, ২১ মাঘ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

মধ্যরাতে থানার সামনে কিশোর গ্যাংয়ের দু’গ্রুপের তাণ্ডব

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

মধ্যরাতে থানার সামনে কিশোর গ্যাংয়ের দু’গ্রুপের তাণ্ডব

আধিপত্য বিস্তার ও চুরি করা টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার সামনে তাণ্ডব চালিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপ। এ সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় অংশ নেওয়া ওই দুই গ্রুপের নেতৃত্ব দেন কথিত ছাত্রলীগ নেতা রাসেদ খান মেনন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী এনামুল হক অনিক। রাসেদ ৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. সেলিম মিয়া ও অনিক গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী নুর মোহাম্মদ মামুনের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, মাস খানেক আগে কাঁঠালদিয়া বস্তির উচ্ছেদকৃত জায়গায় স্টিল কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন ভবনের বিপুল পরিমাণ লোহার রড চুরি হয়। ওই লোহা বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই রাসেদ খান মেনন ও অনিক গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এছাড়াও মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মিত্তিবাড়ি এলাকায় দুই গ্রুপের কিশোরদের মধ্যে মারামারি হয়। পরে উভয় গ্রুপ থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা ফটকের সামনে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করায় স্থানীয় সংবাদকর্মী আরিফ চৌধুরীর ওপর হামলা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা সাংবাদিক আরিফের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে আরিফ চৌধুরী বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সাংবাদিক আরিফ চৌধুরী বলেন, রাত ১১টার দিকে মিত্তিবাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ শেষে টঙ্গী পশ্চিম থানার সামনে আসলে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে থানায় অভিযোগ দিতে আসা দুই গ্রুপের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করার সময় আশরাফুল ইসলাম বাবু নামে একজন আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে ২০-৩০ জন কিশোর আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে কিল-ঘুষি মেরে আমার সঙ্গে থাকা দুইটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও এশিয়ান টেলিভিশনের আইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় থানা পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই গ্রুপকে লাঠিচার্জ করে নিবৃত করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এছাড়াও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় আরেকটি অভিযোগ হয়েছে। তদন্তের পর এ ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এদিকে ৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. সেলিম মিয়া ও গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী নুর মোহাম্মদ মামুন জানান, হামলাকারীরা তাদের কোনো অনুসারী বা পরিচিত নয়। এসব ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো লোক জড়িত নেই। কেউ অপরাধ করলে আইন মোতাবেক তার শাস্তি হবে।

  • সর্বশেষ - অন্যান্য