, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

গণতন্ত্র মঞ্চকে সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিএনপির নজরুল

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

গণতন্ত্র মঞ্চকে সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিএনপির নজরুল

গণতন্ত্র মঞ্চের আত্মপ্রকাশকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান। জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সমন্বয়ের গঠিত ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’এর আত্মপ্রকাশের বিষয়ে শুক্রবার জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চের আত্মপ্রকাশকে আমরা স্বাগত জানাই। তারা যেসব দাবি উল্লেখ করেছেন, এই দাবিগুলো আমরাও দীর্ঘদিন যাবৎ করে আসছি যে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বাতিল করতে হবে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে- এই সবগুলো কথা তাদের দাবিতে আছে আমরা দেখলাম।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাতটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে গঠিত ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’র আত্মপ্রকাশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব।

এদিকে যুবদলের সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য বলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় আপনারা আন্দোলন করছেন তাতে এই সরকারকে হটানো বা দাবি আদায় সম্ভব না।

তারা আরও কঠোর কর্মসূচি তথা হরতাল-অবরোধের কথা বলেন।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আপনারা জানেন যে, ২০১৪-১৫ সালের দিকে কী আন্দোলন হয়েছে। প্রয়াত সাংবাদিক এবিএম মুসা বলেছিলেন যে, এটা এখন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নয়, এটা গণপ্রজাতন্ত্রী ঢাকা সরকার। কারণ গোটা বাংলাদেশের ওপর এই্ সরকারের আর কোনো প্রভাব নাই। তারপরও অনেক মন্ত্রী আছেন তারা বলেন, আমরা নাকি আন্দোলন করতে পারি না। এখন তারা আন্দোলন বলতে যা বুঝেন এগুলো যদি সবাই বুঝতে চান তাহলে আমরা বিপদের মধ্যে আছি।

তিনি বলেন, আন্দোলন মানে হচ্ছে জনগণের সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ-প্রতিরোধ। সেটা হরতালের মাধ্যমে হতে পারে, আরো বিভিন্ন মাধ্যমে হতে পারে এবং মনে রাখতে হবে যে, আমরা স্লোগান দিতে পারি না তা নয় কিন্তু যখন-তখন দেব কেন? আমরা হরতাল করি না বা করতে পারি না তা নয় কিন্তু যখন তখন করব কেন? আমরা অবরোধ এর আগে করি নাই বা করতে পারি না তা নয় কিন্তু যখন তখন করবো কেন? যখন করার সিদ্ধান্ত হবে আপনারা জানতে পারবেন। ইনশাল্লাহ, আমরা মনে করি, জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ-বেদনা, যে বিক্ষোভ কাজ করছে এবং সরকারের অযোগ্যতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় যে ব্যর্থতা-অক্ষমতা এর বিরুদ্ধে যে মত সংগঠিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেভাবে সংগঠিত হচ্ছে তাদের নিয়ে আগামী দিনে যখনই আমরা কোনো কর্মসূচি দেব তাতে জনগণ সম্পৃক্ত হবে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বিএনপির বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আপনারা সাংবাদিক মানুষ আপনারা ভালো জানেন এটা। এই ব্যাপারগুলো আলোচনার মাধ্যমে হয় এবং আগে থেকে বোঝা গেলে পরে এটা ব্যর্থ করে দেওয়ার লোক আছে। সেজন্য আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি এবং খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন। যেসব কথা শুনছেন এগুলোর কোনো অর্থ নাই। মানুষ যখন ভয় পায়, অন্ধকারের মধ্যে রাত্রে হাঁটতে গেলে জোরে জোরে গান গায়। এটা এই কারণে যে, তারা ভয় পাচ্ছে। ওদের কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। বড় বিপদে আছে তারা।

শুক্রবার সকাল ১১টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আশুরা উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মিলাদপূর্ব আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন, শামীমুর রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক আবদুল বারী ড্যানি, উলামা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা মাহমুদুল হাসান শামীম বক্তব্য রাখেন।

উলামা দলের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের রফিক হাওলাদার, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, শ্রমিক দলের সুমন ভুঁইয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ - রাজনীতি