, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

মাধ্যমিকে ২ বছরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ৪ লক্ষাধিক, ৬২.৬৩ শতাংশই মেয়ে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

মাধ্যমিকে ২ বছরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ৪ লক্ষাধিক, ৬২.৬৩ শতাংশই মেয়ে

# ঝরে পড়া শিক্ষাথীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর হার ৬২ দশমিক ৬৩ শতাংশ
# কমেছে বেশি কারিগরিতে, যশোর বোর্ডেও এ সংখ্যা বেশি

এ বছরও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৯২৩ জন। বাকিরা অনিয়মিত ও ফল উন্নয়নপ্রত্যাশী। সারাদেশে ২৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করলেও সেখান থেকে ঝরে গেছে চার লাখের বেশি। ঝরে পড়াদের মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীই বেশি। এ হার ৬২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বলে জানা গেছে।

বিষয়টির ব্যাখ্যা করে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, গত বছর তিনটি বিষয়ে এসএসসি পরীক্ষা হওয়ায় অনিয়মিত শিক্ষার্থী অনেক কমে গেছে। সে কারণে গত বছরের চেয়ে সোয়া দুই লাখ শিক্ষার্থী কম মনে হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেনি।

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২২ সুষ্ঠু, প্রশ্নফাঁসের গুজবমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন করতে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে বা কমে গেছে, আমাদের পরিসংখ্যান তা বলছে না। আমাদের পরিসংখ্যানে ছেলেদের তুলনায় এ বছর মেয়ে শিক্ষার্থী বেশি। প্রতি বছর মানোন্নয়নের জন্য অনেকে পরীক্ষা দেয়। কিন্তু গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে, শুধু আবশ্যিক বিষয়ে। সে কারণে পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী নেই বললেই চলে।

তিনি বলেন, গত বছর যদি পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা হতো তাহলে যারা অকৃতকার্য হতো তারা এবারও পরীক্ষায় অংশ নিতো। সে কারণে এবার পরীক্ষার্থী কম মনে হচ্ছে। আসলে নিয়মিত পরীক্ষার্থী কমেনি। এছাড়া প্রতিবছর এমনও হয়, কেউ কেউ রেজিস্ট্রেশন করেও পরীক্ষা দেয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে তা হয়নি। সবাই পাস করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর যে ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন পরীক্ষার্থী এএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে তাদের মধ্যে অনিয়মিত ১ লাখ ২৫ হাজার ১১৮ জন, বিভিন্ন বিষয়ে গত বছর অনুত্তীর্ণ ২৬ হাজার ৮৬৯ জন আর ফল উন্নয়ন পরীক্ষার্থী ২ হাজার ৮২৭ জন। নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৯২৩ জন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যে, ২০২১ সালের তুলনায় এবার (২০২২) পরীক্ষার্থী কমেছে ২ লাখ ২১ হাজার ৩৮৬ জন। এ বছর করোনার ভয়ানক ডামাডোল ছিল। ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে অক্টোবরে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপরও আগের বছরের (২০২০) তুলনায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন পরীক্ষার্থী বেশি ছিল।

বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, কারিগরি বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে এ বছর সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। মোট ২ লাখ ১১ হাজার ৫১৪ জন রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষা দিচ্ছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৯ জন। ছিটকে পড়েছে ৬৯ হাজার ৮৬৫ জন, যা ৩৩ শতাংশ। এ তালিকায় এরপরেই রয়েছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। যেখানে দাখিলে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৮ জন রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৯৬ জন। বাদ যাচ্ছে ৭৯ হাজার ৮৯২ জন। যার শতকরা হার ২৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত বছর এ বোর্ডে ২১ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে মাদরাসা বোর্ডে আর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যশোর বোর্ড। এ বছর যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯৭ জন পরীক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯০ জন। পরীক্ষা দিচ্ছে না ৩৩ হাজার ৪০৭ জন বা ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। ঝরেপড়ার হারে সাধারণ বোর্ডের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুমিল্লা বোর্ড। ওই বোর্ডে ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এছাড়া ঢাকায় ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ, বরিশালে ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ, সিলেটে ১৪ শতাংশ, দিনাজপুরে ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ঝড়ে পড়েছে ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী।

  • সর্বশেষ - শিক্ষাঙ্গন