, ১১ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

‘কারখানা একদিন বন্ধের সিদ্ধান্ত শিল্পখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

‘কারখানা একদিন বন্ধের সিদ্ধান্ত শিল্পখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে’

সরকার আগামী সেপ্টেম্বর থেকে লোডশেডিং অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে। এজন্য লোডশেডিং সমন্বয়ে এলাকাভেদে সপ্তাহে একেক দিন একেক এলাকায় শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে ভিন্ন ভিন্ন মত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএর মতো সংগঠনগুলো সপ্তাহে একদিন পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্তে কোনো সমস্যা না দেখলেও ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ শঙ্কিত। তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত শিল্পখাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আকিজ ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ আলমগীর জাগো নিউজকে বলেন, শিল্প কারখানা একদিন বন্ধ থাকলে আমরা খুবই সমস্যার মধ্যে পড়ে যাবো। এমনিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের ঊর্ধ্বমুখিতা এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শিল্পের অবস্থা ভঙ্গুর হয়েছে।

তিনি বলেন, কারখানা যদি একদিন বন্ধ রাখা হয় তবে শ্রমিকের বেতন এবং অন্যান্য খরচ কমানো সম্ভব হবে না। কিন্তু সার্বিক উৎপাদন কমে যাবে। সে ক্ষেত্রে কারখানা মালিকরা লোকসানের মধ্যে পড়বে।

এ বিপণন ব্যক্তিত্ব বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ভয়াবহ পরিস্থিতি কাটাতে এ দেশের সরকার অনেক ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সরকারও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরুপায়, তবে এই সিদ্ধান্ত শিল্পখাতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সপ্তাহে একদিন কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে তৈরি পোষাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন ওয়েল ড্রেসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে একদিন কারখানা বন্ধ থাকলে যে ক্ষতি হবে, তা পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। আমার গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান একদিন বন্ধ থাকলে আমি দিনে ১০ লাখ টাকার ওপরে লস করবো। আর্থিক লস বাদেও পারিপার্শ্বিক ক্ষতি আরও বেশি। গার্মেন্টস সেক্টরে একেকটি সেকেন্ডের মূল্য রয়েছে। পুরো পোষাক শিল্প লিড টাইমের ওপর নির্ভর করে। একদিন কারখানা বন্ধ থাকলে শিপমেন্টের দিকে পিছিয়ে যাবে। দৈনন্দিন ক্ষতি বাদেও বিলম্ব শিপমেন্টের কারণে বায়ারদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ডিসকাউন্ট বহন করতে হবে। এতে বায়াররা নিরুৎসাহিত হবেন। এজন্য ভবিষ্যতে তৈরি পোষাকের অর্ডারও কমে যেতে পারে।

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাক শিল্পে বছরে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বহির্বিশ্বে প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকার পরও আরএমজি (তৈরি পোশাক শিল্প) সেক্টরে রেশনিংয়ের কারণে অর্ডার বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে। এতে গার্মেন্টস সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সপ্তাহে একদিন শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তাতে থেকে সরে আসা উচিত।

অবশ্য ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, সপ্তাহে এমনিতেই একদিন শিল্পকারখানা বন্ধ থাকে। তার মানে এখন সাপ্তাহিক ছুটি আছে। এর আগেও এটা ছিল। সাধারণ ছুটি শুক্রবার। এতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। এখন এটা জোনভিত্তিক করবে। এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। এটা হয়তো জোনওয়াইজ বা এলাকাভিত্তিক করবে। হয়তো শুক্রবার সব খাতে ছিল। এখন হয়তো কোথাও মঙ্গলবার বা কোথাও শুক্রবার হবে। এতে কোনো সমস্যা হবে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রোববার (৭ আগস্ট) বিদ্যুৎ ভবনে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সভায় বসেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সভা শেষে তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে লোডশেডিং অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এজন্য লোডশেডিং সমন্বয়ে এলাকাভেদে সপ্তাহে একেক দিন একেক এলাকায় শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এলাকাভেদে ছুটি যেদিনই হোক, সেটি হবে সপ্তাহে একদিন।

  • সর্বশেষ - অর্থ-বাণিজ্য