, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

পাবনায় লাম্পি স্কিন রোগে মরছে গরু, আতঙ্কে খামারিরা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

পাবনায় লাম্পি স্কিন রোগে মরছে গরু, আতঙ্কে খামারিরা

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় গরুর ‘লাম্পি স্কিন’ রোগের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। গত দুসপ্তাহে এ রোগে পাঁচটি গরু মারা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ও চাহিদা মতো ভ্যাকসিন না পাওয়ায় খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তারা জানান, রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় গ্রাম পর্যায়ে তারা সাধ্যমত খামারিদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৬৬টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৩৫টি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত।

সাঁথিয়া উপজেলার গৌরি গ্রামের কৃষক সেলিম রেজা বলেন, ‘গ্রামের প্রায় সবার গরুই এ রোগে আক্রান্ত। এতে গরু নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। পশু হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময় মতো না পেয়ে বাধ্য হয়ে পল্লী চিকিৎসকদের কাছে যাওয়া লাগছে।’

সাঁথিয়া পৌরসভার কালাইড়ার গ্রামের বাহেজের ছেলে আছান বলেন, ‘আমার গরু এ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্কে ছিলাম, কখন যেন গরুটি মারা যায়। এজন্য ৯০ হাজার টাকায় কেনা গরু কসাইদের কাছে মাত্র ১৫ হাজার টাকায় বেচে দিয়েছি।’

একই গ্রামের খামারি শের আলী বলেন, ‘আমার ৯টি গরুর মধ্যে চারটি এ রোগে আক্রান্ত। প্রতিদিন গরুর চিকিৎসা করাতে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।’

jagonews24

চরমাছখালী গ্রামের অটোরিকশাচালক জিয়ারুল বলে, ‘খুব কষ্ট করে একটি বকনা বাছুর কিনছিলাম । চার মাস হলো গরুটির পেটে বাচ্চা এসেছিল। কিন্তু নতুন রোগে আমার লাখ টাকা দামের গরুটি মারা গেলো।’

সাঁথিয়া পৌরসভার গোপীনাথপুর গ্রামের জিতেন হলদার বলেন, ‘আমার দুটি গরু। সপ্তাহ খানেক আগে লাখ টাকার ষাঁড় গরুটি এ রোগে মারা যায়। ভয়ে অন্য গরুটিও বেচে দিয়েছি।’

একই গ্রামের চাঁদ আলীর একটি গরু আট দিন আগে লাম্পি স্কিন রোগে মারা যায়। এছাড়া সাঁথিয়া ফকিরপাড়া মহল্লার মোজাহার আলী বিশ্বাসের একটি ষাঁড় গরু গত সপ্তাহে একই রোগে মারা যায়।

এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) শাহজাহান কবির  বলেন, ‘এ এলাকায় রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় মাঠ পর্যায়ে সাধ্যমত খামারিদের গরুর চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।’

বাঘা বাড়ি মিল্কভিটার উপ-ব্যবস্থাপক ডাক্তার (ডিভিএম) শরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এটা ভাইরাসজনিত রোগ। এজন্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় গরু ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও গরু মারাও যাচ্ছে। এ রোগ দ্রুত ছড়ানোয় দুগ্ধ শিল্প হুমকির মুখে পড়বে।

সাঁথিয়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফারুক মিয়া বলেন, কার্যালয় থেকে খামারিদের পরামর্শ ও আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ রোগে খামারিরা সাধারণত আগে হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যান। পরে গবাদি পশুর অবস্থা খারাপ হলে আমাদের শরণাপন্ন হয়।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাসজনিত এ রোগের জন্য নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তাই বিকল্প ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ