ময়মনসিংহ, , ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

জামিন ও নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালেন প্রধান বিচারপতি

  অনলাইন ডেস্ক

  প্রকাশ : 

জামিন ও নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালেন প্রধান বিচারপতি
ফাইল ছবি

করোনা ভাইরাস জনিত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আদালতে ছুটি থাকায় জামিন ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং স্থিতিবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

ইতিপূর্বে দেওয়া জামিন ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং স্থিতিবস্থার মেয়াদ আদালত খোলার পর দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নির্দেশক্রমে শনিবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এর ফলে যেসব জামিন ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্ধিত হয়ে গেল। অর্থাৎ আদেশের কার্যকারিতা আদালত খোলার পর দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলমান থাকবে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. আবু বকর সিদ্দিকীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে করোনা ভাইরাস জনিত উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে করোনা ভাইরাস জনিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার বিষয়টি উঠে আসে বলে জানান হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান।

প্রসঙ্গত ফৌজদারি মামলায় আত্মসমর্পণ করে উচ্চ আদালত থেকে বিভিন্ন মেয়াদে আগাম জামিন নিয়েছিলেন বিচারপ্রার্থী জনগণ। জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও আদালত বন্ধ থাকায় যথাসময়ে অধস্তন আদালতে হাজির হয়ে নিয়মিত জামিনের আবেদন করতে পারছিলেন না। এমতাবস্থায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্তরা হয়রানির শিকার হওয়ার আশংকা প্রকাশ করছিলেন। পাশাপাশি দেওয়ানি মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতিবস্থার আদেশের মেয়াদও শেষ হওয়ায় তা বর্ধিতকরনের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারছিলেন না বিচারপ্রার্থীরা। এমতাবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন বিচারপ্রার্থী জনগণের এই উদ্বেগের বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করেন। তখন প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।

সেই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক জারিকৃত এক আদেশে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী করানোভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সংকটময় সময় বিবেচনা করে ইতিমধ্যে যেসব ফৌজদারি মামলায় আসামিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় উচ্চ আদালত হতে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব দেওয়ানি মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা/স্থিতাবস্থার আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেসব মামলার আদেশের কার্যকারিতা আদালত খোলার তারিখ থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে মর্মে গণ্য হবে।

এছাড়া সব বিশেষ আইনের আওতাধীন মামলার আদেশ/রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টসহ সব আপিল আদালত খোলার তারিখে আপিল দায়ের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি না থাকলেও আপিল দায়ের করা যাবে। তবে আপিল শুনানির আগে সত্যায়িত অনুলিপি অবশ্যই দাখিল করতে হবে। উল্লেখ্য দেশের প্রত্যেকটি জেলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জরুরি মামলার জন্য এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট কর্মরত আছেন।

  • সর্বশেষ - করোনা আপডেট