, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

‘আমি চা-শ্রমিকের মেয়ে, বাগান থেকে আমার উঠে আসা’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

‘আমি চা-শ্রমিকের মেয়ে, বাগান থেকে আমার উঠে আসা’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রাবণী গুপ্তা বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বেতন-ভাতা বাড়লেও বাড়েনি শুধু চা-শ্রমিকদের মজুরি। আমি নিজে একজন চা শ্রমিকের মেয়ে। চা বাগান থেকে আমার উঠে আসা, আমি তাদের কষ্ট সম্পর্কে জানি।’

সারাদেশে চা-শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শনিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে জালালাবাদ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।

এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘চা-শ্রমিকরা সব ক্ষেত্রেই অবহেলিত। বর্তমানে ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে কী হয়? কীভাবে কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসতে হয়েছে তা শুধু আমি ও আমার পরিবার জানে। চা-শ্রমিকদের একমুঠো ভাত জোগাড় করতে হিমসিম খেতে হয়। তাদের নিজস্ব জমির অধিকারটুকুও নেই। মালিকপক্ষ তাদের দাবি মানতে রাজি নয়। চা-শ্রমিকদের মতো অসহায় কেউ নেই। আমরা তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে দাঁড়িয়েছি।’

‘আমি চা-শ্রমিকের মেয়ে, বাগান থেকে আমার উঠে আসা’

এসময় ‘বৈষম্য নিপাত যাক ৩০০ টাকা মজুরি পাক’, ‘চা শ্রমিকদের ৭ দফা দাবি মানতে হবে’, ‘রুটি রুজির দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’, ‘চা শ্রমিকদের পেটে যদি না থাকে ভাত, দেশের অর্থনীতি হবে কুপোকাত’, ‘বাঁচাতে হলে দেশের অর্থনীতি বাড়াতে হবে চা-শ্রমিকদের মজুরি’ এমন স্লোগান সম্বলিত পোস্টার প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিবাদ জানান।

সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ এম কামিল আহমেদের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি মহিবুল হাসান রনি, ‘৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে চা-বাগানের মালিকপক্ষের সঙ্গে ১২ দফায় বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো সুফল আসেনি। বাধ্য হয়ে আন্দোলন করছেন চা-শ্রমিকরা।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, শ্রমিকদের দাবি বেশি নয়। ৩০০ টাকা মজুরি চান তারা। চা-বাগানের মালিকদের খবর নিয়ে দেখেন তারা একেকজন শত কোটি টাকার মালিক। এ শত কোটি টাকা এসেছে শ্রমিকদের শ্রম-ঘামে।

  • সর্বশেষ - শিক্ষাঙ্গন