, ১০ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

ফখরুল হাসানের তিনটি কবিতা

  সাহিত্য ডেস্ক

  প্রকাশ : 

ফখরুল হাসানের তিনটি কবিতা

মাতালের খিস্তিখেউড়

সুসজ্জিত ফুলের দোকানটি ক্রমাগত
বিক্রি করতে করতে দোকানটাই এখন
ফুলহীন; ঘ্রাণহীন, গৌরব-ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্ত
নব্য কর্মচারী, সুসংগঠিত লুটেরা বাহিনী
নাসার টেলিস্কোপের চেয়েও শক্তিশালী
চেটেপুটে খেয়ে শূন্য করছে দোকান
দোকানটি প্রায় জনশূন্য, কর্মচারীদের
কেউ কেউ মাতালের মতো খিস্তিখেউড় করে
তাদের হাস্যকর যুক্তি বড় অদ্ভুত ও রহস্যময়
প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে আছে বাজপাখি রূপী শিকারী
অতীতে দোকানকে ঘিরে নানা রঙের ফড়িং
ওড়াউড়ি করতো, কুপিবাতির আলোতে
ফড়িংগুলোকে অদ্ভুত সুন্দর লাগতো!
সেখানে এখন শোভা পায় কৃত্রিম ফুল
পরিবেশ দূষণকারী প্লাস্টিকের ফড়িং।

****

লোকচক্ষুর আড়ালে

রাজপথের অগ্নিমশাল ও স্লোগান পক্ষপাতী হলে
অপরাধ তখন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যায়।
সুবিধাবাদীদের সে সময় মিছিলের অগ্রভাগ থেকে
তাড়িয়ে দিতে হয়। গোপনে যে অন্যায়কে সমর্থন
করে, লোকচক্ষুর অন্তরালে এরা মূলত
মানবতার শত্রু, হেপাটাইটিস ভাইরাস কিংবা
ক্যান্সার থেকেও ভয়ংকর।
অন্যায়ের আশ্রয় নিয়ে যখন অনিয়মকে
নিজস্বার্থে আইনে পরিণত করে।
তখন প্রতিবাদীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত
নতুন ধারার পরিবর্তন সাধন করা।
কেবল বোকারাই ভাবে অদৃশ্য শক্তি এসে
সমাজের নোংরা আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে দেবে।

****

অন্ধকার শহর

মেঘের আড়ালে হারিয়েছে পূর্ণিমার চাঁদ
বয়োবৃদ্ধ সূর্যও ঢুকে গেছে গোধূলির পেটে!
সাথে জোনাক পোকারা কাঁচের বয়ামে বন্দী।

আজ আঁধারের থাবায় স্থির নাগরিক পথ
ল্যাম্পপোস্টগুলো গিলে খায় রাতের শহর;
থামিয়ে দেয় উড়ে চলা মুক্ত পাখির কলরব।

নীরবে ক্যান্সার আক্রান্ত হয় মানবসভ্যতা
বিষাক্ত বাতাসে দোল খায় নিশ্চুপ জনতা
ঠিক তখনই ধানক্ষেতের আল ধরে লণ্ঠন হাতে
স্বল্পায়ু সুস্থ বৃক্ষেরা পলায়ন করে শহর থেকে।

এ শহর মানবশূন্য হতে হতে আজ একা
চারদিক হুইসেলে বেজে ওঠে মৃত্যুর ধ্বনি
কে রাখবে কার খবর, অন্ধ যেখানে সবই।

  • সর্বশেষ - সাহিত্য