, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারের লজ্জা বাংলাদেশের

  স্পোর্টস ডেস্ক

  প্রকাশ : 

জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারের লজ্জা বাংলাদেশের

এর আগে কখনো জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশের মাটিতে। নিজেদের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার সেই স্বাদ পেলো স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১০ রানে জিতে জিম্বাবুয়ে। 

জিম্বাবুয়ে: ১৫৬/৮ (২০ ওভার)।

বাংলাদেশ: ১৪৬/৮ (২০ ওভার)

শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৯

১ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৯ রান। ক্রিজে আছেন আফিফ ও হাসান। আফিফ ৩৩ ও হাসান ৩ রানে ব্যাট করছেন। 

মাহমুদউল্লাহর পর শূন্য রানে আউট মোসাদ্দেক

পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ইভানসের বলে জায়গা থেকে সরে অফ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। বল কানায় লেগে যায় উইকেটের পেছনে। ২৭ বলে ২৭ করে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। পরের বলে এসেই পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মোসাদ্দেক। শূন্য রানে ফেরেন তিনি। ২ রানে ২ উইকেট নেন ইভানস। ক্রিজে আফিফের সঙ্গী মেহেদী। এ জুটি এখন শেষ ভরসা। ১৫.১ ওভারে বাংলাদেশের ১০০ হয়। জয়ের জন্য ১৮ বলে ৩৭ রান প্রয়োজন। 

১৩ বলে ১৪ রানে বোল্ড বিজয়, বিপদে বাংলাদেশ

বিজয় এবারও ব্যর্থ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোল্ড হলেন ১৩ বলে ১৪ রান করে। ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ। মাধেভেরের নিচু হয়ে যাওয়া বলে পুল করতে চেয়েছিলেন বিজয়। কিন্তু বল ব্যাটের কানায় লেগে স্ট্যাম্পে আঘাত করে। এর আগের দুই ম্যাচেও ফিরেছেন সেট হয়ে। প্রথম ম্যাচে ২৭ বলে ২৬ রান করেন, যা রানরেটের সঙ্গে ছিল বেমানান। দ্বিতীয় ম্যাচে আউট হন ১৫ বলে ১৬ করে। ক্রিজে এখন শান্তর সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৪৫ রান। 

অভিষেক রাঙাতে পারলেন না পারভেজ, ফিরলেন ২ রানে 

অভিষেক ম্যাচে ২ রানের বেশি করতে পারলেন পারভেজ হোসেন ইমন। টাইমিংয়ে গড়বড় করে নাইউচির বলে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন অভিষিক্ত পারভেজ হোসেন ইমন। ৬ বলে ২ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ। ক্রিজে নতুন ২ ব্যাটসম্যান বিজয়-শান্ত। 

দ্বিতীয় ওভারে লিটনের বিদায়

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাজঘরে লিটন দাস।  ইনিংসের প্রথম বলে ডাবল নিয়ে রানের খাতা খোলেন। তৃতীয় বলে ডিপ পয়েন্টে দারুণ চার। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে আবার চার। এভাবে দারুণ শুরুর পরও লিটনকে থেমে যেতে হলো শুরুতেই, নাইউচিকে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। ৬ বলে ১৩ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। 

সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৫৭

২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান করে জিম্বাবুয়ে। ১৩ ওভার পর্যন্ত বাংলেদেশি বোলারদের আক্রমণে চাপে ছিল জিম্বাবুয়ে। ১৩ ওভার শেষে দলটির সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ৬৭। সেখান থেকে এক লাফে ১৮ ওভারে ১৪৬! ৩১ বলে ৭৯ রান যোগ করে এই রান করেন বার্ল-জংওয়ে। তারমধ্যে নাসুমের ১ ওভারেই বার্ল নেন ৩৪ রান! ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন বার্ল। শেষ দুই ওভারে লাগাম টেনে ধরেন হাসান-মোস্তাফিজ। ১৯তম ওভারে বার্ল-জংওয়েকে ফেরান হাসান। শেষ ওভারের শেষ বলে উইকেট পেতে পারতেন মোস্তাফিজ, আফিফ ক্যাচ মিস না করলে। উলটো তিন রান নেয় জিম্বাবুয়ে। ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়ে পায় লড়াকু পুঁজি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন মেহেদী হাসান। নাসুম ২ ওভারে ৪০ রান দেন! 

৩১ বলে ৭৯ রানের জুটি ভাঙলেন হাসান

বার্লের তাণ্ডবের সঙ্গে যেন জ্বলে ওঠেন জংওয়ে। ৪ চার ও ২ ছয়ে ২০ বলে ৩৫রান করে ফেরেন সাজঘরে। এটি জংওয়ের টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। হাসানের বলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন মোসাদ্দেকের হাতে। তাতে ভেঙে যায় ৩১ বলে ৭৯ রানের জুটি। একই ওভারের শেষ বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বার্লও। তার ব্যাট থেকে আসে ২৭ বলে ৫৪ রান। ১৯তম ওভারে ৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন হাসান। 

মেহেদীকে ছক্কা মেরে ২৪ বলে বার্লের ফিফটি  

নাসুমের এক ওভারে ঝড়ের পর ফিফটি পেয়ে গেলেন বার্ল। প্রথম ১৪ বলে করেন ৯, পরের ১০ বলে ৪২! তাতেই ২৪ বলে ফিফটি পেয়ে যান বার্ল। ৬৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়ে এখন চালকের আসনে। বার্লের সঙ্গে থাকা জংওয়েও মারছেন হাত খুলে। মাত্র ২৮ বলে । 
দুজনে ৭৬ রান যোগ করেন।  

৫ ছক্কা ১ চারে নাসুমের ওভারে বার্লের ৩৪

নাসুম আহমেদের এক ওভারে ৫টি ছয় ও ১টি চারে ৩৪ রান নেন রায়ান বার্ল। তাতেই ৭৬ থেকে এক লাফে একশ পার করে ফেলে জিম্বাবুয়ে। প্রথম বলে লং অনে স্লগ সুইপে ছয় হাঁকিয়ে ঝড়ের আভাস দেন। পরের তিন বলে আবারও তিন ছয়। পঞ্চম বলে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে মারলেন, এক ড্রপে চার। শেষ বলে আবার ছয়! গুণে গুণে ৩৪ রান যোগ করলেন মাত্র ৬ বলে। তাতেই জিম্বাবুয়ে চলে যায় চালকের আসনে। ১৪ বলে ৯ থেকে বার্লের রান হয় ২০ বলে ৪৩! 

প্রথম উইকেটের দেখা পেলেন মোস্তাফিজ

ইনিংসের প্রথম বলেই চার হজম করেছিলেন। প্রথম ওভারে দেন ৮ রান। এরপর মোস্তাফিজ বোলিংয়ে আসেন ১৩তম ওভারে। শেষ বলে ফেরান মিল্টন শুম্বাকে। আউটসাইড অফের বল খোঁচা দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। ১১ বলে ৪ রান করেন তিনি।

বোলিংয়ে এসেই প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহর উইকেট 

প্রথম বলেই উইকেটের দেখা পেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাতে অবদান আছে উইকেটরক্ষক এনামুলের। দারুণ স্ট্যাম্পিংয়ে আরভিনকে ফেরান। একপাশে উইকেটের মিছিল হলেও আরেক পাশ আগলে রেখেছিলেন আরভিন। কিন্তু তাকে থামিয়ে দিলেন ২ ম্যাচ পর একাদশে ফেরা মাহমুদউল্লাহ। ২৭ বলে ২৪ রান করেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। 

প্রথম ওভারে খরুচে, দ্বিতীয় ওভারেই মোসাদ্দেকের উইকেট 

নিজের প্রথম ওভারে ২ ছক্কা হজম করে ১৫ রান দেন। পাওয়ার প্লেতে আর বোলিংয়ে আসেননি। দলীয় নবম ওভারে এসেই উইলিয়ামসকে ফেরান মোসাদ্দেক। এই ওভারে মাত্র ৫ রান দেন মোসাদ্দেক। ব্যক্তিগত ২ রানে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শান্তর হাতে ধরা পড়েন মিডউইকেটে।   

মেহেদীর জোড়া শিকার মাধেভেরে-রাজা

নাসুমের পর মেহেদীর আক্রমণ। ওয়েসলে মাধভেরেকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান মাত্র ৫ রান। এর রেশ না কাটতেই ক্রিজে এসেই ফেরেন সিকান্দার রাজা।   আগের দুই ম্যাচেই ফিফটি করে বাংলাদেশকে ভুগিয়েছিলেন রাজা। এবার তাকে সেই সুযোগ দেননি মেহেদী। প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরান এই অলরাউন্ডারকে। তার ঘূর্ণিতে পাওয়ার প্লে শেষে দুর্দান্ত বাংলাদেশ। প্রথম ৩ ওভারে ২৯ রান করা জিম্বাবুয়ে পরের ৩ ওভারে করেন মাত্র ১৬ রান, ৩ উইকেট হারিয়ে। পাওয়ার প্লেতে তারা ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান করে।

বোলিংয়ে এসেই প্রথম বলে নাসুমের উইকেট 

ইনিংসের প্রথম বলেই মোস্তাফিজকে চার মেরে রানের খাতা খোলেন আরভিন। বার্তা দেন দারুণ শুরুর। তিন ওভারে তারা যোগ করেন ২৯ রান। চতুর্থ ওভারে এসেই প্রথম বলে উইকেটের দেখা পান নাসুম আহমেদ। আউটসাইড অফের বল মারতে গিয়ে ধরা পড়েন কাভারে। দারুণ ক্যাচ ধরেন আফিফ হোসেন। ১০ বলে ১৭ রান করেন চাকাভা।

২ ম্যাচ পরেই একাদশে মাহমুদউল্লাহ, পারভেজের অভিষেক

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মঙ্গলবার (২ আগস্ট)  স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি বাংলাদেশ। টস হেরে ফিল্ডিং করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ নেমেছে তিন পরিবর্তন নিয়ে। একাদশে এসেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অভিষেক হচ্ছে পারভেজ হোসেন ইমনের। এ ছাড়া শরিফুল ইসলামের পরিবর্তে খেলবেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে ২ পেসার নিয়ে। 

বাংলাদেশ একাদশ 

লিটন দাস, এনামুল হক বিজয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, পারভেজ হোসেন ইমন, মোসাদ্দেক হোসেন (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান।

অভিষেক পারভেজের

পাকিস্তানের বিপক্ষে দলে ডাক পেলেও একদাশে সুযোগ পাননি। অবশেষে সেই সুযোগ এলো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে। মুনিম শাহরিয়ারের পরিবর্তে তিনি খেলবেন আজ। বাংলাদেশের ৭৬তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হলো ইমনের। 

বাদ পড়া মাহমুদউল্লাহ ফিরলেন ২ ম্যাচ পরেই

জিম্বাবুয়ে সফরের আগে দেশের ক্রিকেটের আলোচ্য বিষয় ছিল মাহমুদউল্লাহর অধিনায়কত্ব। জল্পনাকে সত্যি করে নেতৃত্ব হারিয়েছেন, সঙ্গে জায়গাও। আবার নতুন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের ইনজুরি তাকে ডাকা হয় দলে এবং ২ ম্যাচ না যেতেই সুযোগ পেলেন একাদশেও। তবে দলে ফিরলেও নেতৃত্বের দায়িত্ব পাননি অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। 

বাংলাদেশের নবম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মোসাদ্দেক 

জিম্বাবুয়ে সফরের আগে সোহান নেতৃত্ব পাওয়ার পর কয়েকদিন সময় পেয়েছিলেন। কিন্তু মোসাদ্দেক তো তাও পাচ্ছেন না। একদিনেরও কম সময়ের নোটিশে তিনি হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নবম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে অবশ্য অভিজ্ঞতা আছে বেশ। সবশেষ বিসিএলে জিতিয়েছিলেন ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনকে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভিন্ন চ্যালেঞ্জ, মোসাদ্দেককে সেটি সামলে নিতে হবে। 

অলিখিত ফাইনাল

সিরিজে দুই ম্যাচ শেষে সমতা ১-১ এ। এই ম্যাচটি তাই দুই দলের জন্যই ফাইনাল। বাংলাদেশের বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড সোমবার বলছেন এমনটাই। তিনি বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে পারফরম্যান্স খারাপ করার কারণে কখনোই দোষ দেইনি বা ধরি না। গুরুত্বপূর্ণ হলো ওই অবস্থা থেকেই কীভাবে আপনি ফিরে আসেন? যেটা আমরা গত ম্যাচে করে দেখিয়েছি। তো আগামীকাল ফাইনাল, আমাদের আবারও সেরাটা দিতে হবে।' 

'আমরা যেভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট করেছি এবং সঠিকভাবে প্রমাণ করেছি যে গত ম্যাচটি পরিশ্রম দিয়ে আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তো শেষ ম্যাচটি ফাইনাল, প্রথম ম্যাচে যে পিচে হয়েছে সেখানেই হবে। আমরা এই ম্যাচের অপেক্ষায় আছি'- আরও যোগ করেন ডোনাল্ড। 

দাপুটে জয়ে সমতা 

দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজে সমতা এনেছে  বাংলাদেশ। ৮১ রানে তিন উইকেট পতনের পর আর উইকেট পড়তে দেননি আফিফ-শান্ত। দুজনে ৪৮ বলে ৫৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। আফিফ ৩০ ও শান্ত ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। প্রথম ম্যাচ ১৭ রানে হারলেও এই ম্যাচ দাপট দেখিয়ে জিতেছে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক হোসেনের ফাইফারে ১৩৫ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। রাজা সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন। রান তাড়া করতে নেমে ১৫ বল হাতে রেখে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন লিটন। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা হওয়াতে শেষ ম্যাচটি রূপ নিলো অলিখিত ফাইনালে। ২ আগস্ট বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এটি।

  • সর্বশেষ - খেলাধুলা