, ২১ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে সফল দুই ভাই

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে সফল দুই ভাই

মো. সমুজ আলী ও সনজব আলী দুই ভাই। তারা মিলে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলের ভুলকোট গ্রামে প্রায় ১০০ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছেন। শিমের ফলন ভালো হয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, দুই ভাই মিলে শিম ক্ষেতে কঠোর পরিশ্রম করছেন। শুধু তারা নয়, অন্যন্য কৃষকরাও এ জাতের শিম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।

সমুজ  ও সনজব জানান, গাছ থেকে শিম সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যান। পাইকারের কাছে প্রতিকেজি শিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করেন। গ্রীষ্মকালীন সিকৃবি-১ জাতের শিম বীজ মার্চ মাসে রোপণ করেন। এই মৌসুমে তাদের প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। 

জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে গাছে গাছে শিম দেখা যায়। সেই শিম বিক্রি করে প্রায় ৪০ হাজার টাকা এসেছে। অক্টোবর পর্যন্ত শিম উৎপাদন অব্যাহত থাকার কথা। ওই সময় পর্যন্ত আরও ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা শিম বিক্রি থেকে আসবে বলে তারা আশা করছেন তারা।

দুই ভাই আরও জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীমের সার্বিক পরামর্শে শিম চাষ করা হচ্ছে। এতে তারা সফল হয়েছেন। শুধু শিম নয় কুমড়া ও বেগুন চাষ করেছেন। ওই দুই সবজি বিক্রি করেও অর্থ আসছে। তাদের শিম চাষ দেখে এলাকার অন্য কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ দেখা দিয়েছে। তারাও গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ শুরু করছেন।

স্থানীয় কৃষক মো. সাদেক মিয়া বলেন, গ্রীষ্মকালীন সিকৃবি-১ জাতের শিম চাষ শুরু করেন সুমজ ও সনজব। শিম চাষে তারা সফলতা পেয়েছেন। পাইকাররা এ শিম প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে কিনে নিয়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। তাই এ মৌসুমে আমিও ৩০ শতক জমি আবাদ করে এ জাতের শিম চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। আমি শিম বিক্রি করতে পারছি। অক্টোবর মাস পর্যন্ত শিম বিক্রি চলবে।

উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম জানান, উপজেলার নানা এলাকায় শীতকালে বিভিন্ন জাতের শিম চাষ হলেও গ্রীষ্মকালের জন্য উপযুক্ত হচ্ছে সিকৃবি-১ জাতের শিম। এই শিম গ্রীষ্ম ও বর্ষার আবহাওয়া সহিষ্ণু। মূলত এই শিম চাষে উপজেলার ভুলকোট গ্রামে সফলতা পেয়েছেন দুই ভাই সমুজ আলী ও সনজব আলী। তাদের দেখাদেখি কৃষক দুলাল মিয়া ও সাদেক মিয়াসহ আরো অনেক কৃষক শিম চাষে সফল হচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, এখানকার উঁচু জমিতে কৃষকরা ধানসহ নানারকম সবজির আবাদ করেন। বর্তমানে আমার পরামর্শে একাধিক কৃষক সিকৃবি-১ জাতের শিমের আবাদ করেছেন। ভালো চাষের জন্য সবসময় পরামর্শ দিয়ে থাকি। ক্ষেতে ভালো ফলন হয়েছে। তারা দামও পাচ্ছেন ভালো। 
 
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ মো. আশেক পারভেজ বলেন, বাহুবলে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ হতো না। বর্তমানে সেখানে শিম চাষ করছেন কিছু কৃষক। ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা দামও পাচ্ছেন ভালো। ভবিষ্যতে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।

  • সর্বশেষ - অন্যান্য