ময়মনসিংহ, , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

ধর্মের কথা শোনাতে গিয়ে মারা গেলেন যে যাজক

  অনলাইন ডেস্ক

  প্রকাশ : 

ধর্মের কথা শোনাতে গিয়ে মারা গেলেন যে যাজক
ছবি সংগৃহীত

আমেরিকার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অর্লিন্সে শহরের ধর্মযাজক ল্যানডন স্প্রাডলিন বলেছিলেন কোভিড-১৯ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে। হাসিখুশি মেজাজের এই ধর্মযাজক খ্রিস্টান ধর্মীয় উত্সব মার্ডি গ্রাস উদযাপন উপলক্ষে গির্জায় গিয়েছিলেন। এর এক মাস পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। খবর বিবিসির

প্রায় এক মাসের কিছু আগে ৬৬ বছর বয়সী যাজক ল্যান্ডন স্প্রাডলিন স্ত্রী জিনকে নিয়ে ভার্জিনিয়ায় তাদের বাসা থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে লুইজিয়ানায় গিয়েছিলেন খ্রিস্টান পার্বনে ধর্মোপদেশ দিতে।

আমেরিকায় করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছিল এক মাসেরও বেশি আগে। কিন্তু মার্ডি গ্রাস উত্সব পরিকল্পনা অনুযায়ীই হয়েছিল। ধারণা করা হয় এই উত্সব থেকেই যাজক ল্যান্ডন স্প্রাডলিন আক্রান্ত হয়েছিলেন। যাজক অসুস্থ হলেও তার শরীরে কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল এসেছিল নেগেটিভ। অসুস্থ হবার পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে তার মন্তব্য ছিল- ভাইরাস নিয়ে লোকে ‘উন্মাদ’ আচরণ করছে। ১৩ মার্চ তিনি ফেসবুকে সোয়াইন ফ্লু’র সঙ্গে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর তুলনা টানা বিভ্রান্তিমূলক বলে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। ঐ পোস্টে এমন কথা বলা হয়েছিল যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। ঐ একই দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথাই বলেছিলেন।

ল্যান্ডনের ছেলে আইজ্যাক বলেন, তিনি ও তার বাবা বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা করেছিলেন এবং তারা একমত হয়েছিলেন যে এই উন্মাদনা অযৌক্তিক এবং এ বছরে যেহেতু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে তাই হয়তো এই ভাইরাস নিয়ে ভীতি ছড়ানোর এবং সেটা রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর একটা চেষ্টা চলছে। তবে আমার বাবা কিন্তু এটাকে ভুয়া তথ্য বলে মনে করেননি, তিনি বিশ্বাস করেছিলেন এই ভাইরাসের খবর সঠিক। কিন্তু মিডিয়া যেভাবে এটা নিয়ে যেভাবে ভয় ছড়াচ্ছে তাতে হতাশ হয়ে তিনি ঐ পোস্ট দিয়েছিলেন।

আইজ্যাক জানান, ‘মার্চের মাঝামাঝি ল্যান্ডনের শরীরের অবস্থা হঠাত্ করে খুব খারাপের দিকে যায়। তারা গাড়িতে দ্রুত নিউ অর্লিন্সে থেকে ভার্জিনিয়া ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পথে নর্থ ক্যারোলিনাতে তিনি জ্ঞান হারান। বুঝতে পারছিলাম, শ্বাস নিতে তার কষ্ট হচ্ছে। আমি বলেছিলাম, যেভাবেই হোক তোমাকে বাসায় পৌঁছাতে হবে। কিন্তু বাবা আর ফিরতে পারেননি।’ যাজককে নর্থ ক্যারোলিনার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তার দুই ফুসফুসেই নিউমোনিয়া ধরা পড়ে এবং তার করোনা ভাইরাসের টেস্ট পজিটিভ আসে। আট দিন নিবিড় পরিচর্যায় থাকার পর তিনি মারা যান।

  • সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক