, ১০ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

​​​​স্বাচ্ছন্দ্যের ফরম্যাটে ফিরে স্বস্তির জয়

  স্পোর্টস ডেস্ক

  প্রকাশ : 

​​​​স্বাচ্ছন্দ্যের ফরম্যাটে ফিরে স্বস্তির জয়

স্কোর: বাংলাদেশ ১৫১/৪ (৩১.৫ ওভার) , ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪৯/৯ (৪১ ওভার)

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী। 

বাংলাদেশের নয়ে নয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা নবম ম্যাচে জয় পেল বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলছে এই ফল-ই তার প্রমাণ দেয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সিলেটে এই জয়রথের শুরু। সিলেট ঘুরে ডাবলিন। ডাবলিন থেকে টনটন। টনটন থেকে মিরপুর হয়ে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম থেকে গানায়ার প্রভিডেন্স স্টেডিয়াম। সব ভেন্যুতেই চলছে বাংলাদেশের রাজত্ব। প্রতিটি ম্যাচেই বাংলাদেশ নিজেদের দাপট দেখিয়েছে। শ্রেষ্ঠত্ব বুঝিয়েছে। প্রথম ওয়ানডে জয়ের পর তামিম নিশ্চয়ই সিরিজ জিততে চাইবেন।

​​​​

 

ম্যাচ সেরা মিরাজ

ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেলেন মিরাজ। ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। সাজঘরে ফেরান কাইল মায়ার্স, নিকোলাস পুরান ও রোভম্যান পাওয়েলকে। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুইবার ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন মিরাজ। দুইবারই দেশের মাটিতে। একবার এই পুরস্কার পেয়েছিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সেটাও দেশের মাটিতে। মিরাজ প্রথমবার দেশের বাইরে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেলেন। 

স্বাচ্ছন্দ্যের ফরম্যাটে ফিরে স্বস্তির জয়

অবশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। পছন্দের ও স্বাচ্ছন্দ্যের ফরম্যাট ওয়ানডেতে ফিরে স্বস্তির জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। 

বোলাররা প্রথম ইনিংসেই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। ৪১ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাটিং করে মাত্র ১৪৯ রান জমা করে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ছন্দে বোলিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরেন বোলাররা। শরিফুল ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার। মিরাজ পেয়েছেন ৩ উইকেট। 

ব্যাটসম্যানদের কাজ ছিল উইকেটে টিকে থেকে প্রত্যাশিত জয় তুলে নেওয়া। মাহমুদউল্লাহের চল্লিশ এবং তামিম ও শান্তর তিরিশ পেরুনো ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ সহজেই জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে। 

৫৫ বল আগে ৬ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ৪১ ও সোহান ২০ রানে অপরাজিত থাকেন। তামিম ৩৩ ও শান্ত ৩৭ রান করেন। 

উইকেট বিলিয়ে এলেন আফিফ

চাইলেই ক্রিজে টিকে থাকতে পারতেন। দলকে গন্তব্যে পৌঁছে ফিরতে পারতেন। কিন্তু কাজ অসমাপ্ত রেখেই আফিফ ফিরলেন সাজঘরে। পুরানের শর্ট বল জায়গায় দাঁড়িয়ে পুল করতে চেয়েছিলেন আফিফ। বল টপ এজ হয়ে যায় মিড অনে। পেছনে দৌড়ে অ্যান্ডারসন দারুণ ক্যাচ নেন। আফিফ আউট হন ৯ রানে। 

বোল্ড হয়েও বেঁচে গেলেন মাহমুদউল্লাহ

নিকোলাস পুরানের সোজা বল মিস করে বোল্ড হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে সে কি উল্লাস পুরানের। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ার বল চেক করে দেখেন নো হয়েছে। বোল্ড হয়েও মাহমুদউল্লাহ বেঁচে যান নো বলের কল্যাণে। তখন ৩৮ বলে ২০ রানে ব্যাটিং করছিলেন মাহমুদউল্লাহ। 

পথ ভুলে সাজঘরে শান্ত

উইকেটে থিতু হয়েছিলেন। চারিপাশে দারুণ সব শট খেলে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন। ছোট লক্ষ্য কিন্তু তার থেকে প্রত্যাশা ছিল বিরাট। শান্ত সেই প্রত্যাশার কিছুটাও পূরণ করতে পেরেছেন। গুদাকেশ মোতির বলে মিড উইকেটে পুরানের হাতে ক্যাচ দেন শান্ত। সাজঘরে ফেরার আগে ৪৬ বলে ৩৭ রান করেন ৫ বাউন্ডারিতে। 

রান আউটে শেষ তামিমের প্রতিশ্রুতিশীল ইনিংস

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে অনেক সময়ই চাপ চলে আসে। সেই চাপ এড়িয়ে যাওয়ার একটা উপায়, পাল্টা আক্রমণে যাওয়া। তামিম সেই পথেই এগিয়েছেন। তবে প্রতিশ্রুতিশীল ইনিংস শেষ হয় বাজে এক রান আউটে।

অফ সাইডে বল পাঠিয়ে শান্ত এক রান নিতে চেয়েছিলেন। তামিম সেই ডাকে সাড়া দেন। কিন্তু অ্যান্ডারসন ফিলিপের সরাসরি থ্রো তাকে বাঁচাতে পারেনি। ২৫ বলে ৩৩ রানের কুইক ফায়ার ইনিংস খেলেন তামিম। ইনিংস গড়ার পথে ৪টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। 

প্রতি আক্রমণে তামিম-শান্ত

শুরুতে উইকেট হারালেও বিচলিত হননি তামিম ইকবাল ও তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রতি আক্রমণে দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান রান তুলছেন। বেশ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন দলকে। স্পিনারদের বিপক্ষে বেশ সাবলীলভাবে সুইপ খেলছেন দুজন। তামিম পায়ের ওপরের বল ডিপ ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা উড়িয়েছেন। অফ সাইডে কাভার ড্রাইভ খেলেছেন সাচ্ছন্দ্যে। শান্তও স্পিনারদের বিপক্ষে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সুইপ খেলেছেন।  

শুরুতেই ফিরলেন লিটন 

আকিল হোসেনের শর্ট বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে গিয়েছিলেন লিটন। কিন্তু বল মিস করেন। তার প্যাডে আঘাত করলে এলবিডব্লিউর আবেদন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আম্পায়ার জো উইলসন দীর্ঘক্ষণ সময় নিয়ে আপিলের শেষ দিকে আঙুল তোলেন। লিটন রিভিউ নেন। তাতে ফল পাল্টেনি। তবে আম্পায়ার্স কলে আউট হয়েছেন তিনি। আম্পায়ার নট আউট দিলে তিনি টিকে যেতে পারতেন। সাজঘরে ফেরার পথে নিজের আউট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। 

সুন্দর বোলিংয়ের দিনে দুই ক্যাচ মিসের আক্ষেপ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেজের ব্যাটসম্যানরা দিলেন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। ৯ উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তখন ১১০। মায়ার্স, পুরান, রোভম্যানরা যেখানে মিরাজ, শরিফুল, নাসুমদের আক্রমণে এলোমেলো হয়েছেন সেখানে লেজের দুই ব্যাটসম্যান অ্যান্ডারসন ফিলিপ ও জায়ডেন সিলস কি করবেন!

এমন ভাবনায় যারা ছিলেন তারা পুরোপুরি ভুল। শেষ উইকেটে দুই ব্যাটসম্যান দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রানের জুটি গড়েন। ৪৪ বলে তাদের এই জুটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪৯ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দিয়েছে। অবশ্য এ জুটি বড় হতে বাংলাদেশের ফিল্ডাররাই ভূমিকা রেখেছেন। মোস্তাফিজ ও মাহমুদউল্লাহ দুই ব্যাটসম্যানকে একবার করে জীবন দিয়েছেন।

বাংলাদেশের সুন্দর বোলিংয়ের দিনে এই দুই ক্যাচ মিস আক্ষেপ হয়ে থাকল। ৮ ওভারে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন শরিফুল। মিরাজ ৯ ওভারে ৩৫ রানে পেয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া মোস্তাফিজ ৩৪ রানে ১ উইকেট পেয়েছেন। উইকেট না পেলেও অভিষিক্ত নাসুম ৮ ওভারে ৩ মেডেনে মাত্র ১৬ রান দিয়েছেন। তাসকিন ৮ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

বোলাররা জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন। এবার ব্যাটসম্যানদের পালা দায়িত্ব পালন করার।  

শরিফুলের আবার জোড়া সাফল‌্য

২১তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে এক ওভারে জোড়া সাফল্য পান শরিফুল। ৩৪তম ওভারে একই চিত্র। এবার তার শিকার রোমারিও শেফার্ড ও গুদাকেশ মোতি। বাঁহাতি পেসারকে স্লগ করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দেন শেফার্ড। গুদাকেশ তার বলে পয়েন্টে ক্যাচ দেন। দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে বাঁহাতি পেসারকের পকেটে গেল ৪ উইকেট। 

মিরাজের শেষ শিকার পুরান

নিজের স্পেলের শেষ ওভারে মিরাজ সবচেয়ে বড় উইকেটটাই পেলেন। ডানহাতি স্পিনার ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক নিকোলাস পুরানকে বোল্ড করেন। আর্ম বল ভেতরে ঢুকিয়ে পুরানকে বোল্ড করেন মিরাজ। ৯ ওভারে ২ মেডেনে ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন মিরাজ। এর আগে কাইল মায়ার্স ও রোভম্যান পাওয়েলের উইকেট নেন তিনি। 

বিপজ্জনক রোভম্যানকে টিকতে দিলেন না মিরাজ

আগ্রাসী বোলিংয়ে মিরাজ পেলেন আরেকটি উইকেট। এবার তার শিকার রোভম্যান পাওয়েল। ডানহাতি অফস্পিনারের শর্ট বল পেছনের পায়ে ভর করে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন। ১১ বলে ৯ রান করে রোভম্যান ফিরলেন সাজঘরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারাল পঞ্চম উইকেট। 

শরিফুলের জোড়া আঘাত, চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে ফিরে জোড়া সাফল্য পেলেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। দুই থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন কিং ও শামরাহ ব্রুকসকে পরপর দুই বলে ফিরিয়েছেন এ পেসার। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করলেও পাননি। তার হ্যাটট্রিক বলে ব্যাটিং করছিলেন রোভম্যান পাওয়েল।

এলোমেলো শটে কিং প্রথমে মিড অফে অতিরিক্তি ফিল্ডার এনামুলের হাতে ক্যাচ দেন। পরের বলে ৩৩ রান করা ব্রুকস উইকেটের পেছনে সোহানের তালুবন্দি হন। দ্রুত ২ উইকেট তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপর আরো চাপ বাড়িয়ে দিলেন শরিফুল। 

মিরাজের ঘূর্ণিতে পরাস্ত মায়ার্স

ইনফর্ম কাইল মায়ার্সকে বড় কিছু করতে দিলেন না বোলাররা। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শুরু থেকে ছিলেন প্রবল চাপে। রান নেওয়া যেন ভুলেই গিয়েছিলেন। নাসুমের অফস্পিন খেলতে পারছিলেন না। মিরাজ সেই চাপ অব্যহত রাখেন। তাতে মিলে যায় সাফল্য। তার অ্যাঙ্গেল ডেলিভারী পিচ করে হাল্কা বাক খেয়ে স্টাম্পে আঘাত করে। ২৭ বলে ১০ রান করে ফেরেন মায়ার্স। নতুন ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন কিং। 

পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিং

প্রথম পাওয়ার প্লে’তে (১-৮) দুর্দান্ত বোলিং করেছে বাংলাদেশ। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের রান আটকে রেখেছেন বোলাররা। ৮ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ১ উইকেটে ২৬।

স্পিনার নাসুম ছিলেন ধ্রুপদী। অভিষিক্ত এই স্পিনার আঁটসাঁট বোলিংয়ে রানের চাকা থামিয়ে রেখেছেন। এক ৪ ওভার করে ২ মেডেন দিয়েছেন। রান দিয়েছেন মাত্র ৩। সব মিলিয়ে পাওয়ার প্লে’তে ৩৯ বলই ডট দিয়েছে বাংলাদেশ। বৃত্তের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাউন্ডারি তুলেছে ৫টি। 

ব্রুকসের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ‘প্রতিবাদ’

অভিষিক্ত নাসুম নিজের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট পেয়ে গিয়েছিলেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ব্রুকসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে আটকে দেন বাঁহাতি স্পিনার। অনফিল্ড আম্পায়ারও তার আবেদনে সাড়া দেন। কিন্তু রিভিউ নেন ব্রুকস।

টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় শট খেলার সময় ব্যাট-প্যাডে অাঘাত পায় এবং বল অতিক্রম করার সময় ব্যাট-বলের গ্যাপ ছিল। কিন্তু স্নিকোতে দেখা যায় ব্যাটে বলের হাল্কা স্পর্শ পায়। তাতে অনফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত টেকেনি। বড় স্ক্রিনে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত দেখে অবাক হয় বাংলাদেশ দল। দলীয় অধিনায়ক তামিম দুই আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন। পুরো দল তখন জটলা পাকিয়ে ফেলে।

প্রথম বলেই মোস্তাফিজের উইকেট

নতুন বলে শুরুতেই বাংলাদেশকে সাফল্যে ভাসালেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসার ইনফর্ম ব্যাটসম্যান শাই হোপকে বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন। ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন হোপ। ডানহাতি ব্যাটসম্যান খুলতে পারেননি রানের খাতা। 

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন মোস্তাফিজ। টি-টোয়েন্টি সিরিজ তার ভালো যায়নি। তবে ওয়ানডেতে প্রথম বলেই পেলেন বড় উইকেট। ইনিংসের প্রথম ওভার করেছিলেন অভিষিক্ত নাসুম আহমেদ। বাঁহাতি স্পিনার প্রথম ওভারে দিয়েছিলেন ১ রান। মোস্তাফিজ উইকেট পেলেও ওভারে খরচ করেন ৯ রান। 

৪১ ওভারের ম‌্যাচ, টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

বৃষ্টির কারণে প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ৪১ ওভারে। বৃষ্টিতে গত দুদিন উইকেট কভার দিয়ে ঢাকা ছিল। উইকেট কেমন ব্যবহার করবে তা জানে না কেউই। এজন্য টস ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তামিম ইকবাল টস জিতে প্রথম পরীক্ষায় এগিয়ে গেছেন। টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। 

রিভাইজড কন্ডিশন
•    খেলা শুরু ৯টা ৪৫ মিনিটে
•    খেলা হবে ৪১ ওভারের
•    একজন বোলার ৯ ওভার বোলিং করতে পারবেন
•    ৪ বোলার ৮ ওভার বোলিং করতে পারবেন
•    পাওয়ার প্লে: ১) ১-৮ ওভার, ২) ৯-৩৩ ওভার, ৩) ৩৪-৪১ ওভার

সুযোগ হয়নি এনামুলের, নাসুমের অভিষেক

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বারোশর বেশি রান করা এনামুল হককে বাদ দিয়ে একাদশ সাজানো হয়েছে। নাজমুল হোসেন শান্তকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা লিগের পারফরম্যান্স দিয়ে এনামুল সুযোগ পেয়েছিলেন জাতীয় দলে। কিন্তু টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে ভালো না করায় ওয়ানডেতে তার সুযোগ মেলেনি। এদিকে নাসুম আহমেদের অভিষেক হলো আজ। ২২ টি-টোয়েন্টি খেলার পর নাসুম ওয়ানডেতে সুযোগ পেলেন। 

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, কাজী নুরুল হাসান সোহান, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাসুম আহমেদ। 

খেলা শুরু ৯টা ৪৫ মিনিটে

চতুর্থবার মাঠ পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হয়েছেন আম্পায়াররা। আউটফিল্ড ভেজা থাকায় এর আগে তিনবার মাঠ পরিদর্শন করেন তারা। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে বাংলাদেশ সময় ৯টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে। টস হবে ৯টা ২০ মিনিটে। ৪১ ওভারের ম‌্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। একজন বোলার সর্বোচ্চ ৯ ওভার করতে পারবেন। বাকিরা ৮ ওভার করে।

মাঠ ভেজা, চতুর্থ ইন্সপেকশন ৯টা ১০ মিনিটে

আগের রাতের ও সকালের বৃষ্টিতে গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড এখনো ভেজা। এ কারণে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে যথাসময়ে শুরু হয়নি। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দুই দলের মাঠে নামার কথা ছিল। কিন্তু এখনও টস অনুষ্ঠিত হয়নি।

এরই মধ‌্যে তিন দফা মাঠ ইন্সপেকশন করেছেন আম্পায়াররা। প্রথমে ৭টায়, এরপর ৭টা ৪৫ মিনিটে। পরের ইন্সপেকশন হয় ৮টা ৩০ মিনিটে। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি আম্পায়াররা। চতুর্থ ইন্সপেকশন ৯টা ১০ মিনিটে।  

মাঠ ভেজা, টস হতে বিলম্ব

বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে প্রথম ওয়ানডেতে গায়ানায় মাঠে নামার কথা বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। টস হওয়ার কথা ৩০ মিনিট আগে। কিন্তু প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড ভেজা থাকায় টস হতে বিলম্ব হচ্ছে। ৭টায় আউটফিল্ড ঘুরে দেখেছেন আম্পায়াররা। এরপর টস পিছিয়ে দেন।

আগের রাতের টানা বৃষ্টিতে মাঠ এখনো ভেজা। গায়ানায় বৃষ্টি নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। গতকাল দিনেও বৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টিতে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন পণ্ডও হয়। মাঠ খেলার মতো উপযোগী হলেই আম্পায়াররা টসের সময় নির্ধারণ করবেন। 

বাংলাদেশ ৮: ০ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ বেশ প্রতাপশালী। নিজেদের দিনে তারা যে কাউকেই হারিয়ে দিতে পারে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়রথ তো চলছেই। শেষ ৮ ওয়ানডের একটিও জিততে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। ১০টির ভেতরে জয় মাত্র ১টি। এই সিরিজে বাংলাদেশ ফেবারিট।

প্রথম জয়ের খোঁজে বাংলাদেশ

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির পর ওয়ানডে সিরিজ খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সফরে কোনো ফরম্যাটেই এখনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেট বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সবচেয়ে পছন্দের ও স্বাচ্ছন্দ্যের ফরম্যাট। এই ফরম্যাটে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারে বাংলাদেশ। তাইতো সফরের শেষটা ভালো করতে মুখিয়ে অতিথিরা। গায়ানায় প্রথম জয়ের খোঁজে মাঠে নামবে তামিম অ্যান্ড কোং।

  • সর্বশেষ - খেলাধুলা