, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন-সরকার পরিবর্তন: কাদের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন-সরকার পরিবর্তন: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তিত হবে। এর বাইরে সরকার পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

বুধবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। ‘সহিংস রক্তপাতের মধ্য দিয়ে অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিবৃতি দেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিবের বিবৃতিটি বিএনপির প্রতিদিনের চিরাচরিত ভাষায় দেওয়া মিথ্যাচারে ভরপুর অপরাজনীতির অংশ ছাড়া কিছুই নয়। যশোর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে যে বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, তা সত্যের অপলাপ।

বিচারাধীন কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা আইনসিদ্ধ নয় মন্তব্য করে কাদের বলেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয় কোনো হত্যাকারীর অপরাধকে আড়াল করতে পারে না। হত্যাকারী বা অপরাধী যেই হোক, তার বিচার হবেই।

‘শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের শাস্তি ভোগ- সেটাই প্রমাণ করে। বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সরকারদলীয় পদে থেকেও অনেকেই আজ সাজাভোগ করছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে সরকার পতনের হুমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এর কোনো ব্যত্যয় ঘটাতে চাইলে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

‘আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবে আইনের শাসনের প্রতি পরিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধাশীল। বিধান অনুযায়ী নির্বাচন ছাড়া আওয়ামী লীগ কখনো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে সাংবিধানিক পন্থায় স্বেচ্ছায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র নজির সৃষ্টি করেছেন শেখ হাসিনা।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বৈরাচার জিয়ার উত্তরাধিকার খালেদা জিয়াও অনুরূপভাবে ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে অগণিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ হত্যা-ক্যু, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল।

‘বিএনপি তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একুশে আগস্টের মতো ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল।’

‘শেখ হাসিনাই এদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন ও স্বাভাবিক ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকাজ সম্পন্ন করেছেন।’

‘পক্ষান্তরে বিএনপি স্বাধীন বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায়ন ও পুরস্কৃত করেছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার করেনি। এমনকি বিচারের দাবিও করেনি।’

  • সর্বশেষ - রাজনীতি