, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

চাকরি ছাড়ছেন ডোমিঙ্গো? কিছুই জানে না বিসিবি

  স্পোর্টস ডেস্ক

  প্রকাশ : 

চাকরি ছাড়ছেন ডোমিঙ্গো? কিছুই জানে না বিসিবি

গত সোমবার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে রাসেল ডোমিঙ্গো। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি আর জাতীয় দলের কোচ হিসেবে থাকছেন না বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

পরদিনই নিজ দেশে ফিরে গেছেন ডোমিঙ্গো। যাওয়ার আগে বিসিবি সভাপতির সামনেই করা সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছিলেন এ প্রোটিয়া হেড কোচ। কিন্তু দুইদিন না পেরোতেই এলো নতুন খবর, জানা গেলো আর বাংলাদেশে ফিরবেন না ডোমিঙ্গো।

দেশের শীর্ষস্থানীয় এক দৈনিকে টাইগারদের হেড কোচ ডোমিঙ্গো জানিয়েছেন, বিসিবিতে তার সময় ফুরিয়ে গেছে। আর চাকরি না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিসিবিতে আমার সময় শেষ। আর থাকছি না। হ্যাঁ! সত্যিই (বিসিবি ছেড়ে যাচ্ছি)।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিসিবির শীর্ষস্থানীয় পরিচালক ও জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার কারণেই মূলত চাকরি ছাড়ার কথা ভেবে থাকতে পারেন ডোমিঙ্গো। সাম্প্রতিক সময়ে ডোমিঙ্গোর ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে খোলাখুলিই চাঁছাছোলা মন্তব্য করেছেন সুজন।

তবে ডোমিঙ্গোর এমন সিদ্ধান্তে ব্যাপারে কিছুই জানে না বিসিবি। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি ছাড়ার ব্যাপারে বোর্ডে কিছুই জানাননি ডোমিঙ্গো। আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। তাই বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, ডোমিঙ্গোই টাইগারদের হেড কোচ।

এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিতের জন্য বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনকে বারবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে, রাসেল ডোমিঙ্গো কি আর বাংলাদেশের কোচ থাকছেন না? জাগো নিউজকে প্রতিবারই সুজন বলেছেন, 'না! সে আমাদেরকে কিছুই জানায়নি। এখন পর্যন্ত ডোমিঙ্গো আমাদের হেড কোচ।'

অবশ্য ডোমিঙ্গো চাইলেই যে এক কথায় চাকরি ছেড়ে দিতে পারবেন- তাও নয়। কেননা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিসিবির এই চাকরি ছাড়ার জন্য অন্তত তিন মাস আগে চিঠি দিতে হবে ডোমিঙ্গোকে। তবে দুই পক্ষে রাজি থাকলে যেকোনো সময় চুক্তি বাতিল করা যাবে।

তাই বিসিবির চাওয়া কি সেটিও এখানে বড় বিষয়। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে যা দেখা যাচ্ছে, এখনই বিসিবির সামনে হেড কোচকে বিদায় করে দেওয়া সহজ হবে না। কেননা আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে ডোমিঙ্গোকে কোচ ধরেই। এছাড়া ডোমিঙ্গো এখন চলে গেলে নতুন কোচ পাওয়াও বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হবে বোর্ডের জন্য।

বিসিবির সামনে তবু অন্যরকম পথ খোলা রয়েছে। বর্তমানে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে রয়েছেন জেমি সিডন্স। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্ব পালন করতে এসেছে স্টুয়ার্ট ল। তারা দুজনই আগে বাংলাদেশ দলের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাদের দুজনের মধ্যে একজনকে আবার দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবতেও পারে বোর্ড। তবে এক্ষেত্রেও আছে অন্যরকম সমস্যা। এরই মধ্যে সিডন্সকে গেম ডেভেলপমেন্টের অধীনে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে বোর্ড। আর স্টুয়ার্ট ল'কেও বয়সভিত্তিক সাফল্যের দিকেই মন দিতে বলা হয়েছে।

তাই সবমিলিয়ে ডোমিঙ্গোকে ধরে রাখাই হবে বিসিবির জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ। কিন্তু জানা গেছে, এরই মধ্যে নিজ দেশে স্থানীয় কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন ডোমিঙ্গো। সেক্ষেত্রে চাইলেও হয়তো তাকে আর ধরে রাখতে পারবে না বিসিবি। তখন নতুন কাউকেই খুঁজতে হবে জাতীয় দলের জন্য।

  • সর্বশেষ - খেলাধুলা