, ২১ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

রঘুনাথপুর গ্রামে ভোরেই বসে মাছের হাট, বিক্রি হয় নিলামে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

রঘুনাথপুর গ্রামে ভোরেই বসে মাছের হাট, বিক্রি হয় নিলামে

তুরাগ ও গোয়ালিয়া নদীবেষ্টিত গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রাম। প্রতিদিন ভোরে এই গ্রামে বসে দেশি মাছের হাট। দেড় থেকে দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয় এ হাট। সব মাছ বিক্রি হয় নিলামে।

গ্রামটির জেলেপল্লীতে এখনো বহু মানুষের বসবাস। তাদের অধিকাংশই জীবিকা নির্বাহ করেন মাছ বিক্রি করে। বর্ষা মৌসুমে সারা রাত মাছ ধরেন। ভোর হলেই সেসব মাছ হাটে বিক্রি করেন তারা। বছরের কয়েক মাস পানি কম থাকে। ফলে, মাছও ধরা হয় না। তখন জাল বুনে ও পুরাতন জাল ঠিক করে সময় কাটান তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কেউ ডিঙি নৌকার ওপর, কেউবা নদীর ধারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। চাপিলা, পুঁটি, ট্যাংরা, চিংড়ি, চান্দা, টাকি, বাইম, রুই, কাতল, কালিবাউশ, মলাসহ হরেক রকমের দেশীয় মাছ। বিক্রেতারা এসব মাছ নিলামে তুলছেন। যে ক্রেতা বেশি দাম বলছেন, তার ভাগ্যে জুটছে মাছ। পরিমাণ ও প্রজাতি ভেদে ৪০০ থেকে কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হয় মাছ। এখানে মাছ কিনতে আশপাশের ১৫-২০টি গ্রামের ক্রেতারা ভিড় করেন।

উপজেলার তেলিরচালা এলকার নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে এখান থেকে মাছ কিনি। এখানে টাটকা দেশি মাছ পাওয়া যায়। ভালো পানির মাছ। দামও সহনীয়।’

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে ভোরেই বসে মাছের হাট

ভান্নারা এলাকার আরিফ হোসেন বলেন, ‘শিল্পকারখানার ময়লা পানির কারণে তুরাগ নদীর কিছু অংশের মাছ খাওয়া যায় না, গন্ধ লাগে। কিন্তু এখানকার মাছগুলো সুস্বাদু। ১ হাজার টাকায় যে চাপিলা মাছ এখানে পেয়েছি, বাজারে থেকে ওই মাছ কিনতে ২ হাজার টাকা লাগত।’

পরিমল নামের এক জেলে বলেন, ‘সারা রাত মাছ ধরে ভোরে এখানে এনে বিক্রি করি। গাজীপুরের মধ্যে একমাত্র এখানেই সবচেয়ে বেশি এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এখানে মাছ কিনে ঠকার সুযোগ নেই। সবাই দাম-দর করে পছন্দের মাছ কিনে থাকেন। পুরো বর্ষা মৌসুমেই চলে এ মাছের হাট।’

ইজারাদার ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বহু পুরনো এই মাছের বাজার। এখানে আশপাশের ৫-৬টি গ্রামের জেলেরা মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এখানে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয়।

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর