, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

খেজুর বাগানে সফল মোশারফ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

খেজুর বাগানে সফল মোশারফ

গ্রামে থেকেই বড় হয়েছেন মোশারফ হোসেন। পারিবারিক ভাবে চাষাবাদ করতেন আম। আমে লাভের চেয়ে লোকশানই হাচ্ছিল বেশি। তাই ইউটিউবে ভিডিও দেখে খেজুর চাষের সিন্ধান্ত নেন তিনি। আর এরই অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মির্জাপুরে ১০ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন খেজুরের বাগান।

এ কাজের শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না মোশারফের জন্য। তিন বছর আগে জমি লিজ নিয়ে ময়ময়নসিংহের ভালুকা থেকে প্রথমবারের মতো খেজুরের চারা এনে রোপণ করেন তিনি। ওই সময়ে প্রায় দুই বিঘা জমিতে তেরোশ খেজুর গাছ লাগান। এখন তার বাগানে আছে ৫ হাজার গাছ। তার স্বপ্ন এখন বাস্তব হয়েছে। 

মোশারফের এই বাগানের প্রতিটি গাছের থোকায় থোকায় এখন ঝুলছে আজওয়া, মরিয়ম, দাবাস, বারহী, চেগি ও নেপতাসহ অন্তত দশ জাতের সুস্বাদু মরুর খেজুর।

মোশারফের প্রতিবেশী মোহাম্মদ বিসু আলী বলেন, ‘মোশারফ খেজুরের বাগান করবে শুনে আমরা গ্রামের সবাই এনিয়ে অনেক কথা বলেছি। তাকে নিয়ে হাসি তামাশাও করেছি। কিন্তু  গ্রামের লোকজন মোশারফকে নিয়ে এখন গর্ব করে। তার খেজুরের বাগান দেখে স্থানীয় তরুণরা খেজুর চাষে আগ্রহী হতে শুরু করেছে।’

তরিকুল ইসলাম নামে অপর এক প্রতিবেশী বলেন, ‘মোশারফের খেজুর বাগান করার শুরুর দিকটা মোটেও ভালো ছিল না। গ্রামের সবাই তাকে নিয়ে উপহাস করেছে। দুই বছর পর গাছে সৌদির খেজুর দেখে সবাই অবাক হয়েছে। এই জমিতে কিভাবে খেজুরের চাষ হয় তা আমাদের ভাবনাতেও আসেনি। তার বাগানের খেজুর খেয়েছি সৌদি আরবের খেজুরের মতোই স্বাদ।’

কৃষি উদ্যোক্তা মোশারফ বলেন, ‘আম পচনশীল ফল। গাছ থেকে আম পাড়লেই বেঁচতে হবে। কিন্তু খেজুর ফল পচনশীল নয়। গাছ থেকে পাড়ার পর দীর্ঘদিন শুকিয়ে রাখা যায় ফলে তা সহজে পচে না। এ ভাবনা থেকে খেজুর চাষে আগ্রহ জেগেছিল। শুরুর দিকে নিজের পরিবারের লোকজন কেউই সমর্থন করেনি। নিজেদের জায়গা জমি থাকার পরেও অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করতে হয়। স্বপ্নকে বাস্তব করতে কাজ করেছি। ইউটিউব দেখে ও প্রবাসে থাকা বন্ধুদের সহযোগিতা নিয়ে খেজুর চাষ করতে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখনও খেজুর বিক্রি শুরু করিনি। যে যার মতো আসছে, ইচ্ছে মতো খেজুর খাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখতে ভালোই লাগছে। মরুর খেজুর শিবগঞ্জে আবাদ হচ্ছে দেখে অনেকেই অবাকও হচ্ছেন। আপাতত গাছের চারা বিক্রি করছি। শুধুমাত্র খেজুর ও গাছের চারা নয় আগামীতে খেজুর গাছের পাতা থেকে বাণিজ্যিক ভাবে শীতল পাটি বানানোর ইচ্ছে আছে। যার ফলে অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’

খেজুর বাগানের পাহারাদার দাউদ আলী বলেন, ‘বাগানটি এখন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেকেই বাগান পরিদর্শন করছেন। সবাই গাছ থেকে পেড়ে খেয়ে দেখছেন সৌদি খেজুর।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রাজিবুর রহমান বলেন, ‘দেশের মাটিতে সৌদি খেজুর চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ইউটিউব দেখে অনেকেই এই ফল চাষাবাদ শুরু করেছেন। ইউটিউবে এমন অনেক তথ্য থাকে, যা দেখে চাষ করে বিপদে পড়েন নতুন চাষিরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সৌদির খেজুর চাষ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে তিন বছরের মধ্যে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।’

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর