ময়মনসিংহ, , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

করোনা পরীক্ষার অনুমোদনহীন টেস্ট কিট নিয়ে উদ্বেগ

  অনলাইন ডেস্ক

  প্রকাশ : 

করোনা পরীক্ষার অনুমোদনহীন টেস্ট কিট নিয়ে উদ্বেগ
ছবি: প্রতীকী

করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য চীন থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমদানি করা র‌্যাপিড টেস্ট কিট নিয়ে একধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় এসব র‌্যাপিড টেস্ট কিট বিতরণও করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘করোনা ভাইরাস শনাক্ত’ করার জন্য এসব কিট ব্যবহার করা হয়।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এসব র্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহারের কিছু বিপদ রয়েছে। এগুলোর মান সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে না পারলে পরীক্ষার ফলাফল ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। সেজন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দ্বারা এগুলোর মান নির্ণয় করা জরুরি। কিন্তু এসব র‌্যাপিড কিট আমদানির ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসব কিটের ক্ষেত্রে স্পেসিফিকেশন (রোগ নির্ণয়) প্রায় শতভাগ হওয়া প্রয়োজন। দেখা গেল, কারো দেহে হয়তো করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব নেই, কিন্তু র‌্যাপিড টেস্টের মাধ্যমে ভুল হলে তাকে হয়তো পজিটিভ দেখানো হতে পারে। আবার যার দেহে করোনা ভাইরাস আছে, তার ক্ষেত্রে যদি ফলস নেগেটিভ হয়, তাহলে তো সে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াবে এবং অন্যদের সংক্রমিত করবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এসব র‌্যাপিড টেস্ট কিট কীভাবে বাংলাদেশে আসছে সেটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইসলাম। তিনি বলেন, সাধারণত যেসব করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরির সুবিধা নেই, সেসব এলাকায় র‌্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করা যেতে পারে। র‌্যাপিড টেস্ট কিটের ক্ষেত্রে মাণ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি।

এসব কিট আমদানি করছে কারা?

চীন থেকে র‌্যাপিড টেস্ট কিট আমদানির ক্ষেত্রে যার নাম সবার আগে আসছে, তিনি হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বিবিসিকে বলেন, এ পর্যন্ত তিনি ৫০ হাজার কিট আমদানি করেছেন। এছাড়া চীনে আরো ১ লাখ কিট প্রস্তুত আছে। চাইলে সেগুলোও তিনি আনতে পারেন বলে দাবি করেন, ‘বাংলাদেশে যেসব কিট আনছি, সেগুলো আমি বিভিন্ন হাসপাতালে দিয়েছি। এছাড়া আমার স্টকে কিছু আছে।’ র‌্যাপিড টেস্ট কিট আমদানি করতে তিনি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেননি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এগুলো বিপদের মোকাবিলার জন্য এনে রাখছি। আমদানির অনুমোদন নিতে সব মিলিয়ে ১৮০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। এখন বিশ্ব জুড়ে মহামারি অবস্থা। এতদিন সময় লাগলে মানুষ বাঁচব?’

তিনি বলেন, ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী এসব কিট ব্যবহার করা হবে। তিনি র‌্যাপিড টেস্ট কিট ছাড়াও পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) আমদানি করেছেন।

তিনি র‌্যাপিড টেস্ট কিট আমদানি করে অন্যান্য জেলায়ও দিয়েছেন। পাবনার বেড়া উপজেলায় এ ধরনের টেস্ট কিট দিয়েছেন তিনি। পাবনার বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেন বিবিসিকে বলেন, তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বেড়া উপজেলার জন্য ২০০ র‌্যাপিড টেস্ট কিট দিয়েছেন।

এই র‌্যাপিড টেস্ট কিটের বিপদ সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি তো বিশেষজ্ঞ নই। এটা আমার জানা নাই। ডাক্তারদের বলেছি এগুলো বুঝেশুনে ব্যবহার করতে। দরকার হলে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলতে।’ একই ধরনের টেস্ট কিট গিয়েছে নাটোরের সিংড়া উপজেলায়। এখানেও ২০০ কিট দেওয়া হয়েছে।

নাটোরের সিভিল সার্জন কাজী মিজানুর রহমান বিবিসিকে বলেন, এসব কিট দিয়ে যাতে পরীক্ষা না করা হয়, সেজন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে যদি সন্দেহজনক নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তাহলে আমরা সেগুলো রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়ে দিই। সেখানে পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলেন, র‌্যাপিড টেস্ট কিট বাংলাদেশে এখনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। কেউ যদি সেটি আমদানি করে, তাহলে নিয়মবহির্ভূতভাবে করেছে।

  • সর্বশেষ - করোনা আপডেট