, ১১ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে, উসকে দেবে মূল্যস্ফীতিকে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে, উসকে দেবে মূল্যস্ফীতিকে

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে বলেও মনে করছে সিপিডি। 

একই সঙ্গে ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগটি যথাযথ হয়নি বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

আজ (শনিবার) সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সাম্প্রতিক বছরগুলোর হিসাবে সর্বোচ্চ। সেটা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে বলে আশঙ্কা করা যায়। মূলত ডিজেলের ব্যবহারে যে খাতগুলোতে বেশি ব্যয় হয়, যেমন পরিবহন, কৃষিখাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে, সেক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ভোক্তার ওপর পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি প্রতিক্রিয়া হিসাবে আসবে।

পরিবহন ভাড়ার ওপর এর প্রতিক্রিয়া সাথে সাথেই পড়তে যাচ্ছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, পরিবহন মালিকরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, এর প্রতিক্রিয়া সরাসরি ভোক্তার ওপর পড়বে। আমার মনে হয় এর প্রতিক্রিয়া সাথে সাথেই পড়তে যাচ্ছে। কৃষিখাতে শুষ্ক মৌসুমে ডিজেলের মাধ্যমে সেচের ব্যবহারের ওপরও প্রতিক্রিয়া পড়বে। ফলে শাকসবজিসহ কৃষিপণ্যে মূল্য বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া পড়বে।  

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ফাইল ছবি। 

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ক্যাপটিভ পাওয়ার অর্থাৎ ডিজেল ব্যবহার বন্ধের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। হয়তো এখনই তার প্রতিক্রিয়া থাকবে না। কিন্তু ব্যক্তি পর্যায়ে ডিজেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য কিছু ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি প্রতিক্রিয়া থাকবে। সুতরাং সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে মনে হয়। দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

তিনি বলেন, দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঋণের আলোচনার শর্ত হিসেবে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমাদের কাছে মনে হয়েছে ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগটি যথাযথ হয়নি। বরং বিপিসির উদ্বৃত্ত যে অর্থ হয়েছিল সরকার তা না নিয়ে ভর্তুকিকাজে ব্যবহার করতে পারত। এর ফলে জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি না করলেও চলত। বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসে, সেক্ষেত্রেও সরকারের উচিত ছিল ক্যাপাসিটি চার্জের যে জায়গায় ভর্তুকি দিতে হয়, সেখান থেকে সরে আসার কৌশল খোঁজা। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।

রাত ১২টার পর জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রোলের দাম ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা এবং অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।

এতদিন কেরোসিন ও ডিজেল প্রতি লিটার ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা প্রতি লিটার আর পেট্রোল ৮৬ টাকা প্রতি লিটারে বিক্রি হচ্ছিল। নতুন দাম বৃদ্ধিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২.৫ শতাংশ, পেট্রোলের ৫১.১৬ শতাংশ ও অকটেনের দাম বেড়েছে ৫১.৬৮ শতাংশ বেড়েছে।

  • সর্বশেষ - অর্থ-বাণিজ্য