাস্ক, গ্লাভস ও স্যানিটাইজার বিতরণ এবং বিভিন্ন এলাকায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেন মেয়র টিটু। মসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সুরক্ষার জন্য দেওয়া হয় পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে কয়েক দফায় পাওয়া ৫০০ টনের বেশি চাল, ৫০ টনের বেশি ডাল ও ১০০ টনের বেশি আলু উপহার হিসেবে হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়। মেয়র টিটু ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫৫ হাজার ব্যাগ খাদ্যপণ্য বিতরণ করেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ফুলপুর-তারাকান্দা আসনের এমপি শরীফ আহমেদ-এর কাছ থেকে পাওয়া দেড় হাজার ব্যাগ খাদ্যপণ্য অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করা হয়। প্রতিমন্ত্রী মেয়র টিটুকে সাথে নিয়ে টাউন হলে খাদ্যপণ্যের ব্যাগগুলো বিতরণ করেন। চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি সিআইপি আমিনুল হক শামীমের কাছ থেকে পাওয়া ৪ হাজার ব্যাগ খাদ্যপণ্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অভিন্ন বক্তব্যে নাগরিক নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে মেয়র টিটু সময় মতো অসহায় নাগরিকদের পাশে না দাঁড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হতো। তিনি অল্প সময়ের মধ্যে হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের খাদ্যপণ্য বিতরণ করেন। নেতারা আরও বলেন, টিটু মহানুভব মানুষ। নগরীর হাজার হাজার পরিবারের হাহাকার মিটিয়ে তিনি করোনা যুদ্ধের ‘অগ্রনায়ক’ এবং দেশের অন্যতম ‘শীর্ষ জনপ্রতিনিধি’র উপাধি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

সূত্র জানায়, মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু একজন স্বাপ্নিক মানুষ। সেবার মানসিকতা ও নতুন নতুন কনসেপ্ট বাস্তবায়ন করে বদলে দিয়েছেন নগরীর দৃশ্যপট। সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের মধ্যে যেক’জন আলোচিত টিটু তাদের একজন। ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প, ক্লিন ইমেজ, বিচক্ষণতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি সকলের নজর কেড়েছেন। মানুষ যখন প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের অজানা আশঙ্কায় তখনও সড়কে অবস্থান করেন মেয়র টিটু। নিজে উপস্থিত থেকে জীবাণুনাশক ও ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানি ছিটানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন রাখেন প্রধান সড়ক ও ওয়ার্ডগুলোর সড়কসহ অলিগলি। জীবন বিপন্ন হতে পারে জেনেও নাগরিকদের জন্য কাজ করে যাওয়ার বিষয়টিকে মহানুভবতার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিয়েছেন ময়মনসিংহবাসী। তিনি শুভাকাঙ্খীদের সাবধানতার বিষয়টিও মাথায় নেননি। নাগরিকদের কল্যাণে জীবন বাজি রেখে নগরী ঘুরে সিটি কর্পোরেশন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের অর্ধশত টিমের কাজ তদারকি করেন। মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব এবং বিভিন্ন এজেন্সির সাথে সমন্বয় করেন করোনা পরিস্থিতিতে করণীয়। মেয়র টিটু সম্পর্কে নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে বলেন, নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে টিটু নগরবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সকলের প্রিয় এই মানুষ জীবন বাজি রেখে নাগরিক সুরক্ষার জন্য কাজ করেন। তিনিই আজ করোনা আক্রান্ত। দ্রুত তার সুস্থতা কামনা করছি। তিনি বলেন, এ যুগে মেয়র টিটু’র মতো জনপ্রতিনিধি পাওয়া দৃষ্টান্ত। নিঃসন্দেহে তিনি মহানুভব।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ এবং জনসচেতনতার জন্য অক্লান্ত শ্রম দিয়েছেন মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নাগরিকদের জন্য কাজ করায় তিনি ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন। দাগ কেটেছেন কোটি মানুষের হৃদয়ে। অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি ও নেতারা যখন লকডাউনের নামে বাড়িতে তখন আক্রান্তের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে তিনি নিরলসভাবে সেবা দিয়েছেন। এ কারণে তাকে দেশের অন্যতম ‘শীর্ষ জনপ্রতিনিধি’ উপাধি দিয়েছেন ময়মনসিংহবাসী। নগরবাসী অকপটে স্বীকার করেন তার মহানুভবতার কথা। নানান কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি টিটু নগরবাসীর খুবই প্রিয়। সুনাম অর্জন করেছেন করোনা মহামারীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে। মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে কাঁচা বাজার স্থানান্তর করেন। কাঁচা বাজার স্থানান্তরের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ময়মনসিংহ থেকে। বস্তি ও ঘনবসতি এলাকায় কাজ করে সিটি কর্পোরেশনের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প। জনসচেতনতার জন্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয় নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে। ১৯ হাজার ৬১১ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয় সাবান এবং সুরক্ষা সামগ্রী। অতিদরিদ্র ৪ হাজার ৭৫৫ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয় ১ হাজার ৫০০ করে টাকা। ৯৪টি সিডিসির হাত ধোয়ার পয়েন্টে বিতরণ করা হয় সাবান।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সব সময় ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক। তিনি ময়মনসিংহবাসীকে বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন উপহার দিয়েছেন। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের জন্য পর্যায়ক্রমে একাধিক প্রকল্প উপহার দেন। অনেক প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়। ময়মনসিংহবাসী তাঁর কাছে চীর কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী সড়ক ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য ১৬০০ কোটি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ১১২ কোটি টাকার প্রকল্প দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সক্ষমতার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ নগরী বিনির্মাণে প্রকল্পগুলো মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, মেয়র টিটু ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে আন্দোলিত করেছেন নগরীর লাখ লাখ মানুষকে। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। আমূল পরিবর্তন করায় দেশব্যাপী অনুকরণীয় জনপ্রতিনিধিতে পরিণত হয়েছেন। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার মেয়ররা এখন তার ব্যবস্থাপনাকে অনুসরণ করেন। শক্তিশালী টিমওয়ার্ক, নিজের কর্ম এবং সাহসিকতায় দেড়শ’ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ (২০১৮ সালে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পৌরসভা) সিটি কর্পোরেশনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।



  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর